ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo ভারত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো মণিপুর! Logo প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে ৬ জন আটক Logo শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী Logo যেসব দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও কার্যকর হয়নি Logo শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় রদবদল Logo মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি Logo একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমীর Logo ভারতীয় স্পাইসজেটকে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলো বাংলাদেশ Logo ঝটিকা মিছিল চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৮ কর্মী আটক

সাভারে লকডাউনের দ্বিতীয় দিন রয়েছে প্রথমদিনের মত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • / ১১২১ বার পড়া হয়েছে

মো: আহসান হাবীব,সাভার প্রতিনিধি ঢাকাঃ বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন, আটদিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার।

সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে সারাদেশের মত শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ অঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন যেন চলাচল না করতে পারে, তাই চেকপোস্ট বসিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে পুলিশ।

নিত্য প্রয়োজনীয় ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের চলাচল বন্ধ রয়েছে সাভারের বিভিন্ন প্রবেশ ও বাহির পথে। কঠোর লকডাউনের মধ্যে ও সাভার ও আশুলিয়ায় হাতে গোনা কয়েকটি পোশাক কারখানা খোলা থাকলেও পহেলা বৈশাখের জন্য অধিকাংশ কারখানাই বন্ধ রয়েছে।

কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় সড়কে মানুষের আনাগোনা একদমই কম।তবে বাকি গুলো আজকে থেকে সব কারখানা খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, নিরিবিলি, ধামরাই এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

এছাড়া নবীনগর-চন্দ্রা এলাকার বাইপাইল, শ্রীপুর, বাড়ইপাড়া এবং টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়া বাজার, বাইপাইল চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এদিকে সাভার ও আশুলিয়ার বিকল্প প্রবেশ-বাহির পথ বিরুলিয়া ও ধল্লা ব্রিজ এলাকায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

গত বুধবার ১৪ এপ্রিল সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক-মহাসড়কে কড়াকড়িভাবে দ্বায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। হেঁটে কেউ প্রবেশ করতে চাইলেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আবার কেউ বের হতে চাইলেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এছাড়া শুধু ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া কোনো গাড়িকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। বাইরে থেকে আগত ও সাভার থেকে বের হওয়া গাড়িগুলো ঘুরিয়ে পুনরায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

কথা হয় আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অবস্থিত এ আর নিটিং পোশাক কারখানার নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম রিপন বলেন, গতকাল লকডাউনের প্রথম দিন, পহেলা রমজান, পহেলা বৈশাখ সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। তাই গতকাল আমাদের কারখানা বন্ধ ছিলো।

লকডাউনের এ পরিস্থিতিতে আমাদের কারখানা খোলা রাখায় আমরা খুশি, কারণ, সামনে ঈদ, প্রত্যেকটা শ্রমিকের ঈদ বোনাস, বেতন দিতে হবে। আমরা সাব কন্ট্রাক্ট কাজ করি। কারখানা না চললে বোনাস, বেতন কীভাবে দেবো? আর তা ছাড়াও শিপমেন্টের শিডিউল তো আছেই। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালানোর পারমিশন দেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।

 

বাইপাইল এলাকায় চেকপোস্টে গিয়ে কথা হয় আশুলিয়া থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, আজ দ্বিতীয় দিন রোজার, পহেলা বৈশাখ থেকে কঠোর লকডাউন, জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধ থাকবে। চেকপোস্টে নির্ঘুমভাবে কাজ করে যাচ্ছে তার দল। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ সরদারের নির্দেশে সড়কে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

আমরা দু’টি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছি। রিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে থামিয়ে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, কে কোথায় কেন যাবেন। যথাযথ কারণ বলতে না পারলে গাড়ির আরোহী, চালক ও পথচারীদের গন্তব্যে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে আমিনবাজার চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, মূলত করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতেই আমরা ও আমাদের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চাচ্ছি না এবার ঈদের ছুটিতে মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাক।

