ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র Logo পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন Logo পানছড়িতে অবৈধ কাঠ আটক করেছে বিজিবি Logo পানছড়িতে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়, উপহার ও চিকিৎসা সেবা প্রদান Logo কিশোরগঞ্জে রওজা মনি হত্যার বিচার দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে রেজাউল করিম খান চুন্নুর সমর্থকদের গণমিছিল Logo পানছড়িতে শিক্ষার্থীর হাতে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের অনুদান তুলে দিলো স্বেচ্ছা সেবক দল Logo পানছড়িতে অসহায়, গরীব ও দুস্থের মাঝে ৩ বিজিবির মানবিক সহায়তা বিতরণ Logo সীমান্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রেস বিফ্রিং করেছে পানছড়ি বিজিবি Logo শেখ হাসিনার প্লট দুর্নীতির মামলায় রায় ঘোষণা আজ

বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে

বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

নির্বাচনি ট্রেনের যাত্রা শুরু, দলগুলো ব্যস্ত আসন ভাগাভাগি ও সমঝোতায়। আওয়ামী লীগ তো মাইনাস হয়েই আছে, এখন শুধু বিএনপিকে মাইনাস করা। বিএনপিকে মাইনাস করার এই অপচেষ্টা চলে আসছে অনেক আগে থেকেই। একের পর এক ষড়যন্ত্র হয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও শুরু থেকেই চলছে ভয়াবহ রকমের নানা ষড়যন্ত্র।

বেগম খালেদা জিয়ার ক্রান্তিকাল। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া তাঁর মোটেই সম্ভব নয়। তাই একমাত্র টার্গেট হলেন তারেক রহমান। তারেক রহমানকে ঘায়েল করা গেলেই ‘বিএনপি মাইনাস’ হবে- এটা না বোঝার কথা নয় কারো। সবকিছুকে পেরিয়ে তিনি দলকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে এনে পৌঁছিয়েছেন। এখন শুধু নির্বাচন বাকি।

আর এ মুহূর্তেই ‘তারেক রহমান বিরোধী’ ভিন্ন রকমের এক প্রচারণা চালানো হচ্ছে ব্যাপকভাবে। বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে পুঁজি করে এই অপপ্রচার চলছে। বলা হচ্ছে, মামলা নেই, আসতে কোনো বাধা নেই। তারপরও তিনি আসছেন না?

খালেদা জিয়ার এই সংকটময় মুহূর্তে তারেক রহমান দেশে আসছেন না কেন- এ প্রশ্নের তীর ছোঁড়া হচ্ছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, মায়ের প্রতি তারেক রহমানের টান নেই। পরিস্থিতি এমন যে, মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। তারেক রহমানের ‘টান’ নেই, ‘টান’ আছে বিএনপি, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার শত্রুদের।

আদতে তারেক রহমানের দেশে আসায় বাধা শুধুমাত্র মামলা-ই নয়, এটা সচেতন মানুষ মাত্রই বোঝেন। দেশে আসতে প্রধান বাধা হলো, ষড়যন্ত্র। মামলা না থাকলেও ষড়যন্ত্র তো থামেনি?

দেশ এখন চতুর্দিকে হতাশা। সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে উঠেছে এই অন্তর্বর্তী সরকারের নানা রকমের অপকীর্তি-অপকর্মে। একেতো অর্থনীতি চরমভাবে স্থবির। বেকারত্ত্ব দ্রুত বাড়ছে। দ্রব্যমূল্যও লাগামছাড়া। তারমধ্যেই দুর্নীতি-অনিয়ম, অপকর্ম ব্যাপকহারে চলছে। রাজধানীসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতা- প্রভৃতি কারণে মানুষ বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ চাচ্ছে। নির্বাচন এবং গণতন্ত্র ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়, এটা মানুষ বুঝতে পারছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশকে গণতন্ত্রের পথে নেওয়ার একমাত্র কাণ্ডারি হলেন তারেক রহমান। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত এবং দল পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি একজন অত্যন্ত চৌকস রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। দল পরিচালনা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেকে ‘ধী বুদ্ধি সম্পন্ন’ পরিচয় দিয়েছেন ইতিমধ্যে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও কুচক্রী মহলের টার্গেট হয়েছেন তারেক রহমান এ কারণেও।

