ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল শেষে সমাবেশে Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

জীবননগরে চাকরি দেওয়ার নামে সাথে প্রতারণা অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি উধাও

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১
  • / ১১০০ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধিঃ

জীবননগরে স্টার গোল্ড ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড স্টার গোল্ড এগ্রো ফার্ম লিমিটেড নামের একটি ভুয়া বহুজাতিক কোম্পানি অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুয়া কর্মকর্তারা জীবননগরের শতাধিক বেকার যুবকের নিকট থেকে কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার নামে মোটা অংকের জামানত নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। এ ঘটনায় জীবননগর উপজেলাব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাকরি প্রত্যাশী যুবকরা তাঁদের জামানতের টাকা ফেরত পেতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এবং জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা শহরের আঁশতলাপাড়ার ইকতিয়ার উদ্দিনের বহুতল বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় জীবননগর উপজেলা জোনাল অফিসের নামে গত বছরের ১ অক্টোবর ভাড়া নেয় প্রতারক চক্রটি।

এরপর ওই বাড়িতে স্টার গোল্ড ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড স্টার গোল্ড এগ্রো ফার্ম লিমিটেড নামের একটি বিশাল সাইনবোর্ড লাগায় তারা। পরবর্তীতে ভুয়া ওই কোম্পানির কর্মকর্তারা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবকদের টার্গেট করে কোম্পানিতে মোটা অংকের বেতনের প্রলোভন দেখায়।

একপর্যায়ে বেকার যুবকরা চাকরির করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে ভুয়া ওই কোম্পানির কর্মকর্তারা তাদের নিকট হতে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত নেয়। এভাবে তারা শতাধিক বেকার যুবকের নিকট থেকে অর্ধকোটি টাকা সংগ্রহ করে। পরে জামানতের টাকা দেওয়া যুবকদের হাতে ভুয়া নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হলেও তাঁদেরকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি এবং কোনো বেতনও দেয়া হয়নি।

একপর্যায়ে বেতন পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে ভুয়া ওই কোম্পানির কর্মকর্তারা অফিসে আসা বন্ধ করে দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। এরপর কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে অসহায় যুবকেরা গত রোববার বিকেলে ওই অফিসটিতে তালা লাগিয়ে দেন এবং বেতনসহ জামানতের টাকা ফেরত পেতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জীবননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের সুজন হোসেন জানান, ‘সূর্যের হাসি চিহ্নিত ক্লিনিকে কর্মরত মো. মোস্তাক আহম্মদের কাছ থেকে জানতে পারি স্টার গোল্ড ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিতে লোক নিয়োগ করা হবে।

তারপর আমি ওই অফিসে যোগাযোগ করার পর মোস্তাক আহম্মদের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে ২০ হাজার টাকা বেতনে শাখা ব্যবস্থাপকের চাকরি নিই। কিন্তু আজ অবধি আমাকে কোনো কাজও দেওয়া হয়নি এবং কোনো বেতনও দেওয়া হয়নি। এখন বুঝতে পারছি আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। গত ১০ দিন ধরে ওই কর্মকর্তারা আর অফিসে আসছেন না এবং তাঁদের মোবাইল ফোনে কল করলেও ফোন রিসিভ করছে না।’

একই অভিযোগ করেন, ওই কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার হাসিব ইকবাল এবং প্রকল্প সহকারী বখতিয়ার উদ্দীন। তাঁরা জানান, মোস্তাক আহম্মদের মাধ্যমে তাঁরা ৩০ হাজার ও ১২ হাজার টাকা জামানত দিয়েছেন চাকরি নেওয়ার জন্য। কিন্তু আজ অবদি তাঁরা কোনো বেতন পাননি। এখন জানতে পেরেছেন তারা প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন।

এছাড়া বিভিন্ন পদে চাকরি নেওয়ার জন্য জামানত হিসেবে নাজিবুল হক ২০ হাজার টাকা, নাসের আলী ২০ হাজার, রুবিনা আক্তার ১৫ হাজার, রেবেকা সুলতান ২০ হাজার, নাদিয়া জাহান তানিয়া ১৫ হাজার, আশরাফুল হক ১০ হাজার, সাগরিকা আক্তার ৮ হাজার টাকাসহ শতাধিক ব্যক্তি অর্ধকোটি টাকা দিয়েছেন।

এভাবে প্রতারক চক্রটি শতাধিক চাকরি প্রত্যাশী যুবকদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সংগ্রহ করে লাপাত্তা হয়েছে। উথলী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত রুবিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, স্টার গোল্ড ইলেকট্রনিক্স নামের ভুয়া কোম্পানির কাছে বাড়ি ভাড়া দেয়া মালিক ইকতিয়ার উদ্দীন দায় এড়াতে পারেন না।

তিনি খোঁজ-খবর না নিয়ে ভুয়া কোম্পানির কাছে বাড়ি ভাড়া দিয়ে আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
এ ভুয়া কোম্পানির ডিভিশনাল ম্যানেজার শাকিল আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়। কিন্তু একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জীবননগর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মুনিম লিংকন জানান, ভুক্তভোগীদের থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাবার পর প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলা হয়েছে।

