ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে ডিজেল আমদানি বাড়ানোর ভাবনা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ১০২০ বার পড়া হয়েছে

ভারত থেকে ডিজেল আমদানি বাড়ানোর ভাবনা

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলেছেন এক কর্মকর্তা।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের মোট জ্বালানি তেল চাহিদার বড় অংশ ডিজেল হওয়ায় সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণের লক্ষ্যে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল সরবরাহ বজায় রাখার পাশাপাশি তা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

দেশে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে, যা দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে জমা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেন, সোমবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে পাম্পিং শুরু হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল আসতে প্রায় ৪৪ ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের এখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১শ ১৩ টন করে তেল পাম্পিং হয়। সেই হিসাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা।

ওয়াগন থেকে পাইপলাইনঃ-

পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির জন্য বিপিসি ও ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারির মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি রয়েছে। ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ওই চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল ডিজেল ৫ দশমিক ৫০ ডলার প্রিমিয়ামে সরবরাহ করছে ভারতীয় রিফাইনারিটি।

এ চুক্তির আওতায় ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহন করা হয়।

পাইপলাইনটি ২০২৩ সালের মার্চে চালু হয়। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পাইপলাইন চালুর আগে ২০১৬ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে রেলওয়ে ওয়াগনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল আনা হতো। পাইপলাইন চালু হওয়ার পর সরাসরি পার্বতীপুর ডিপোতে জ্বালানি পৌঁছানোয় পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমেছে।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আনা রেলওয়ে ওয়াগনে পরিবহনের তুলনায় দ্রুত এবং ব্যয় সাশ্রয়ী।

২০২৬ সালের জন্য বিপিসি ও নুমালিগড় রিফাইনারির মধ্যে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টন নিশ্চিত সরবরাহ এবং চাহিদার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

সাধারণত প্রতিবার সরবরাহে প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়। পাইপলাইনের মাধ্যমে মাসে ৩ থেকে ৪ বারে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ হয়ে থাকে।

সাগর পথে জ্বালানি সরবরাহঃ-

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডও (আইওসিএল) সাগরপথে বাংলাদেশে ডিজেল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও অকটেন সরবরাহ করে থাকে। আইওসিএল ২০২০ সালে বিপিসিকে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করে এবং ২০২২ সালে জি টু জি সরবরাহকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

গত তিন বছরে আইওসিএল থেকে বাংলাদেশ যে জ্বালানি তেল পেয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১শ ১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ৩ লাখ ৫১ হাজার ১শ ১৭ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯শ ৩৭ মেট্রিক টন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য আইওসিএল থেকে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে সম্মতি রয়েছে।

দেশের ডিজেল চাহিদা ও মজুদঃ-

বাংলাদেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টন, যা দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে কয়েক দিন এই চাহিদা ২০ হাজার টনের কাছাকাছি উঠে যায়। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা ঠিক করে দেয়।

বিপিসি কর্মকর্তারা বলেন, সংস্থাটির কাছে বর্তমানে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যে নতুন চালান দেশে পৌঁছাতে শুরু করায় জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

সরবরাহ বাড়ানোর আলোচনাঃ-

জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেন, যেহেতু ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র, আমরা চাইব- তাদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ জ্বালানি নেওয়ার বিষয়টি। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। আমাদের আরও একটি এলসি খোলা আছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

এর আগে গত রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মার বৈঠকে বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ভারত থেকে ডিজেল আমদানি বাড়ানোর ভাবনা

আপডেট সময় : ১২:২৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ভারত থেকে ডিজেল আমদানি বাড়ানোর ভাবনা

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলেছেন এক কর্মকর্তা।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের মোট জ্বালানি তেল চাহিদার বড় অংশ ডিজেল হওয়ায় সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণের লক্ষ্যে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল সরবরাহ বজায় রাখার পাশাপাশি তা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

দেশে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে, যা দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে জমা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেন, সোমবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে পাম্পিং শুরু হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল আসতে প্রায় ৪৪ ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের এখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১শ ১৩ টন করে তেল পাম্পিং হয়। সেই হিসাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা।

ওয়াগন থেকে পাইপলাইনঃ-

পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির জন্য বিপিসি ও ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারির মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি রয়েছে। ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ওই চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল ডিজেল ৫ দশমিক ৫০ ডলার প্রিমিয়ামে সরবরাহ করছে ভারতীয় রিফাইনারিটি।

এ চুক্তির আওতায় ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহন করা হয়।

পাইপলাইনটি ২০২৩ সালের মার্চে চালু হয়। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পাইপলাইন চালুর আগে ২০১৬ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে রেলওয়ে ওয়াগনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল আনা হতো। পাইপলাইন চালু হওয়ার পর সরাসরি পার্বতীপুর ডিপোতে জ্বালানি পৌঁছানোয় পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমেছে।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আনা রেলওয়ে ওয়াগনে পরিবহনের তুলনায় দ্রুত এবং ব্যয় সাশ্রয়ী।

২০২৬ সালের জন্য বিপিসি ও নুমালিগড় রিফাইনারির মধ্যে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টন নিশ্চিত সরবরাহ এবং চাহিদার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

সাধারণত প্রতিবার সরবরাহে প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়। পাইপলাইনের মাধ্যমে মাসে ৩ থেকে ৪ বারে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ হয়ে থাকে।

সাগর পথে জ্বালানি সরবরাহঃ-

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডও (আইওসিএল) সাগরপথে বাংলাদেশে ডিজেল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও অকটেন সরবরাহ করে থাকে। আইওসিএল ২০২০ সালে বিপিসিকে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করে এবং ২০২২ সালে জি টু জি সরবরাহকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

গত তিন বছরে আইওসিএল থেকে বাংলাদেশ যে জ্বালানি তেল পেয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১শ ১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ৩ লাখ ৫১ হাজার ১শ ১৭ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯শ ৩৭ মেট্রিক টন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য আইওসিএল থেকে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে সম্মতি রয়েছে।

দেশের ডিজেল চাহিদা ও মজুদঃ-

বাংলাদেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টন, যা দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে কয়েক দিন এই চাহিদা ২০ হাজার টনের কাছাকাছি উঠে যায়। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা ঠিক করে দেয়।

বিপিসি কর্মকর্তারা বলেন, সংস্থাটির কাছে বর্তমানে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যে নতুন চালান দেশে পৌঁছাতে শুরু করায় জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

সরবরাহ বাড়ানোর আলোচনাঃ-

জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেন, যেহেতু ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র, আমরা চাইব- তাদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ জ্বালানি নেওয়ার বিষয়টি। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। আমাদের আরও একটি এলসি খোলা আছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

এর আগে গত রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মার বৈঠকে বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