মাটিরাঙ্গার চেয়ারম্যানর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণে অনিয়মর অভিযাগ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অগাস্ট ২০২১
- / ১০৫১ বার পড়া হয়েছে
মাটিরাঙ্গার চেয়ারম্যানর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণে অনিয়মর অভিযাগ
স্টাফ রিপোর্টারঃ খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইদং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযাগ উঠেছে। সরকারি অর্থয়ানে নির্মিত হলেও অফিস খরচের নামে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছে এই অর্থ জমা দেয় বলে জানান ভুক্তভাগীরা।
এছাড়া গৃহহীন ও হতদরিদ্রদের বঞ্চিত করে নিজের আত্মীয় স্বজনদের ঘর বরাদ্ধ দিয়েছে চেয়ারম্যান। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। তবে এমন অভিযাগ অস্বীকার করেছেন তাইদং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির। মাটিরাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে ৩৫ কিলামিটার দূরের জনপদ তাইদং। সীমানা ঘেষা তাইদং ইউনিয়নের ৫ নং ওর্য়াডের বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম বলেন, ঘর বরাদ্ধ পেতে পরিষদের কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যানক ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি।
অথচ এখন বলছে ঘরের কাঠ আমাকে কিনে দিতে হবে । বাথরুমও আমাকে বানাতে হবে। তাইদং ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের খোরশেদা বেগম জানান, এক মাস আগে ঘরের জন্য সেলিম সর্দারের মাধ্যম চেয়ারম্যান হুমায়োন কবিরকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। ঘরের গরু বেঁচে এই টাকা দিয়েছি। ঈদের পর ঘরের কাজ শুরু হওয়ার কথা কিন্তু এখনো শুরু হয়নি। তাইদং ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বটতলী এলাকার সরবত আলীর ছেলে রমজান আলী বলন, আমি শুনেছি টাকা ছাড়া ঘর পায় না। দুই মাস আগে আত্নীয় ইদ্রিসের মাধ্যমে হুমায়ন চেয়ারম্যানকে ২২ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন বলছে আরো ৮ হাজার টাকা লাগবে। ঈদের পরপর ঘর আসবে।
একই এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল মিয়া জানান, ঘরের জন্য চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরক ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। চেয়ারম্যান হুমায়ন করিব বলছে ঘর পেতে সরকারি কিছু খরচ আছ। টাকা দেওয়ার পরও ঘর নির্মাণের জন্য ৬ বস্তা সিমেন্ট কিনে দিয়েছি। বাঘমারার বাসিন্দা হাফেজ মিয়া জানান, সরকারীভাবে ঘর বরাদ্ধ পাওয়ার পরও আমার ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার টাকার কাঠ কিনেছি, ১৫ বস্তা সিমেন্ট কিনে দিয়েছি, ৩ গাড়ি বালু কিনে এনেছি। ঘর নির্মাণের শুরুতে একজন সরকারী অফিসার এসে ঘুরে গেছে ।
এরপর আর কেউ আসেনি। এছাড়া নিজের বসতবাড়ির উঠানে মামা আবুল হাশেমের নাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্ধ দিয়েছে চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর অনিয়মের প্রসঙ্গ মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হলেও কোন ইউনিয়নে কত ঘর বরাদ্ধ দিয়েছে তাও জানি না। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দারা ফোন করায় ঘরের অনিয়মের বিষয়ে অবগত হচ্ছি। এ বিষয় যথাযর্থ কর্তপক্ষকে আমি জানাবো। অভিযোগের বিষয়ে তাইদং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বলেন, আমার ইউনিয়নে ৪১ টি ঘর বরাদ্ধ পেয়েছি। ঘরের জন্য আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেই নি।
কেউ যদি অভিযাগ করে ঘর নির্মাণের জন্য চেয়ারম্যানক টাকা দিয়েছে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি কোন টাকা নেই নি। স্বজনপ্রীতি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বলন, আমি আমার দূর সর্ম্পকের মামাকে একটি ঘর দিয়েছি। কেউ যদি বলে এটা স্বজনপ্রীতি হয়েছে, তাহল আমি এটা বুঝিনা। যারা ঘর পাওয়ার উপযোগী তারা ঘর পেয়েছে। উপজেলা থেকে ট্যাগ অফিসার এসে যাচাই বাছাই করে ঘর দিয়েছে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেদায়েত উল্ল্যাহ বলন, অনিয়মের অভিযাগ পেয়েছি। এখনো আমরা ঘরের সব টাকা দিইনি। শতভাগ গুনগত মান রেখে ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ না হলেও আমরা বিল পরিশাধ করবো না। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘর নিয়ে কোন অনিয়ম দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
[irp]





















