মাদারগঞ্জে কোটি টাকা নিয়ে সমবায় সমিতির সভাপতি উধাও
- আপডেট সময় : ০৮:১১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১
- / ১০৬৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্কঃ জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাকরি দেয়ার নাম করে বেকার যুবকদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে এসএম শহিদুজ্জামান লাঞ্জু নামে এক প্রতারক। বিন্যাফৈর গ্রামের নিজ বাড়িতে গ্রমীণ মানবকল্যাণ সংস্থা নামে দুটি বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এই প্রতারণা ব্যবসা শুরু করেন।
সাইনবোর্ডের নীচের অংশে সহযোগিতায়-ইউএসএইড এবং অর্থায়নে আমেরিকা, লন্ডন, দক্ষিণ কোরিয়া লেখা দেখে এলাকার বেকার যুবকরা ওই সংস্থায় চাকরি জন্য মরিয়া হয়ে পড়ে।
উপজেলার আদারভিটা গ্রামের মুনির উদ্দিনের ছেলে জুলফিকার আলী ও ঢাকার গাজিপুরের খাদিজা আক্তার বীনাসহ প্রতারিত বেকার যুবকরা জানান, লাঞ্জু প্রথমে এলাকার সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া হবে জানিয়ে অভিভাবদের মোবাইল নম্বরে বিকাশ একাউন্ট খোলায়।
দরিদ্রদের রেশন হিসেবে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনী খাদ্যসামগ্রী দেয়ার নামে দরিদ্রদের তালিকা তৈরির কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করে। এছাড়া চর উন্নয়ন প্রকল্প ও টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করবেন বলে প্রচার করে লোকজনের বিশ্বাস অর্জন করে। এসব শুনে জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বেকার যুবকরা গ্রামীণ মানবকল্যাণ সংস্থায় চাকরি নেয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে লাঞ্জু জামালপুর শহরের খুপিবাড়ি মোড়ে ৫তলা একটি ভবন ভাড়া নিয়ে অফিস খোলে।
[irp]
চাকরির নামে প্রতারিত জুলফিকার আলী জানান, ৪ লাখ টাকা নিয়ে শহিদুজ্জামান লাঞ্জু ওই সংস্থার উপ-পরিচালকের পিএস হিসেবে তাকে চাকরি দেয়। কিন্তু ওই অফিসে লাখ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের শুধু চেয়ার টেবিলে বসিয়ে রাখা হতো; কাউকে দিয়ে কোনো কাজ করানো হয়নি। দুইমাস পর চাকরির নামে ১৫৩জন বেকার যুবকের কাছ থেকে অন্তত ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিস ছেড়ে দিয়ে লাঞ্জু আত্মগোপন করে।
খাদিজা আক্তার বীনা জানান, লাঞ্জু তাদের একটি সংস্থার নামে বৃদ্ধা আশ্রম করার কাজে সহযোগিতার কথা বলে ১৬ লাখ টাকা নিয়েছে। কোনো রকম সহযোগিতা না করার এক পর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে লাঞ্জু তাকে ডাচবাংলা ব্যাংকের ১০ লাখ টাকার একটি চেক দেয়, যা ব্যাংকে ডিজঅনার হয়। প্রতারিত যুবকরা লাঞ্জুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে টাকা ফেরতের দাবি জানালে দুই বছর ধরে সবাইকে টাকা দেই-দিচ্ছি করে শান্তনা দিচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, মাদরাসা থেকে দাখিল পর্যন্ত পড়ালেখা করা লাঞ্জু মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বিন্যাফৈর গ্রামের বাড়িতে গ্রামীণ মানবকল্যাণ সংস্থা খোলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড পেয়েছেন বলে প্রচার করতে থাকেন। তার ফেসবুক আইডিতেও আমেরিকার গ্রিনকার্ডের ছবি দিয়ে রেখেছেন। লোকজনের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করলেও তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আনুদান দিতেন। আদারভিটা ইউপির চেয়ারম্যান আলতাফুর রহমান আতার তত্ত্বাবধানে সাটের বাজার মসজিদের জন্যও শহিদুজ্জামান লাঞ্জু টাকা দিয়েছেন বলে এলাকার লোকজন জানান।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফুর রহমান আতা জানান, লাঞ্জু তার মসজিদের জন্য কোনো টাকা দেয়নি। তবে সে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে গেছে বলে শুনেছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শহিদুজ্জামান লাঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিন পাওনাদার সবাইকে টাকা ফেরত দিচ্ছেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
