করোনা ভাইরাস যেন না ছড়িয়ে পড়ে সেই দিক থেকে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। সামনে ঈদ, এ ঈদে অনেকেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করবেন। কিন্তু করোনার কারণে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই ঈদ উদযাপন করতে হবে। তাই আমরা সড়কে ২৪ ঘণ্টা কঠোর অবস্থানে রয়েছি এবং থাকবো।

ট্যাগস :

সাভারে লকডাউনের দ্বিতীয় দিন রয়েছে প্রথমদিনের মত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১

মো: আহসান হাবীব,সাভার প্রতিনিধি ঢাকাঃ বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন, আটদিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার।

সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে সারাদেশের মত শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ অঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন যেন চলাচল না করতে পারে, তাই চেকপোস্ট বসিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে পুলিশ।

নিত্য প্রয়োজনীয় ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের চলাচল বন্ধ রয়েছে সাভারের বিভিন্ন প্রবেশ ও বাহির পথে। কঠোর লকডাউনের মধ্যে ও সাভার ও আশুলিয়ায় হাতে গোনা কয়েকটি পোশাক কারখানা খোলা থাকলেও পহেলা বৈশাখের জন্য অধিকাংশ কারখানাই বন্ধ রয়েছে।

কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় সড়কে মানুষের আনাগোনা একদমই কম।তবে বাকি গুলো আজকে থেকে সব কারখানা খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, নিরিবিলি, ধামরাই এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

এছাড়া নবীনগর-চন্দ্রা এলাকার বাইপাইল, শ্রীপুর, বাড়ইপাড়া এবং টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়া বাজার, বাইপাইল চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এদিকে সাভার ও আশুলিয়ার বিকল্প প্রবেশ-বাহির পথ বিরুলিয়া ও ধল্লা ব্রিজ এলাকায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

গত বুধবার ১৪ এপ্রিল সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক-মহাসড়কে কড়াকড়িভাবে দ্বায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। হেঁটে কেউ প্রবেশ করতে চাইলেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আবার কেউ বের হতে চাইলেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এছাড়া শুধু ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া কোনো গাড়িকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। বাইরে থেকে আগত ও সাভার থেকে বের হওয়া গাড়িগুলো ঘুরিয়ে পুনরায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

কথা হয় আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অবস্থিত এ আর নিটিং পোশাক কারখানার নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম রিপন বলেন, গতকাল লকডাউনের প্রথম দিন, পহেলা রমজান, পহেলা বৈশাখ সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। তাই গতকাল আমাদের কারখানা বন্ধ ছিলো।

লকডাউনের এ পরিস্থিতিতে আমাদের কারখানা খোলা রাখায় আমরা খুশি, কারণ, সামনে ঈদ, প্রত্যেকটা শ্রমিকের ঈদ বোনাস, বেতন দিতে হবে। আমরা সাব কন্ট্রাক্ট কাজ করি। কারখানা না চললে বোনাস, বেতন কীভাবে দেবো? আর তা ছাড়াও শিপমেন্টের শিডিউল তো আছেই। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালানোর পারমিশন দেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।

 

বাইপাইল এলাকায় চেকপোস্টে গিয়ে কথা হয় আশুলিয়া থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, আজ দ্বিতীয় দিন রোজার, পহেলা বৈশাখ থেকে কঠোর লকডাউন, জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধ থাকবে। চেকপোস্টে নির্ঘুমভাবে কাজ করে যাচ্ছে তার দল। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ সরদারের নির্দেশে সড়কে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

আমরা দু’টি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছি। রিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে থামিয়ে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, কে কোথায় কেন যাবেন। যথাযথ কারণ বলতে না পারলে গাড়ির আরোহী, চালক ও পথচারীদের গন্তব্যে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে আমিনবাজার চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, মূলত করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতেই আমরা ও আমাদের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চাচ্ছি না এবার ঈদের ছুটিতে মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাক।

করোনা ভাইরাস যেন না ছড়িয়ে পড়ে সেই দিক থেকে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। সামনে ঈদ, এ ঈদে অনেকেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করবেন। কিন্তু করোনার কারণে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই ঈদ উদযাপন করতে হবে। তাই আমরা সড়কে ২৪ ঘণ্টা কঠোর অবস্থানে রয়েছি এবং থাকবো।