পান্তা ইলিশ সমাচার
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১
- / ১০৯৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্কঃ
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ। বছরের এই প্রথম দিনে বহু বছর ধরে বাংলার সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে পান্তা ইলিশ। তবে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পান্তা ভাত খাওয়ার বহু ইতিহাস থাকলেও পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ খাওয়ার তেমন কোনো নজির দেখা যায় না।
গ্রাম বাংলায় এক সময় পান্তা ভাতের ব্যাপক প্রচলন ছিল। পান্তা ভাতের সাথে মরিচ ও পেঁয়াজ ছিল তার অনুষঙ্গ। কিন্তু ধীরে ধীরে গ্রাম বাংলার ঘর থেকে পান্তা ভাত খাওয়ার প্রচলন উঠে যাচ্ছে। তবে হলফ করে বলা যায় গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারে একেবারেই যে পান্তা ভাত উঠে গেছে তা নয়। কথিত আছে, বাংলায় এক সময় রাখাল ছেলেরা ও কৃষকেরা পান্তা ভাত খেয়ে কাজে বের হতেন। এবং এই ভাত বলকারক ও অনেকক্ষণ পেটে থাকে। আর নববর্ষের দিনে ভাতের এই পানিকে আমানি বলা হতো। সুতরাং বলা যায়, গ্রাম বাংলার কৃষি সম্প্রদায়ের সাথে পান্তা ভাত ও আমানির সভ্যতা বহুকালের।
চলুন চলে যাই একটু ইতিহাসের পাতায়। জানা যায়, পহেলা বৈশাখ কিংবা বাংলা নববর্ষের গোড়াপত্তন হয়েছিল সম্রাট আকবরের হাত ধরে। আমাদের দেশে প্রচলিত বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন মূলত ইসলামী হিজরি সনেরই একটি রূপ বলে পরিচিত।
মূল হিজরি পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের ওপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১ কি ১২ দিন কম হয়। কারণ সৌরবৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বসর ৩৫৪ দিন। একারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। চাষাবাদের মত কিছু কাজ ঋতু নির্ভর। মোগল সম্রাট আকবর তাঁর সময় প্রচলিত হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌরপঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন। সম্রাট আকবর তাঁর দরবারের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লাহ সিরাজীকে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ৯৯২ হিজরি মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর এ হিজরি সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন। তবে তিনি ঊনত্রিশ বছর আগে তাঁর সিংহাসন আরোহণের বছর থেকে এই পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন। সেকারণে ৯৬৩ হিজরি সাল থেকে বঙ্গাব্দ গণনাও শুরু হয়। এর আগে বাংলাদেশে প্রচলিত শকাব্দ বা শক বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস ছিল চৈত্রমাস। কিন্তু ৯৬৩ হিজরি সাল অনুসারে বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ১ বৈশাখকে নববর্ষ ধরা হয়। সেসময় আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাজনা আদায়, হালখাতা ও মিষ্টিমুখ করা ছাড়া তেমন কোনো ইতিহাস পাওয়া যায় না।
তবে বাংলার এই সংস্কৃতিতে পান্তা ইলিশের প্রচলন কিভাবে? রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ দাশের লেখায় পান্তা ভাতের কথা থাকলেও ইলিশের খোঁজ পাওয়া যায় না।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে এর শুরুটা কোথায়? জানা যায় ১৯৮৩ সালে পান্তার সাথে ইলিশ খাওয়ার উদ্যোগটা নেয় জনকণ্ঠের ঢাকায় কর্মরত প্রয়াত সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন। সেই থেকে পান্তা ইলিশের রেওয়াজ শুরু। উদ্দেশ্য তার সৎ থাকলেও এখন তা ব্যবসাতে পরিণত হয়েছে। বাংলার আধুনিক সংস্কৃতির সাথে সেই থেকে মিশে রয়েছে পান্তা ইলিশ।




















