ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo ঘুষ চাওয়ার ঘটনা সামনে আসায় আইসিটি’র বিচারপ্রক্রিয়ার উপর আস্থা কমবে Logo অভিযোগ-প্রশ্নে জর্জরিত জুলাই হত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল Logo ইরানে রাশিয়ার কনস্যুলেট ক্ষতিগ্রস্ত-চুপসে গেছে রাশিয়া Logo ধেঁয়ে আসছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র-ইসরায়েল Logo যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি পারমাণবিক বোমা নিখোঁজ Logo মাদারীপুরে হত্যাকান্ডে রণক্ষেত্র: হাতবোমা বিস্ফোরণ, বাড়ি ঘরে আগুন ও লুটপাট Logo ইরান থেকে সরে আসার পরামর্শ ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের Logo অস্ত্রের মুখে উচ্ছেদের পরদিন ঘর পুননির্মাণের আশ্বাস পেল গারো পরিবার “ফলোআপ” Logo ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ইমি ও মামুনের মুক্তি দাবি ১৫৬ নাগরিকের Logo রণকৌশল পরিবর্তন করলো ইরান

রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৬:১০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • / ১১১০ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এতে জড়িত এলাকারই কয়েক শ্রেণির লোকজন।

দেশের প্রচলিত আইন, কড়া নজরদারী তোয়াক্কা না করে শুধু টাকার বিনিময়ে শত শত রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে বাংলাদেশি বনে গেছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরকারের উন্নয়ন যারা দেখে না, তাদের চোখে ছানি পড়েছে

সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের এক শ্রেণীর অসাধু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের নিকট আত্বীয়-স্বজন পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্র সংগ্রহ করে দিচ্ছে। পরবর্তিতে ভোটার হালনাগাদের সময় জোরপূর্বক তদবির চালিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়ে দিতে সহযোগীতা করে থাকে ওই সিন্ডিকেট। অনেক সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের অনুসারী বাড়ানোর জন্য এবং ভোট ব্যাংক তৈরির উদ্দেশ্যে এসব অপকর্মে পা দিয়ে থাকেন।

সরেজমিন ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোটার হালনাগাদের সময় শিক্ষক নামধারী সিরাজুল হক তথ্য হালনাগাদকারীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে রোহিঙ্গাদেরকে ভোটার করানোর জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেজু আমতলী এলাকার এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে আসছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল গফুর জানান, একদিন সকালে রেজু আমতলী এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে সিরাজুল হকের অনুরোধে আমি একজনের ভোটার ফরমে স্বাক্ষর করি। পরবর্তিতে জানতে পারি সে রোহিঙ্গা নাগরিক।

একই কথা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল কান্তি চাকমার। তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে আমি তেমন এলাকার লোকজনকে চিনতাম না। সিরাজুল হকের সুপারিশে কয়েকজন লোকের ভোটার ফরমে যাছাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর করে ছিলাম। এখন জানতে পেরেছি, তারা নাকি রোহিঙ্গা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর সালেহ বলেন, সাধারণত ভোটার নিবন্ধনের সময় নির্বাচন অফিসের বিশেষ কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে ভোটার প্রার্থীদের সংযুক্তকৃত কাগজপত্র যাছাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে থাকি। সর্বশেষ জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট

আপডেট সময় : ০৬:১০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এতে জড়িত এলাকারই কয়েক শ্রেণির লোকজন।

দেশের প্রচলিত আইন, কড়া নজরদারী তোয়াক্কা না করে শুধু টাকার বিনিময়ে শত শত রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে বাংলাদেশি বনে গেছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরকারের উন্নয়ন যারা দেখে না, তাদের চোখে ছানি পড়েছে

সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের এক শ্রেণীর অসাধু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের নিকট আত্বীয়-স্বজন পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্র সংগ্রহ করে দিচ্ছে। পরবর্তিতে ভোটার হালনাগাদের সময় জোরপূর্বক তদবির চালিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়ে দিতে সহযোগীতা করে থাকে ওই সিন্ডিকেট। অনেক সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের অনুসারী বাড়ানোর জন্য এবং ভোট ব্যাংক তৈরির উদ্দেশ্যে এসব অপকর্মে পা দিয়ে থাকেন।

সরেজমিন ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোটার হালনাগাদের সময় শিক্ষক নামধারী সিরাজুল হক তথ্য হালনাগাদকারীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে রোহিঙ্গাদেরকে ভোটার করানোর জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেজু আমতলী এলাকার এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে আসছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল গফুর জানান, একদিন সকালে রেজু আমতলী এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে সিরাজুল হকের অনুরোধে আমি একজনের ভোটার ফরমে স্বাক্ষর করি। পরবর্তিতে জানতে পারি সে রোহিঙ্গা নাগরিক।

একই কথা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল কান্তি চাকমার। তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে আমি তেমন এলাকার লোকজনকে চিনতাম না। সিরাজুল হকের সুপারিশে কয়েকজন লোকের ভোটার ফরমে যাছাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর করে ছিলাম। এখন জানতে পেরেছি, তারা নাকি রোহিঙ্গা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর সালেহ বলেন, সাধারণত ভোটার নিবন্ধনের সময় নির্বাচন অফিসের বিশেষ কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে ভোটার প্রার্থীদের সংযুক্তকৃত কাগজপত্র যাছাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে থাকি। সর্বশেষ জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।