ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:

ভাঙ্গায় শামসেল হত্যার বিচার দাবীতে স্বজনদের আকুতি

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩
  • / ১০৪৩ বার পড়া হয়েছে

ভাঙ্গায় শামসেল হত্যার বিচার দাবীতে স্বজনদের আকুতি

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

সতীনের ঘর হলেও আমরা ছিলাম বোনের মত। স্বামী বেচে আছিল যে করেই হোক দিন শেষে একমুঠ চাল নিয়ে ঘরে ফিরতেন। সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে কোন কষ্ট ছিল না। কিন্ত আজ দুই ঘরের ছেলে মেয়েরা এতিম। একমুঠো ভাতের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষে করতে হয়-কিন্তু কেন? এমন প্রশ্ন সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন ফরিদপুরের ছেলে ধরা সন্দেহে পিটিয়ে জনতার গণপিটুনিতে নিহত জনৈক শামসেল মোল্লার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম।

 

তবে পরিবারের দাবী জমি সংক্রান্ত ঘটনার জেরধরে ছেলে ধরার অভিযোগ এনে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির সহযোগীতায় ১৬ এপ্রিল ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের ভাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের পুখুরিয়া বাসস্ট‍্যান্ড এলাকায় রাতে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শামসেল মোল্লাকে। মামলাটি বর্তমানে স্থানীয় থানা পুলিশ ও পিবিআই ফরিদপুর পুলিশ বিশেষ তদন্ত করছে।

 

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলাধীন মানিকদাহ ইউনিয়নের কালীবাড়ি বাজারে শামসেল মোল্লা হত্যাকারিদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে তার পরিবার ও স্বজনেরা মানববন্ধন করেন। মোঃ রইজুল মাতুব্বর (মৃতের মামা ) মা শাফিয়া বেগম, দুই স্ত্রী ঝর্না বেগম ও বিথী বেগম, বড় কন্যাসহ স্বজনেরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

 

হত্যার বিচার দাবীতে সাংবাদিকদের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ও স্বজনেরা বলেন, মামলার মীমাংসা করার জন্য স্থানীয় মাতুব্বরেরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে। কিন্ত আমরা তাতে রাজী না থাকায় খুনীর মদদকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। খুনীদের সদস্যরা ভাঙ্গা থানা পুলিশের আস্থাভাজন হয়ে গেছে বলেই পুলিশ মামলার বাদী হতে দেয় নি আমাদের পরিবারের কাউকে। পরে আমরা আদালতে মামলা করি।

 

তিনি অভিযোগ করেন বলেন, জনমুখে শুনতে পাচ্ছি পুলিশের সাথে গোপনে রফাদফায় শামচেল হত্যায় পুলিশ বাদী হয়েছে। পুলিশ বাদী হওয়া এবং হত্যাকারদীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ন্যায় বিচারের পাওয়ার আশায় আমরা (তারা) শঙ্কিত। এছাড়া থানায় মামলা করতে গেলে আমার স্বামীকে যারা ছেলে ধরা সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে আমরা তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলে পুলিশ আমাদের কোন পাত্তা দেউনি বলে অভিযোগ করেন।

 

এদিকে শামসেল হত্যার প্রসঙ্গে ভাঙ্গা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার ওসি জিয়ারুল ইসলাম পুলিশের অবস্থান পরিস্কার প্রসঙ্গে বলেন, শামসেলকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে আহত করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। লাশের ময়না তদন্তের সময় তার কোন স্বজন থানায় উপস্থিত হতে দেখা যায় নি। আবার তার মৃতদেহ দাফন করতে তার পরিবার বা স্বজনরা কেউ সেদিন এগিয়ে আসে নি। পুলিশ লাশ দাফন করার পাশাপাশি মামলার বাদীকে হবেন সেদিন শামসেলের পরিবারের স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায় নি। কিন্ত একটি ঘটনা ঘটলে বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড!

 

তিনি আরও বলেন, মামলার বাদীকে যখন খোঁজ করে পাওয়া যায় না এবং নিহতের দুজন স্ত্রী বা পরিবারের কেউ মামলা করতে এগিয়ে আসছেন না পুলিশের কি করার থাকে? অবশেষে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে আজকের দর্পণকে তিনি আরও বলেন, ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত শামচেল এর বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন, মাদক ও চুরির ঘটনাসহ ৬টি মামলা রয়েছে। এছাড়া মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।

উল্লেখ্য গত ৪ এপ্রিল রাতে ছেলে ধরা সন্দেহে স্থানীয় জনতা মানিকদা ইউনিয়নের শামসেল মোল্লাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং- ৪০, তারিখ ২২/০৪/২০২৩। ধারা-১৪৩/৩০২/৩৪ পেনাল কোড। গতকালের মানববন্ধনে মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নিহত শামচেল মোল্লার পরিবারের সদস্যরা।

