DoinikAstha Epaper Version
ঢাকাবৃহস্পতিবার ৩রা এপ্রিল ২০২৫
ঢাকাবৃহস্পতিবার ৩রা এপ্রিল ২০২৫

আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে প্রস্তুত!

Astha Desk
মার্চ ২১, ২০২৫ ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে প্রস্তুত!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

১৭ মার্চ পুলিশ কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনা দিতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে খুব বেশি সময় নেই। আমরা ইতোমধ্যে সাত মাস পার করে এসেছি। আমরা বলছি, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। কাজেই কী কী সংস্কার করতে চাই করে ফেলতে হবে।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ড. ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের ট্রেন লাইনে উঠে চলতে শুরু করেছে। এ ট্রেন গন্তব্যে না পৌঁছা পর্যন্ত থামবে না। এর পর থেকে উপদেষ্টা পরিষদ, বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বরেই নির্বাচনের বার্তা দিয়েছেন।

তবে রাজনৈতিক দলগুলো যদি বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ চায় তাহলে নির্বাচন কিছু দিন পেছাতে পারে। অবশ্য অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না। অর্থনীতি গতিশীল করতে বিদেশি বিনিয়োগ অপরিহার্য।

ফলে সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণ করে ডিসেম্বরে নির্বাচনের আয়োজন হবে উত্তম পন্থা। অথচ কিছু ব্যক্তি সংস্কারের নামে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ দীর্ঘ করতে সভা-সেমিনারের মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেন, ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ সংস্কার চায়। রাজনৈতিক দলগুলোও চায়। তবে নির্বাচনের দিকে না গিয়ে সংস্কারের দিকে গেলে, তা হবে বিরাজনীতি করণ। যৌক্তিক কিছু সংস্কার করে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইসি প্রস্তুত সরকার যখন নির্বাচন করতে বলবে তখন নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। তারপরও ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে কি-না তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহের উদ্রেগ হয়েছে। যার জন্য বিএনপিসহ দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে সবাই ভাবছে নির্বাচন কবে হবে? কবে দেশে গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে আসবে। দেশে একটি সরকার আছে কিন্তু এখনো গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে আসেনি।

তিনি মনে করেন, সেটি না এলে, জনগণ সমর্থিত একটি সরকার ব্যতীত কোনো অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, পুলিশ সাপোর্ট দিয়ে সেটি দাঁড়াতে পারবে না। সেটি আমরা লক্ষ করছি। জনগণের সমর্থিত সরকার, সংসদ যা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে সেটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করতে পারলে অনেকগুলো সমস্যা সমাধান হবে।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যে প্রশ্ন হচ্ছে ডিসেম্বরে নির্বাচন ড. ইউনূস প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে এত সংশয় কেন? এই সন্দেহের মূলে রয়েছে কয়েকজন উপদেষ্টার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার খায়েশ এবং বিভিন্ন সংস্কার সংক্রান্ত কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের লোভাতুর মানসিকতা।

সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শুধু নির্বাচনের জন্য গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে এটি নয়; আবার নির্বাচনের জন্য ফের গণ-অভ্যুত্থান প্রয়োজন হয়ে পড়ছে।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা কখনোই সময় বেঁধে দেইনি। আমরা কখনোই দিন-ক্ষণ-মাস এ সবের কথা বলিনি। আমরা সবসময় যৌক্তিক সময়ের কথা বলেছি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ যদি এ সরকার ডিসেম্বরের আগেও করতে পারে তাহলেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

আসলে আমরা মনে করি, ডিসেম্বর বা পরবর্তী জুন এ ধরনের সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা। আর এর জন্য যতটুকু সংস্কার প্রয়োজন আমরা সেটারই পক্ষে।

গত ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ নিয়ে একমত হয়, তবে নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে পারে। তবে তারা যদি বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণ করে, তাহলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হবে।

আরো পড়ুন :  বৈষম্যমূলক বরাদ্দের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন

কিন্তু কয়েকজন উপদেষ্টা এবং সংস্কার কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি জনগণ না চাইলেও বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণ করবেনই। কারণ এতে তারা দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ভোগের সুযোগ পাবেন। নির্বাচন হলেই তাদের সব সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।

দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতির ভিত মজবুত করা এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেয়া উচিত। কারণ দাতাদেশ ও সংস্থাগুলো জানিয়ে দিয়েছে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিনিয়োগে আস্থা রাখতে পারছেন না। দীর্ঘমেয়াদে যে সরকার থাকবে তাদের সময় বিনিয়োগ করতে চান। তারা অর্থ বিনিয়োগ করলে লাভসহ সে পুঁজি তুলে নেয়ার নিশ্চয়তা চান।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কতদিন থাকবে সেটি নিশ্চিত হয়নি এবং তাদের বেশি দিন ক্ষমতায় থাকার পরিস্থিতি নেই। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহের সুবাদে ব্যাংকিং সেক্টর সচল হয়েছে এবং বিদেশি ঋণের কিছু কিস্তি পরিশোধ করা গেছে।

বিদেশি বিনিয়োগ না থাকায় অর্থনীতি কার্যত চাপের মুখে পড়ে গেছে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতেই নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা উচিত।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশনের কয়েকটিতে বিদেশি নাগরিকদের দায়িত্বে বসানো হয়েছে। সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। ওই কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কার সুপারিশ আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ১৬৬টি প্রশ্নমালা পাঠিয়েছে। দলগুলো মতামত দেয়া শুরু করেছে।

গতকাল জামায়াত মতামত জমা দিয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সঙ্গে সংলাপ করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলটি জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ১৬৬টি প্রশ্নমালার মধ্যে ১২০টির বিষয়ে এলডিপি একমত হলেও ৪২টি প্রস্তাবের সঙ্গে এলডিপি একমত নয়।

ডাকসুর সাবেক ভিপি নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ডিসেম্বরে হোক বা জুনে হোক আমরা চাই একটা সুষ্ঠু ভালো নির্বাচন। আগামী নির্বাচনে তারা কিভাবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে ভূমিকা পালন করবে এসব কিছুই প্রধান উপদেষ্টা বলেননি। তার পরও আমরা আশাবাদী যে, আগামী ডিসেম্বরে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং সেটি সম্ভব।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ডিসেম্বর নির্বাচন হচ্ছে সরকার সে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরাও মনে করি, সরকার যদি প্রস্তুতি নেয় তাহলে ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্ভব। নির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন।

১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, সরকার চাইলে এ বছর জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই নির্বাচন করা সম্ভব। তবে সর্বশেষ সময় হিসেবে ডিসেম্বর গ্রহণযোগ্য। এর বেশি যাওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।

তবে সরকারের যে মতিগতি তাতে ২০২৬ সালেও তারা নির্বাচন দিতে চায় বলে মনে হয় না। কারণ যে প্রক্রিয়ায় সংস্কার কমিশন কাজ করছে, তারা যেভাবে বিরাজনীতিকরণের কাজ করছে সেটি সন্দেহ ও সংশয় তৈরি করছে। কারণ তারা যেকোনো প্রক্রিয়ায় গণপরিষদ নির্বাচন আগে করতে চায়।

সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক কমিশন করে পুরো বিষয়টিতে একটি জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে সরকার যেভাবে কাজ করছে, যে প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে, কথা বলছে তাতে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামার চিন্তা করছেন তারা।

তিনি বলেন, ঈদের পর এপ্রিল থেকেই তারা আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

 

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সেহরির শেষ সময় - ভোর ৪:৩২
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:১৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১২:০৬
  • ৪:২৯
  • ৬:১৮
  • ৭:৩৩
  • ৫:৫০