বেগম খালেদা জিয়া এ মুহূর্তে দেশের এমন একজন ব্যক্তি-নেতা, যাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। যার কোনো দৃশ্যমান শত্রুও আছে বলে মনে হয় না। মিথ্যা মামলায় জেলে আটক রাখা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে দেয়া হয়নি। কেউ কল্পনাও করতে পারেননি- হাসিনার পতন দেখতে পারবেন খালেদা জিয়া, দেশের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে আত্মপ্রকাশ করবেন।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, জনপ্রিয়তার দিক থেকে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। রাজনৈতিক বিরোধীরাও এখন খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে অন্ততঃ শত্রু ভাবেন না।

বেগম খালেদা জিয়ার জীবন-মৃত্যুর এই সংকটময় মুহূর্তে সবাই কমবেশি তারজন্য দোয়া করছেন। তারেক রহমান দেশে আসলেই যে, খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন-পরিস্থিতি এমনটাও নয়।

চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে সুস্থ্য করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারেক রহমান লন্ডন থেকে সবকিছুই মনিটরিং করছেন। তিনি দেশে আসার মতো অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে অবশ্যই আসতেন, এটা না বোঝার কথা নয়। কিন্তু তারপরও একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারেক রহমানকে নিয়ে নানা রকমের কুৎসা ছড়াচ্ছে। এরা বিএনপি বা খালেদা জিয়ার বন্ধু হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করতে চাইলেও আদতে তা নয়। বিএনপি, তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়ারও শত্রু এরা।

বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ জেল খেটেছেন, অমানুষিক নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করেছেন শুধুমাত্র গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য। সেই গণতন্ত্র এখন দ্বারপ্রান্তে। এর নেতৃত্ব তারেক রহমানের হাতে। তারেক রহমানের কোনো রকমের অসতর্কতা মানেই গণতন্ত্র আবার দীর্ঘকালের জন্য হাতছাড়া হওয়া, দেশ রসাতলে যাওয়া। তাই তাঁকে সবকিছু ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়।

তিনি ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, “এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।”

পোস্টে তারেক রহমান তার মায়ের জন্য দোয়া ও চিকিৎসার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “দেশ-বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়েছে।”

“সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।” যোগ করেন তারেক রহমান।

পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, তারেক রহমান কেন দেশে আসতে পারছেন না, “স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।” বক্তব্যের মাধ্যমেই সবার বুঝে নেয়া উচিত। নির্বাচন বানচাল এবং গণতন্ত্রের দিকে যাওয়ার প্রক্রিয়া নস্যাতের ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। মায়ের প্রতি আবেগের চেয়ে দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব এ মহূর্তে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

অথচ তারেক রহমান কেন দেশ ফিরছেন না, তা নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠিত তিনি। এটা আসলে ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়, বলছেন পর্যবেক্ষক মহল।

ট্যাগস :

বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র

আপডেট সময় : ০৯:২৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

নির্বাচনি ট্রেনের যাত্রা শুরু, দলগুলো ব্যস্ত আসন ভাগাভাগি ও সমঝোতায়। আওয়ামী লীগ তো মাইনাস হয়েই আছে, এখন শুধু বিএনপিকে মাইনাস করা। বিএনপিকে মাইনাস করার এই অপচেষ্টা চলে আসছে অনেক আগে থেকেই। একের পর এক ষড়যন্ত্র হয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও শুরু থেকেই চলছে ভয়াবহ রকমের নানা ষড়যন্ত্র।

বেগম খালেদা জিয়ার ক্রান্তিকাল। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া তাঁর মোটেই সম্ভব নয়। তাই একমাত্র টার্গেট হলেন তারেক রহমান। তারেক রহমানকে ঘায়েল করা গেলেই ‘বিএনপি মাইনাস’ হবে- এটা না বোঝার কথা নয় কারো। সবকিছুকে পেরিয়ে তিনি দলকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে এনে পৌঁছিয়েছেন। এখন শুধু নির্বাচন বাকি।

আর এ মুহূর্তেই ‘তারেক রহমান বিরোধী’ ভিন্ন রকমের এক প্রচারণা চালানো হচ্ছে ব্যাপকভাবে। বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে পুঁজি করে এই অপপ্রচার চলছে। বলা হচ্ছে, মামলা নেই, আসতে কোনো বাধা নেই। তারপরও তিনি আসছেন না?

