ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হানাহানিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রশস্ত হচ্ছে!

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১২১০ বার পড়া হয়েছে

হানাহানিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রশস্ত হচ্ছে!

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া সর্বশেষ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রেক্ষিতে রাজনীতির সকল অনিশ্চয়তার অবসান ঘটার আশা করা গিয়েছিল।

কিন্তু নির্বাচনের পাঁচ মাস বাকি থাকতে দলগুলো জনগণের দ্বারে না গিয়ে, ভোটারদের মন পাওয়ার চেষ্টার পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতারা তাদের নিত্যকার বক্তব্যে নিজেদের পরস্পরবিরোধী, বিদ্বেষমূলক এবং অনড় অবস্থানের কথাই বেশি জানান দিচ্ছেন। এতে করে দেশপ্রেমিক জনগণ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক হানাহানিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রশস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষিতে দেশে প্রধান রাজনৈতিক দলের সংখ্যা দুইটি। তরুণদের এনসিপি এখনো পুরোপুরি একটি দলের রূপ পরিগ্রহ করতে পারেনি।

আগামী নির্বাচনে এনসিপি একক শক্তি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে নাকি বিএনপি অথবা জামায়াতের সঙ্গী হবে কিংবা বিভক্ত হয়ে ভিন্ন পথের পথিক হবে, সেটা আমাদের অনুমানের বাহিরে।

বর্তমানে এনসিপির নির্বাচনে অনাগ্রহ অনেকটাই স্পষ্ট। তাদের প্রধান দাবি দুটি। প্রথমত এনসিপি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন দেখতে চায়। দ্বিতীয়ত তারা ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য প্রথমে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি তুলেছে।

এছাড়া তারা যুক্তরাজ্যের সংসদীয় নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তে জার্মানির ধাঁচে পিআর পদ্ধতির পক্ষে বলেই মনে হচ্ছে।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে আপত্তি না থাকলেও দলের শীর্ষ নেতারা পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে বিভিন্ন সভায় জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন। এই বক্তব্যে দলটি শেষ পর্যন্ত অনড় থাকবে কি না তা সময় বলে দিবে।

আরেক রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ছোট ছোট অনেক রাজনৈতিক দল তাদেরকে বিভিন্ন সভা সমাবেশে পিআর পদ্ধটিতে নির্বাচনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছে।

বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে বিজয় সুনিশ্চিত ধরে নিয়ে বর্তমান সংবিধানের অধীনে আগের নিয়মেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচনে যেতে চায়। স্বাভাবিকভাবেই, বিএনপি পিআর কিংবা গণপরিষদ, কোনোটাই চায় না।

নানা কারণে জুলাইযোদ্ধাদের আর আগের অবস্থান নেই যে তারা কোনো দাবি মানতে সরকারকে এখন বাধ্য করতে পারে। রূঢ় বাস্তবতা হলো, এদের ডাকে জনগণ আর রাস্তায় নামবে না। তরুণদের অপরিসীম সাহসের প্রশংসা পেলেও, তাদের আত্মসংযম এবং বিচক্ষণতার অভাবকে উপেক্ষা করতে পারি না।

রাজনীতি করতে হলে প্রশংসা এবং তিরস্কার, দুটোকেই স্বীকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য ড. ইউনূস সরকারের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মতোই দ্রুত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া দরকার। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কোনো দল আগামী ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় এলে তাদের মধ্যে দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নের কোনো আগ্রহ নাও থাকতে পারে।

দেশের সব রাজনৈতিক দল গুরুদায়িত্ব উপলব্ধি করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আপময় মানুষের সেবক হিসাবে কাজ করবে এটা আমার প্রত্যাশা।

১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশের জনগণ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছিলো। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে আড়ালে আবডালে কিছু প্রশ্ন রয়েছে।

আমরা আশা করি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের প্রত্যাশিত নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফেরার সুযোগ পাবে। ড. ইউনূস তার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন সেই আশা সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের।

ট্যাগস :

হানাহানিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রশস্ত হচ্ছে!