ট্যাগস :

ভাঙ্গায় শামসেল হত্যার বিচার দাবীতে স্বজনদের আকুতি

আপডেট সময় : ০৯:০২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩

ভাঙ্গায় শামসেল হত্যার বিচার দাবীতে স্বজনদের আকুতি

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

সতীনের ঘর হলেও আমরা ছিলাম বোনের মত। স্বামী বেচে আছিল যে করেই হোক দিন শেষে একমুঠ চাল নিয়ে ঘরে ফিরতেন। সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে কোন কষ্ট ছিল না। কিন্ত আজ দুই ঘরের ছেলে মেয়েরা এতিম। একমুঠো ভাতের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষে করতে হয়-কিন্তু কেন? এমন প্রশ্ন সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন ফরিদপুরের ছেলে ধরা সন্দেহে পিটিয়ে জনতার গণপিটুনিতে নিহত জনৈক শামসেল মোল্লার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম।

 

তবে পরিবারের দাবী জমি সংক্রান্ত ঘটনার জেরধরে ছেলে ধরার অভিযোগ এনে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির সহযোগীতায় ১৬ এপ্রিল ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের ভাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের পুখুরিয়া বাসস্ট‍্যান্ড এলাকায় রাতে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শামসেল মোল্লাকে। মামলাটি বর্তমানে স্থানীয় থানা পুলিশ ও পিবিআই ফরিদপুর পুলিশ বিশেষ তদন্ত করছে।

 

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলাধীন মানিকদাহ ইউনিয়নের কালীবাড়ি বাজারে শামসেল মোল্লা হত্যাকারিদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে তার পরিবার ও স্বজনেরা মানববন্ধন করেন। মোঃ রইজুল মাতুব্বর (মৃতের মামা ) মা শাফিয়া বেগম, দুই স্ত্রী ঝর্না বেগম ও বিথী বেগম, বড় কন্যাসহ স্বজনেরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

 

হত্যার বিচার দাবীতে সাংবাদিকদের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ও স্বজনেরা বলেন, মামলার মীমাংসা করার জন্য স্থানীয় মাতুব্বরেরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে। কিন্ত আমরা তাতে রাজী না থাকায় খুনীর মদদকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। খুনীদের সদস্যরা ভাঙ্গা থানা পুলিশের আস্থাভাজন হয়ে গেছে বলেই পুলিশ মামলার বাদী হতে দেয় নি আমাদের পরিবারের কাউকে। পরে আমরা আদালতে মামলা করি।

 

তিনি অভিযোগ করেন বলেন, জনমুখে শুনতে পাচ্ছি পুলিশের সাথে গোপনে রফাদফায় শামচেল হত্যায় পুলিশ বাদী হয়েছে। পুলিশ বাদী হওয়া এবং হত্যাকারদীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ন্যায় বিচারের পাওয়ার আশায় আমরা (তারা) শঙ্কিত। এছাড়া থানায় মামলা করতে গেলে আমার স্বামীকে যারা ছেলে ধরা সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে আমরা তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলে পুলিশ আমাদের কোন পাত্তা দেউনি বলে অভিযোগ করেন।

 

এদিকে শামসেল হত্যার প্রসঙ্গে ভাঙ্গা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার ওসি জিয়ারুল ইসলাম পুলিশের অবস্থান পরিস্কার প্রসঙ্গে বলেন, শামসেলকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে আহত করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। লাশের ময়না তদন্তের সময় তার কোন স্বজন থানায় উপস্থিত হতে দেখা যায় নি। আবার তার মৃতদেহ দাফন করতে তার পরিবার বা স্বজনরা কেউ সেদিন এগিয়ে আসে নি। পুলিশ লাশ দাফন করার পাশাপাশি মামলার বাদীকে হবেন সেদিন শামসেলের পরিবারের স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায় নি। কিন্ত একটি ঘটনা ঘটলে বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড!

 

তিনি আরও বলেন, মামলার বাদীকে যখন খোঁজ করে পাওয়া যায় না এবং নিহতের দুজন স্ত্রী বা পরিবারের কেউ মামলা করতে এগিয়ে আসছেন না পুলিশের কি করার থাকে? অবশেষে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে আজকের দর্পণকে তিনি আরও বলেন, ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত শামচেল এর বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন, মাদক ও চুরির ঘটনাসহ ৬টি মামলা রয়েছে। এছাড়া মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।

উল্লেখ্য গত ৪ এপ্রিল রাতে ছেলে ধরা সন্দেহে স্থানীয় জনতা মানিকদা ইউনিয়নের শামসেল মোল্লাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং- ৪০, তারিখ ২২/০৪/২০২৩। ধারা-১৪৩/৩০২/৩৪ পেনাল কোড। গতকালের মানববন্ধনে মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নিহত শামচেল মোল্লার পরিবারের সদস্যরা।