জ্বালানি তেলের বাজারে পড়ছে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
- আপডেট সময় : ১১:০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
- / ১০১১ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেলের বাজারে পড়ছে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত ও সমুদ্রপথে পরিবহনের বাড়তি ঝুঁকির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ইতোমধ্যেই গড়িয়েছে দ্বিতীয় সপ্তাহে। এতে শুধু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নয়, বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এরইমধ্যে বৈশ্বিক তেলের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত থাকায় সোমবার প্রথমবারের মত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ায়।
সংঘাতের কারণে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এলাকায় জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার কারণে এই পথে তেল পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলা যায়।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও কুয়েতসহ বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের মতো এশিয়ার দেশগুলোতে। কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই যায় এশিয়ায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অনিশ্চয়তা। যুদ্ধ কতদিন চলবে ও হরমুজ প্রণালী কতদিন বন্ধ থাকবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।
এদিকে, ম্যধপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলায় অনেক স্থাপনা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ হলেও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান শৌল কাভনিক বলেন, ‘ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হলে তা জ্বালানি বাজারে বড় সংকট তৈরি করতে পারে। এটি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট বা ২০২২ সালে রাশিয়ার গ্যাস বন্ধ করার ঘটনার চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস চলাচল দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হলে, এর প্রভাব ৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও প্রায় ৩ গুণ বেশি হতে পারে।
এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতি একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও ধীর করে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ
