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

হানাহানিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রশস্ত হচ্ছে!

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া সর্বশেষ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রেক্ষিতে রাজনীতির সকল অনিশ্চয়তার অবসান ঘটার আশা করা গিয়েছিল।

কিন্তু নির্বাচনের পাঁচ মাস বাকি থাকতে দলগুলো জনগণের দ্বারে না গিয়ে, ভোটারদের মন পাওয়ার চেষ্টার পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতারা তাদের নিত্যকার বক্তব্যে নিজেদের পরস্পরবিরোধী, বিদ্বেষমূলক এবং অনড় অবস্থানের কথাই বেশি জানান দিচ্ছেন। এতে করে দেশপ্রেমিক জনগণ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক হানাহানিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রশস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষিতে দেশে প্রধান রাজনৈতিক দলের সংখ্যা দুইটি। তরুণদের এনসিপি এখনো পুরোপুরি একটি দলের রূপ পরিগ্রহ করতে পারেনি।

আগামী নির্বাচনে এনসিপি একক শক্তি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে নাকি বিএনপি অথবা জামায়াতের সঙ্গী হবে কিংবা বিভক্ত হয়ে ভিন্ন পথের পথিক হবে, সেটা আমাদের অনুমানের বাহিরে।

বর্তমানে এনসিপির নির্বাচনে অনাগ্রহ অনেকটাই স্পষ্ট। তাদের প্রধান দাবি দুটি। প্রথমত এনসিপি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন দেখতে চায়। দ্বিতীয়ত তারা ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য প্রথমে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি তুলেছে।

এছাড়া তারা যুক্তরাজ্যের সংসদীয় নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তে জার্মানির ধাঁচে পিআর পদ্ধতির পক্ষে বলেই মনে হচ্ছে।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে আপত্তি না থাকলেও দলের শীর্ষ নেতারা পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে বিভিন্ন সভায় জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন। এই বক্তব্যে দলটি শেষ পর্যন্ত অনড় থাকবে কি না তা সময় বলে দিবে।

আরেক রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ছোট ছোট অনেক রাজনৈতিক দল তাদেরকে বিভিন্ন সভা সমাবেশে পিআর পদ্ধটিতে নির্বাচনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছে।

বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে বিজয় সুনিশ্চিত ধরে নিয়ে বর্তমান সংবিধানের অধীনে আগের নিয়মেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচনে যেতে চায়। স্বাভাবিকভাবেই, বিএনপি পিআর কিংবা গণপরিষদ, কোনোটাই চায় না।

নানা কারণে জুলাইযোদ্ধাদের আর আগের অবস্থান নেই যে তারা কোনো দাবি মানতে সরকারকে এখন বাধ্য করতে পারে। রূঢ় বাস্তবতা হলো, এদের ডাকে জনগণ আর রাস্তায় নামবে না। তরুণদের অপরিসীম সাহসের প্রশংসা পেলেও, তাদের আত্মসংযম এবং বিচক্ষণতার অভাবকে উপেক্ষা করতে পারি না।

রাজনীতি করতে হলে প্রশংসা এবং তিরস্কার, দুটোকেই স্বীকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য ড. ইউনূস সরকারের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মতোই দ্রুত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া দরকার। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কোনো দল আগামী ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় এলে তাদের মধ্যে দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নের কোনো আগ্রহ নাও থাকতে পারে।

দেশের সব রাজনৈতিক দল গুরুদায়িত্ব উপলব্ধি করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আপময় মানুষের সেবক হিসাবে কাজ করবে এটা আমার প্রত্যাশা।

১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশের জনগণ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছিলো। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে আড়ালে আবডালে কিছু প্রশ্ন রয়েছে।

আমরা আশা করি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের প্রত্যাশিত নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফেরার সুযোগ পাবে। ড. ইউনূস তার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন সেই আশা সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের।