শতকোটি টাকা খুইয়ে পুলিশ ফিরছে আগের পোশাকেই!
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১০৩৩ বার পড়া হয়েছে
শতকোটি টাকা খুইয়ে পুলিশ ফিরছে আগের পোশাকেই!
স্টাফ রিপোর্টারঃ
২০২৪-এ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রবল বিরোধীতার পরও অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ বাহিনীর পোশাকও পরিবর্তন করেছিল। বিশেষ করে পোশাকের রঙ ও মান পছন্দ করা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। ২ জন সাবেক উপদেষ্টা ও ১ জন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা (সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী) এবং পুলিশের ভেতরের ১ ডজন অর্থলোভী কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্তেই পোশাক পরিবর্তনের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়।
একপর্যায়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে এই পোশাক ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। নতুন এই পোশাকের পেছনে অন্তত শতকোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি জানায়, এক ডজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নানা কেনাকাটার সঙ্গে জড়িত। তারাই মূলত পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে পোশাক তৈরি করছে (কাপড় কেনাসহ)। আগের সরকার পরিবর্তন হলেও শেষ হয়ে যায়নি সিন্ডিকেটের তৎপরতা।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগন ও পুলিশে আবারও দাবি উঠেছে আগের পোশাকে ফিরে যেতে। এমনকি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে আগের পোশাকই পুলিশের ঐতিহ্য। এই বিবৃতির পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের হাইকমান্ডে আলোচনা হয়েছে।
এর পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরও আলাদাভাবে বিশেষ বৈঠক করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, আগের পোশাকে ফিরে যেতে সরকারের হাইকমান্ড থেকে মৌখিকভাবে নির্দেশনা এসেছে। বর্তমানে পুলিশ যে ধরনের পোশাক ব্যবহার করছে সেটি দেখলে মনে হচ্ছে বাসা অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড।
এ নিয়ে পুলিশ কমকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যায় থেকেও অভিযোগ দিয়ে আসছে। অন্তর্বর্তী সরকার অনেকটা জোর করেই রুচিহীন রঙ ও নিম্নমানের কাপড়ে তৈরি পোশাক পুলিশকে ব্যবহার করতে বাধ্য করেছে।
তিনি আরও বলেন, পোশাক পরিবর্তনের জন্য গত সরকারের সাবেক ২ জন প্রভাবশালী উপদেষ্টা ও সাবেক ১ জন পুলিশ কর্মকর্তা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন) বেশি হস্তক্ষেপ করেছেন।
তাছাড়া পুলিশের অন্তত ১ ডজন কর্মকর্তা পেছন থেকে বেশি কলকাঠি নেড়েছেন। তাদের মধ্য ৪ জন অবসরে চলে গেছেন। তারাই মূলত ঘুরেফিরে সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকেন। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে বিষয়টি আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করব।
পুলিশ সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশ বাহিনী সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের নভেম্বরে বাহিনীটির পোশাক পরিবর্তন করে। পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে লৌহ রঙের নতুন পোশাক প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু নতুন এ পোশাক নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
তাছাড়া এই পোশাকের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পোশাকেরও অনেকটাই মিল রয়েছে। অনেক বে-সরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের রক্ষীদের পোশাকের সঙ্গেও পুলিশ বাহিনীর নতুন পোশাকের সাদৃশ্য রয়েছে।
এসব বিষয় ইতিমধ্যে নতুন সরকারের দায়িত্বশীলদের নজরে এসেছে। তারাও পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে আবার পুরনো ইউনিফর্মে ফিরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে (২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী) পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার (২, ১৩, ০০০) ও কর্মকর্তাসহ ২ লাখ ২০ হাজার।
তিনি আরও বলেন, আমরা নতুন ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পক্ষে। কারণ এই পোশাক পুলিশ বাহিনীকে ধারণ করে না কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে। আমরা কিন্তু এই ধরনের পোশাক চাইনি। আগের পোশাকেই থাকতে চেয়েছি। অনেকটা জোর করেই আমাদের নতুন পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়েছে।



