ট্যাগস :

জীবননগরে চাকরি দেওয়ার নামে সাথে প্রতারণা অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি উধাও

আপডেট সময় : ০৭:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১

জেলা প্রতিনিধিঃ

জীবননগরে স্টার গোল্ড ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড স্টার গোল্ড এগ্রো ফার্ম লিমিটেড নামের একটি ভুয়া বহুজাতিক কোম্পানি অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুয়া কর্মকর্তারা জীবননগরের শতাধিক বেকার যুবকের নিকট থেকে কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার নামে মোটা অংকের জামানত নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। এ ঘটনায় জীবননগর উপজেলাব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাকরি প্রত্যাশী যুবকরা তাঁদের জামানতের টাকা ফেরত পেতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এবং জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা শহরের আঁশতলাপাড়ার ইকতিয়ার উদ্দিনের বহুতল বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় জীবননগর উপজেলা জোনাল অফিসের নামে গত বছরের ১ অক্টোবর ভাড়া নেয় প্রতারক চক্রটি।

এরপর ওই বাড়িতে স্টার গোল্ড ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড স্টার গোল্ড এগ্রো ফার্ম লিমিটেড নামের একটি বিশাল সাইনবোর্ড লাগায় তারা। পরবর্তীতে ভুয়া ওই কোম্পানির কর্মকর্তারা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবকদের টার্গেট করে কোম্পানিতে মোটা অংকের বেতনের প্রলোভন দেখায়।

একপর্যায়ে বেকার যুবকরা চাকরির করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে ভুয়া ওই কোম্পানির কর্মকর্তারা তাদের নিকট হতে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত নেয়। এভাবে তারা শতাধিক বেকার যুবকের নিকট থেকে অর্ধকোটি টাকা সংগ্রহ করে। পরে জামানতের টাকা দেওয়া যুবকদের হাতে ভুয়া নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হলেও তাঁদেরকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি এবং কোনো বেতনও দেয়া হয়নি।

একপর্যায়ে বেতন পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে ভুয়া ওই কোম্পানির কর্মকর্তারা অফিসে আসা বন্ধ করে দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। এরপর কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে অসহায় যুবকেরা গত রোববার বিকেলে ওই অফিসটিতে তালা লাগিয়ে দেন এবং বেতনসহ জামানতের টাকা ফেরত পেতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জীবননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের সুজন হোসেন জানান, ‘সূর্যের হাসি চিহ্নিত ক্লিনিকে কর্মরত মো. মোস্তাক আহম্মদের কাছ থেকে জানতে পারি স্টার গোল্ড ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিতে লোক নিয়োগ করা হবে।

তারপর আমি ওই অফিসে যোগাযোগ করার পর মোস্তাক আহম্মদের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে ২০ হাজার টাকা বেতনে শাখা ব্যবস্থাপকের চাকরি নিই। কিন্তু আজ অবধি আমাকে কোনো কাজও দেওয়া হয়নি এবং কোনো বেতনও দেওয়া হয়নি। এখন বুঝতে পারছি আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। গত ১০ দিন ধরে ওই কর্মকর্তারা আর অফিসে আসছেন না এবং তাঁদের মোবাইল ফোনে কল করলেও ফোন রিসিভ করছে না।’

একই অভিযোগ করেন, ওই কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার হাসিব ইকবাল এবং প্রকল্প সহকারী বখতিয়ার উদ্দীন। তাঁরা জানান, মোস্তাক আহম্মদের মাধ্যমে তাঁরা ৩০ হাজার ও ১২ হাজার টাকা জামানত দিয়েছেন চাকরি নেওয়ার জন্য। কিন্তু আজ অবদি তাঁরা কোনো বেতন পাননি। এখন জানতে পেরেছেন তারা প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন।

এছাড়া বিভিন্ন পদে চাকরি নেওয়ার জন্য জামানত হিসেবে নাজিবুল হক ২০ হাজার টাকা, নাসের আলী ২০ হাজার, রুবিনা আক্তার ১৫ হাজার, রেবেকা সুলতান ২০ হাজার, নাদিয়া জাহান তানিয়া ১৫ হাজার, আশরাফুল হক ১০ হাজার, সাগরিকা আক্তার ৮ হাজার টাকাসহ শতাধিক ব্যক্তি অর্ধকোটি টাকা দিয়েছেন।

এভাবে প্রতারক চক্রটি শতাধিক চাকরি প্রত্যাশী যুবকদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সংগ্রহ করে লাপাত্তা হয়েছে। উথলী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত রুবিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, স্টার গোল্ড ইলেকট্রনিক্স নামের ভুয়া কোম্পানির কাছে বাড়ি ভাড়া দেয়া মালিক ইকতিয়ার উদ্দীন দায় এড়াতে পারেন না।

তিনি খোঁজ-খবর না নিয়ে ভুয়া কোম্পানির কাছে বাড়ি ভাড়া দিয়ে আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
এ ভুয়া কোম্পানির ডিভিশনাল ম্যানেজার শাকিল আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়। কিন্তু একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জীবননগর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মুনিম লিংকন জানান, ভুক্তভোগীদের থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাবার পর প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলা হয়েছে।