মুক্তি পেলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়া সেই মা-মেয়ে
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ১০১৮ বার পড়া হয়েছে
মুক্তি পেলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়া সেই মা-মেয়ে
স্টাফ রিপোর্টারঃ
কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই নারীকে থানায় ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পেকুয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেয় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন। পরে আজ শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ আদালত সাজা বাতিল করে মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এর পরপরই তারা বিকেলে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া রেহেনা মোস্তফা রানু (৪৮)।
আদালত থেকে খালাস পেয়ে শনিবার বিকেলে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে বের হন মা- মেয়ে। পরে তাদের শারীরিক অবস্থা অস্বাভাবিক হলে স্বজনরা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের হাসপাতালে ভর্তি দেন।
গত বুধবার পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে থানায় বেধড়ক মারধর করা হয়। এ ঘটনায় জুবাইদা বেগম ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানুকে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম।
জানা যায়, জুবাইদা বেগম ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনে ২০২৪ সালে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। পরে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করলে পেকুয়া থানাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার ঘোষ। তিনি ডিসেম্বরেই মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।
মামলার বাদী জুবাইদা বেগমের খালা আমেনা বেগম বলেন, মামলার প্রতিবেদন পক্ষে দিতে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করেন এসআই পল্লব। পরে তাঁর স্বর্ণ বন্ধক রেখে আমার বোন ও ভাগনি তাকে (এসআই) ২০ হাজার টাকা দেন। এর পরও তিনি মামলার প্রতিবেদন বিপক্ষে দেন। এটা নিয়ে আমার বোন ও ভাগনি হতাশ হন। বুধবার তাদের ডেকে নির্যাতন চালানো হয়। তাঁর বোনের মুখে জখমের চিহ্ন রয়েছে। বাঁ চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া বাহু, বুক, তলপেটেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ভাগনির বাহু, থুঁতনি ও বুকে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
পেকুয়া থানার এসআই পল্লব কুমার ঘোষের দাবি, ‘বুধবার থানায় ঢুকেই আমাকে গালিগালাজ শুরু করেন। পরে ওসি স্যারকেও গালিগালাজ করে। নারী কনস্টেবলরা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তাদের মারধর করে।


















