ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:

মিত্রদের ধ্বংস দেখেও চীন নীরব! লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে

মিত্রদের ধ্বংস দেখেও চীন নীরব! লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মিত্র দেশ গুলো হুমকির মুখে পড়লেও চীনের নীরবতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বেইজিংয় ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মাদুরোকে আটক ও খামেনি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় চীন ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের প্রধান লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে বদ্ধ পরিকর।

বিশ্লেষকরা বলছে, ইরানের জন্য চীনের ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার সীমিত। বেইজিং ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হলেও সামরিক সহযোগিতা সীমিত এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের তুলনায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত।

বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দেন, চীনের জন্য স্বল্পমেয়াদে বিঘ্ন অস্বীকারযোগ্য হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীতে বিপদের কারণে জ্বালানি খাতে প্রভাব পড়বে। ইরানের প্রায় সব অপরিশোধিত তেল চীনে যায়, যা দেশের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ১৩ শতাংশ।

চীনা বিশেষজ্ঞ ঝু ঝাওয়ি বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত চীনের জন্য কিছু কাঠামোগত সুযোগও তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গভীর সম্পৃক্ততা অন্য দিকে সরিয়ে দেয়, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চাপ সীমিত করে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, চীনের এই নিষ্ক্রিয়তা ট্রাম্প প্রশাসনের আরও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপকে উৎসাহিত করতে পারে। তবে চীন ইরান ও অন্যান্য মিত্রকে সীমিত সহায়তা দিয়ে কৌশলগত অবস্থান শক্ত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।

চীনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, মিত্রদের সঙ্গে সীমিত সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

দৈনিক আস্থা/এম এইচ

ট্যাগস :

মিত্রদের ধ্বংস দেখেও চীন নীরব! লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা

আপডেট সময় : ০৯:৫০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মিত্রদের ধ্বংস দেখেও চীন নীরব! লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মিত্র দেশ গুলো হুমকির মুখে পড়লেও চীনের নীরবতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বেইজিংয় ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মাদুরোকে আটক ও খামেনি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় চীন ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের প্রধান লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে বদ্ধ পরিকর।

বিশ্লেষকরা বলছে, ইরানের জন্য চীনের ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার সীমিত। বেইজিং ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হলেও সামরিক সহযোগিতা সীমিত এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের তুলনায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত।

বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দেন, চীনের জন্য স্বল্পমেয়াদে বিঘ্ন অস্বীকারযোগ্য হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীতে বিপদের কারণে জ্বালানি খাতে প্রভাব পড়বে। ইরানের প্রায় সব অপরিশোধিত তেল চীনে যায়, যা দেশের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ১৩ শতাংশ।

চীনা বিশেষজ্ঞ ঝু ঝাওয়ি বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত চীনের জন্য কিছু কাঠামোগত সুযোগও তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গভীর সম্পৃক্ততা অন্য দিকে সরিয়ে দেয়, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চাপ সীমিত করে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, চীনের এই নিষ্ক্রিয়তা ট্রাম্প প্রশাসনের আরও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপকে উৎসাহিত করতে পারে। তবে চীন ইরান ও অন্যান্য মিত্রকে সীমিত সহায়তা দিয়ে কৌশলগত অবস্থান শক্ত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।

চীনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, মিত্রদের সঙ্গে সীমিত সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

দৈনিক আস্থা/এম এইচ