ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোকবলের অভাবে একজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২
  • / ১০৪১ বার পড়া হয়েছে

সাকিল ইসলাম, নীলফামারী: এক সময়ের রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী আর যাত্রীদের চিকিৎসা সেবার ভরসা নীলফামারী সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল টি এখন জনমানবহীন ভূতুড়ে বাড়ির মতো। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সারি সারি শয্যা থাকলেও, নেই চিকিৎসক আর রোগী।

প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া কোন ব্যবস্থা নেই রেলওয়ে হাসপাতাল টিতে। ব্যবহার না হওয়ায় বিকলের পথে পরীক্ষা নিরীক্ষার সব যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা। ৮২ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী থাকে মাত্র ১ থেকে ২ জন। অন্যান্য হাসপাতাল গুলোতে যখন ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশী রোগীর চাপ, তখন এই হাসপাতাল পুরোটাই ফাকা। জানা গেছে, এই হাসপাতালে চিকিৎসক থাকার কথা ৭ জন কিন্তু আছে মাত্র ১ জন । তিনিই আবার হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

অফিস ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি তিনিই দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবাও। রেলওয়ের এই হাসপাতালটিতে নেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রয়েছে ওষুধের স্বল্পতা। নার্স,সিস্টার, ফার্মাসিস্টসহ অন্য পদ গুলোর অধিকাংশই খালি। মূল্যবান যন্ত্রপাতি গুলো পরে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এতে পুরোপুরি বন্ধ পরীক্ষা নিরীক্ষাও। ফলে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সংস্লিষ্ট প্রায় ৫ হাজার পরিবার। রেলওয়ে স্টাফ মোতাহারা বেগম বলেন, রেলের হাসপাতাল, আমরা রেলে চাকরি করি। কিন্তু এখানে নাই তো মহিলা ডাক্তার। শুধু একটা ডাক্তার। মহিলা ডাক্তার না থাকায় আমাদের বাইরে যাইতে হয়। সেবা প্রার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের সব থেকে বড় হাসপাতাল এটি।

এখানে সেবার মান নাই কারণ রেলে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের সেবা তো একটি ডাক্তার দিয়ে দেওয়া সম্ভব না। এছাড়াও বাইরে থেকেও মানুষ সেবা নিতে আসে। সৈয়দপুর রেলওয়ের অফিস স্টাফ মমিনুল ইসলাম জানায়, রেলওয়ে তে যোগ দেওয়ার পর দেখেছি সেখানে প্রতিদিন নিম্ন ২০০ থেকে ৩০০ রোগী আসত চিকিৎসা নিতে, ডাক্তার ছিল ৫ জন, অন্ত:বিভাগে প্রায় ৪০-৬০ জন রোগী থাকত। নিউরো ডাক্তার ছিল ৩ জন। ডাক্তার না থাকায় করোনার পর থেকে রোগি কমে গেছে। অপরদিকে লালমনিরহাটের রেলওয়ে হাসপাতাল ও সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল, দুই হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্ব আছেন একজন ডাক্তারই।

দুই হাসপাতালে একই সাথে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকায় আশানুরূপ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুরের বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার ডা. আনিছুল হক বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল টি ৮২ সজ্জার। এখানে আমাদের মোট ডাক্তারের থাকার কথা ৭ জন। মাস দুয়েক আগে আমাকে একজন ডাক্তার দিয়েছিলো সেও ট্রেনিং এ গেছে। এখন একাই ৭ জনের দায়িত্ব দেখতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মজার বিষয় হলো আমি লালমনিরহাটের রেলওেয়ে হাসপাতালের ও অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। সেখানেও কোন ডাক্তার নাই। ১০ জন ডাক্তার থাকার কথা ১০ জনের মধ্যে আমি একা।

সব মিলিয়ে ১৭ জন ডাক্তারের কাজ আমি একা করছি। একদিকে আমাকে প্রশাসনিক কাজ করতে হয়,অন্য দিকে রোগিকে সেবা দিতে হয়। এতে রুগি আসলে অপেক্ষা করতে হয়। সেই সাথে এখানে অ্যাম্বুলেন্স নাই এটাও বড় ধরনের সমস্যা। এবিষয়ে মুঠোফোনে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুজিত কুমার রায় জানান, চিকিৎসক নিয়োগে বিধি তৈরির কাজ করছে মন্ত্রণালয়। খুব শীঘই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ট্যাগস :