খালেদা জিয়ার এই সংকটময় মুহূর্তে তারেক রহমান দেশে আসছেন না কেন- এ প্রশ্নের তীর ছোঁড়া হচ্ছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, মায়ের প্রতি তারেক রহমানের টান নেই। পরিস্থিতি এমন যে, মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। তারেক রহমানের ‘টান’ নেই, ‘টান’ আছে বিএনপি, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার শত্রুদের।

আদতে তারেক রহমানের দেশে আসায় বাধা শুধুমাত্র মামলা-ই নয়, এটা সচেতন মানুষ মাত্রই বোঝেন। দেশে আসতে প্রধান বাধা হলো, ষড়যন্ত্র। মামলা না থাকলেও ষড়যন্ত্র তো থামেনি?

দেশ এখন চতুর্দিকে হতাশা। সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে উঠেছে এই অন্তর্বর্তী সরকারের নানা রকমের অপকীর্তি-অপকর্মে। একেতো অর্থনীতি চরমভাবে স্থবির। বেকারত্ত্ব দ্রুত বাড়ছে। দ্রব্যমূল্যও লাগামছাড়া। তারমধ্যেই দুর্নীতি-অনিয়ম, অপকর্ম ব্যাপকহারে চলছে। রাজধানীসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতা- প্রভৃতি কারণে মানুষ বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ চাচ্ছে। নির্বাচন এবং গণতন্ত্র ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়, এটা মানুষ বুঝতে পারছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশকে গণতন্ত্রের পথে নেওয়ার একমাত্র কাণ্ডারি হলেন তারেক রহমান। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত এবং দল পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি একজন অত্যন্ত চৌকস রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। দল পরিচালনা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেকে ‘ধী বুদ্ধি সম্পন্ন’ পরিচয় দিয়েছেন ইতিমধ্যে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও কুচক্রী মহলের টার্গেট হয়েছেন তারেক রহমান এ কারণেও।

বেগম খালেদা জিয়া এ মুহূর্তে দেশের এমন একজন ব্যক্তি-নেতা, যাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। যার কোনো দৃশ্যমান শত্রুও আছে বলে মনে হয় না। মিথ্যা মামলায় জেলে আটক রাখা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে দেয়া হয়নি। কেউ কল্পনাও করতে পারেননি- হাসিনার পতন দেখতে পারবেন খালেদা জিয়া, দেশের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে আত্মপ্রকাশ করবেন।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, জনপ্রিয়তার দিক থেকে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। রাজনৈতিক বিরোধীরাও এখন খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে অন্ততঃ শত্রু ভাবেন না।

বেগম খালেদা জিয়ার জীবন-মৃত্যুর এই সংকটময় মুহূর্তে সবাই কমবেশি তারজন্য দোয়া করছেন। তারেক রহমান দেশে আসলেই যে, খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন-পরিস্থিতি এমনটাও নয়।

চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে সুস্থ্য করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারেক রহমান লন্ডন থেকে সবকিছুই মনিটরিং করছেন। তিনি দেশে আসার মতো অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে অবশ্যই আসতেন, এটা না বোঝার কথা নয়। কিন্তু তারপরও একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারেক রহমানকে নিয়ে নানা রকমের কুৎসা ছড়াচ্ছে। এরা বিএনপি বা খালেদা জিয়ার বন্ধু হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করতে চাইলেও আদতে তা নয়। বিএনপি, তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়ারও শত্রু এরা।

বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ জেল খেটেছেন, অমানুষিক নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করেছেন শুধুমাত্র গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য। সেই গণতন্ত্র এখন দ্বারপ্রান্তে। এর নেতৃত্ব তারেক রহমানের হাতে। তারেক রহমানের কোনো রকমের অসতর্কতা মানেই গণতন্ত্র আবার দীর্ঘকালের জন্য হাতছাড়া হওয়া, দেশ রসাতলে যাওয়া। তাই তাঁকে সবকিছু ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়।

তিনি ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, “এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।”

পোস্টে তারেক রহমান তার মায়ের জন্য দোয়া ও চিকিৎসার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “দেশ-বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়েছে।”

“সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।” যোগ করেন তারেক রহমান।

পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, তারেক রহমান কেন দেশে আসতে পারছেন না, “স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।” বক্তব্যের মাধ্যমেই সবার বুঝে নেয়া উচিত। নির্বাচন বানচাল এবং গণতন্ত্রের দিকে যাওয়ার প্রক্রিয়া নস্যাতের ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। মায়ের প্রতি আবেগের চেয়ে দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব এ মহূর্তে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

অথচ তারেক রহমান কেন দেশ ফিরছেন না, তা নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠিত তিনি। এটা আসলে ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়, বলছেন পর্যবেক্ষক মহল।