ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo মাগুরায় জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী আটক Logo সাউন্ড গ্রেনেড জলকামান দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের সরাল পুলিশ Logo কোন যোগ্যতায় নাহিদ ইসলাম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন—জাহেদ উর রহমান Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী Logo ১৬ মাসে ৫৬০ হয়রানি, ১১৪৪ সাংবাদিক আক্রান্ত Logo ভোলায় প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ Logo উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে ৫শ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান Logo প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট

বিয়ের দাবিতে ওসির বাড়িতে নারীর অনশন

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩
  • / ১০৬৫ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের দাবিতে ওসির বাড়িতে নারীর অনশন

 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসা এক নারী উদ্যোক্তা (৩০)কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বানিয়াবহু এলাকায় ওই পুলিশ পরিদর্শকের গ্রামের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অনশন করা ওই নারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার বাসিন্দা। তিনি একটি ডেইরি ফার্ম পরিচালনা করেন।

অবশ্য সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক সেলিম রেজা চৌধুরীর গ্রামে থাকা স্বজনরা ওই নারীকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

পরে খবর পেয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ রাত ১০টার দিকে ওই নারীকে পুলিশ কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

অভিযুক্ত পুলিশের ওসি মোঃ সেলিম রেজা (৪৮) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার সাবেক ওসি এবং তাড়াশ উপজেলার বানিয়াবহু গ্রামের মৃত মান্নান চৌধুরীর ছেলে। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত আছেন।

 

তাড়াশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) শহিদুল ইসলাম ওই নারী উদ্যোক্তাকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘ওই নারী পুলিশকে মুঠোফোনে মারধরের অভিযোগ করায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আর তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনশনে আসা ওই নারী উদ্যোক্তা দাবি করেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার পুলিশ পরিদর্শকের (ওসি সেলিম রেজার) সঙ্গে ২০২০ সালের শেষ দিকে কর্মরত থাকাকালে আমার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে মামলা সংক্রান্ত কাজে যাওয়া-আসা সূত্রে ওনার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। একসময় আমি জানতে পারি তিনি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়নি। পরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিশেষ শাখায় ও ভোলাহাট থানায় কর্মরত থাকাকালে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আমি বিয়ের দাবিতে সেখানে তার কাছে যাই। এ সময় তিনি ও তার সহকর্মীরা মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। পাশাপাশি ৫৪ ধারায় পুলিশের কাজে বাধাদানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান।

 

তিনি আরও বলেন, সাত দিন কারাগারে থাকার পর ফিরে এসে জব্দ হওয়া মোবাইল থানা থেকে ফেরত নিয়ে আসি। আর থানা থেকে মোবাইল এনে দেখি, ওসি আমাদের কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও সবকিছু মুছে দিয়েছে এবং আমাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করছেন। তখন বাধ্য হয়ে আজ (বুধবার) সকাল থেকে ওনার গ্রামের বাড়িতে অনশন শুরু করি। পরে রাতে ওসির ইন্ধনে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য তার স্বজনরা আমাকে ব্যাপক মারধর করেন।

 

অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক সেলিম রেজা চৌধুরীর বড় ভাই আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, আমার ভাই (সেলিম রেজা) এ বাড়িতে থাকেন না। আর মেয়েটা আমার ভাইয়ের জীবন তছনছ করে দিয়েছে। ওর অভিযোগের কারণেই ভাই ওসি পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

 

তাড়াশ থানার ওসি মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, নারীর অনশনের বিষয়টি আমি ৯৯৯ এর মাধ্যমে জানার পর দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। রাতে মুঠোফোনে আবারও পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করলে তাকে উদ্ধার করা হয়।

ট্যাগস :

বিয়ের দাবিতে ওসির বাড়িতে নারীর অনশন

আপডেট সময় : ০১:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩

বিয়ের দাবিতে ওসির বাড়িতে নারীর অনশন

 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসা এক নারী উদ্যোক্তা (৩০)কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বানিয়াবহু এলাকায় ওই পুলিশ পরিদর্শকের গ্রামের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অনশন করা ওই নারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার বাসিন্দা। তিনি একটি ডেইরি ফার্ম পরিচালনা করেন।

অবশ্য সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক সেলিম রেজা চৌধুরীর গ্রামে থাকা স্বজনরা ওই নারীকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

পরে খবর পেয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ রাত ১০টার দিকে ওই নারীকে পুলিশ কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

অভিযুক্ত পুলিশের ওসি মোঃ সেলিম রেজা (৪৮) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার সাবেক ওসি এবং তাড়াশ উপজেলার বানিয়াবহু গ্রামের মৃত মান্নান চৌধুরীর ছেলে। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত আছেন।

 

তাড়াশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) শহিদুল ইসলাম ওই নারী উদ্যোক্তাকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘ওই নারী পুলিশকে মুঠোফোনে মারধরের অভিযোগ করায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আর তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনশনে আসা ওই নারী উদ্যোক্তা দাবি করেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার পুলিশ পরিদর্শকের (ওসি সেলিম রেজার) সঙ্গে ২০২০ সালের শেষ দিকে কর্মরত থাকাকালে আমার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে মামলা সংক্রান্ত কাজে যাওয়া-আসা সূত্রে ওনার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। একসময় আমি জানতে পারি তিনি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়নি। পরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিশেষ শাখায় ও ভোলাহাট থানায় কর্মরত থাকাকালে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আমি বিয়ের দাবিতে সেখানে তার কাছে যাই। এ সময় তিনি ও তার সহকর্মীরা মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। পাশাপাশি ৫৪ ধারায় পুলিশের কাজে বাধাদানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান।

 

তিনি আরও বলেন, সাত দিন কারাগারে থাকার পর ফিরে এসে জব্দ হওয়া মোবাইল থানা থেকে ফেরত নিয়ে আসি। আর থানা থেকে মোবাইল এনে দেখি, ওসি আমাদের কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও সবকিছু মুছে দিয়েছে এবং আমাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করছেন। তখন বাধ্য হয়ে আজ (বুধবার) সকাল থেকে ওনার গ্রামের বাড়িতে অনশন শুরু করি। পরে রাতে ওসির ইন্ধনে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য তার স্বজনরা আমাকে ব্যাপক মারধর করেন।

 

অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক সেলিম রেজা চৌধুরীর বড় ভাই আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, আমার ভাই (সেলিম রেজা) এ বাড়িতে থাকেন না। আর মেয়েটা আমার ভাইয়ের জীবন তছনছ করে দিয়েছে। ওর অভিযোগের কারণেই ভাই ওসি পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

 

তাড়াশ থানার ওসি মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, নারীর অনশনের বিষয়টি আমি ৯৯৯ এর মাধ্যমে জানার পর দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। রাতে মুঠোফোনে আবারও পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করলে তাকে উদ্ধার করা হয়।