লোকবলের অভাবে একজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল

আপডেট সময় : ০২:২৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২

সাকিল ইসলাম, নীলফামারী: এক সময়ের রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী আর যাত্রীদের চিকিৎসা সেবার ভরসা নীলফামারী সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল টি এখন জনমানবহীন ভূতুড়ে বাড়ির মতো। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সারি সারি শয্যা থাকলেও, নেই চিকিৎসক আর রোগী।

প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া কোন ব্যবস্থা নেই রেলওয়ে হাসপাতাল টিতে। ব্যবহার না হওয়ায় বিকলের পথে পরীক্ষা নিরীক্ষার সব যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা। ৮২ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী থাকে মাত্র ১ থেকে ২ জন। অন্যান্য হাসপাতাল গুলোতে যখন ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশী রোগীর চাপ, তখন এই হাসপাতাল পুরোটাই ফাকা। জানা গেছে, এই হাসপাতালে চিকিৎসক থাকার কথা ৭ জন কিন্তু আছে মাত্র ১ জন । তিনিই আবার হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

অফিস ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি তিনিই দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবাও। রেলওয়ের এই হাসপাতালটিতে নেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রয়েছে ওষুধের স্বল্পতা। নার্স,সিস্টার, ফার্মাসিস্টসহ অন্য পদ গুলোর অধিকাংশই খালি। মূল্যবান যন্ত্রপাতি গুলো পরে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এতে পুরোপুরি বন্ধ পরীক্ষা নিরীক্ষাও। ফলে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সংস্লিষ্ট প্রায় ৫ হাজার পরিবার। রেলওয়ে স্টাফ মোতাহারা বেগম বলেন, রেলের হাসপাতাল, আমরা রেলে চাকরি করি। কিন্তু এখানে নাই তো মহিলা ডাক্তার। শুধু একটা ডাক্তার। মহিলা ডাক্তার না থাকায় আমাদের বাইরে যাইতে হয়। সেবা প্রার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের সব থেকে বড় হাসপাতাল এটি।

এখানে সেবার মান নাই কারণ রেলে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের সেবা তো একটি ডাক্তার দিয়ে দেওয়া সম্ভব না। এছাড়াও বাইরে থেকেও মানুষ সেবা নিতে আসে। সৈয়দপুর রেলওয়ের অফিস স্টাফ মমিনুল ইসলাম জানায়, রেলওয়ে তে যোগ দেওয়ার পর দেখেছি সেখানে প্রতিদিন নিম্ন ২০০ থেকে ৩০০ রোগী আসত চিকিৎসা নিতে, ডাক্তার ছিল ৫ জন, অন্ত:বিভাগে প্রায় ৪০-৬০ জন রোগী থাকত। নিউরো ডাক্তার ছিল ৩ জন। ডাক্তার না থাকায় করোনার পর থেকে রোগি কমে গেছে। অপরদিকে লালমনিরহাটের রেলওয়ে হাসপাতাল ও সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল, দুই হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্ব আছেন একজন ডাক্তারই।

দুই হাসপাতালে একই সাথে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকায় আশানুরূপ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুরের বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার ডা. আনিছুল হক বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল টি ৮২ সজ্জার। এখানে আমাদের মোট ডাক্তারের থাকার কথা ৭ জন। মাস দুয়েক আগে আমাকে একজন ডাক্তার দিয়েছিলো সেও ট্রেনিং এ গেছে। এখন একাই ৭ জনের দায়িত্ব দেখতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মজার বিষয় হলো আমি লালমনিরহাটের রেলওেয়ে হাসপাতালের ও অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। সেখানেও কোন ডাক্তার নাই। ১০ জন ডাক্তার থাকার কথা ১০ জনের মধ্যে আমি একা।

সব মিলিয়ে ১৭ জন ডাক্তারের কাজ আমি একা করছি। একদিকে আমাকে প্রশাসনিক কাজ করতে হয়,অন্য দিকে রোগিকে সেবা দিতে হয়। এতে রুগি আসলে অপেক্ষা করতে হয়। সেই সাথে এখানে অ্যাম্বুলেন্স নাই এটাও বড় ধরনের সমস্যা। এবিষয়ে মুঠোফোনে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুজিত কুমার রায় জানান, চিকিৎসক নিয়োগে বিধি তৈরির কাজ করছে মন্ত্রণালয়। খুব শীঘই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।