বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের নিষ্ফল বৈঠক
- আপডেট সময় : ১১:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৩০০ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের নিষ্ফল বৈঠক
স্টাফ রিপোর্টারঃ
জুলাই সনদ বিষয়ে মতভিন্নতা কমিয়ে আনতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠক থেকে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। দুদলের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অনানুষ্ঠানিক ওই বৈঠকের আগে বিকেলে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি এবং খেলাফত মজলিস একটি বৈঠক করে। ঐ বৈঠকে জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না এমন মনোভাব তুলে ধরে দলগুলো। প্রয়োজনে সনদের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কথাও বলা হয় বৈঠকে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, মূলত বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের আগে জামায়াত এই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং সবার মতামত বিএনপির কাছে তুলে ধরে। তবে বিএনপি ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কারের বিপক্ষে তাদের আগের অবস্থানের কথাই তুলে ধরে।
জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির নায়েবে আমির ডাক্তার সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
সূত্র জানায়, সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে বরফ না গলায় জামায়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইছে।
নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার আগামী সংসদ নির্বাচনের পথনকশা ঘোষণা করেছে। নভেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগেই ভোট করার জন্য ২৪টি কাজ চিহ্নিত করে তা শেষ করার সময়সূচি ঘোষণা করে কমিশন। বিএনপি একে স্বাগত জানায়।
জামায়াত সংঘাত এড়াতে পিআর পদ্ধতিতে করার ঘোষণা দাবি জানায়। এনসিপি জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি না দিয়ে নির্বাচনের ঘোষণাকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল বলে মত দিয়েছে।
এর আগে অনুষ্ঠিত সাত দলের বৈঠকে জামায়াতের দুই নেতা ছাড়াও ছিলেন, ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, গণঅধিকারের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের।
জামায়াত নেতা ডা. তাহের বলেছেন, পিআর এবং জুলাই সনদের অধীনে নির্বাচন চায় এমন দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের যোগাযোগ এবং আলোচনা চলছে।
এনসিপি সূত্রের দাবি, নাহিদ ইসলাম এ বৈঠকের উদ্যোগ নেন। দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেন আরিফুল ইসলাম আদীব। তবে তারা দুজনই বৈঠক বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
বিএনপি-জামায়াত বৈঠক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফা সংলাপের পর ১৬ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদের সমন্বিত খসড়া দিয়েছে। এতে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং আট দফা অঙ্গীকার রয়েছে।
৮৪ সিদ্ধান্তের মধ্যে ৭৩টিতে দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে। বাকিগুলোতে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) রয়েছে। যে ১১ সিদ্ধান্তে ঐকমত্য হয়নি, এর ৯টিতেই বিএনপির আপত্তি রয়েছে।
দলটি পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন, দুদক ও তিন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সাংবিধানিক নিয়োগ কমিটি গঠন, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার সিদ্ধান্তে একমত নয় তারা। দলটি জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তারা এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে না।
অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, সংবিধান ও আইনের ওপরে প্রাধান্য পাবে সনদ। সনদ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারের সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচনের আগেই কার্যকর করা হবে। বিএনপি এসব অঙ্গীকারে একমত নয়।
দলটি সনদের খসড়ায় মতামতে বলেছে, সংবিধানের ওপরে কিছুই প্রাধান্য পেতে পারে না। আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ বন্ধ হলে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। যেসব সংস্কার কার্যকরে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, সেগুলো আগামী সংসদে বাস্তবায়ন হবে।
জামায়াত এ অবস্থানের বিরোধী। দলটি চায় সংবিধানের ওপরে সনদের প্রাধান্য। তারা সনদ নিয়ে আদালতের প্রশ্ন তোলার সুযোগ রহিতের পক্ষে।
দলটির দাবি, নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংস্কারসহ সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে। জামায়াত সংসদের উভয় কক্ষেই পিআর চায়। দলটি সনদের অঙ্গীকারে পিআর যুক্ত করা এবং যেসব সংস্কারে তাদের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলোসহ ৮৪টিরই বাস্তবায়ন চায়।
সালা উদ্দিন আহমেদ বৈঠকে বলেছেন, এগুলোতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। শুধু নিম্নকক্ষ নয়, উচ্চকক্ষেও পিআর মানবে না বিএনপি।
জামায়াত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট বা রাষ্ট্রপতি আদেশ চায়। ঐকমত্য কমিশনকে বিশেষজ্ঞরা গণভোট বা বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।
















