বাতিল হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ: উঠবে না সংসদে
- আপডেট সময় : ১০:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / ৯৯৯ বার পড়া হয়েছে
বাতিল হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ: উঠবে না সংসদে
আস্থা ডেস্কঃ
গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। ফলে অধ্যাদেশটি আগামী ১২ এপ্রিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। বিএনপি বলছে, অধ্যাদেশ ব্যবহার করে গণভোট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ ব্যবহার না থাকায় অধ্যাদেশটি পাসের প্রয়োজন নেই।
সরকারি দলের এই সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
গণভোট অধ্যাদেশ ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের অন্তত ২০টিতে নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়নি।
রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আগামী ২ এপ্রিল কমিটি প্রতিবেদন দেবে সংসদকে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে উত্থাপন করা হয়। পরবর্তী ৩০ দিন, অর্থাৎ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে যাবে।
গণভোট অধ্যাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোট হয়। কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সভার পর আভাস দেন, গণভোট অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে না। অর্থাৎ, অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যাবে।
সংসদে অধ্যাদেশটিকে অনুমোদন করা হবে কি না– প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেছেন, সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। যেমন সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে প্রণীত অধ্যাদেশের ব্যবহার আগামী ১০ বছরে বা পরবর্তী জনশুমারি না পর্যন্ত লাগবে না। গণভোট অধ্যাদেশের আর ব্যবহার নেই। তাই অনুমোদন করার কিছু নেই। ব্যবহার হয়ে গেছে। অধ্যাদেশটিকে বিল আকারে এনে আইনে পরিণত করা, রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের ওপর আলোচনা হয়েছে। কতটি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন হবে, তা ২ এপ্রিল জানা যাবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হুবহু পাস করা হবে। কিছু কিছু সংশোধনী আকারে উত্থাপন করা হবে। ১২ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় কিছু কিছু অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে না। পরবর্তী সময় বিল আকারে আনা হবে। বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, তা যথাযথভাবে থাকবে প্রতিবেদেন।
কমিটির সদস্য জামায়াত এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগ পৃথক্করণের মতো ১৫টি অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। রবিবার ২২টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৫টিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। সরকারি দল সংখ্যার জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণ করতে চাচ্ছেন।
গণভোট অধ্যাদেশের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেছেন, পুরো জাতি গণভোটে অংশ নিয়েছে। সরকারি দল এটি বাতিলের কথা বলছে, যা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে। সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে–এটাই মূল দাবি।
কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















