ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী Logo ১৬ মাসে ৫৬০ হয়রানি, ১১৪৪ সাংবাদিক আক্রান্ত Logo ভোলায় প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ Logo উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে ৫শ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান Logo প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট Logo খাগড়াছড়ি প্রার্থীদের সাথে খাগড়াছড়িতে সেনা বাহীনির মতবিনিময় Logo খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে ৬ প্রার্থীর বৈঠকের গুঞ্জন Logo খাগড়াছড়িতে ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ

ভৈরবে বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের নারী-পুরুষের সংঘর্ষে আহত ৩০

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩
  • / ১০৯৩ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আঞ্চলিক মহাসড়কের আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের একক নামকরণকে কেন্দ্র করে মিরারচর ও আকবর নগর গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দু’পক্ষের অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন। ওই সংঘর্ষে নারীরাও ঘরে বসে নেই। হাটু পানি ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে নারীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আকবরনগর বাসস্ট্যান্ডের নামকরণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে (১২আগস্ট) শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে বিকাল তিনটা পর্যন্ত উপজেলার আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসী লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। সংঘর্ষের সময় দুটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় এবং বেশকিছু ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন আকবর নগর গ্রামবাসী লোকজন। এদিকে মিরারচর গ্রামবাসী জানান, বাসস্ট্যান্ডে আসলে কিছুদিন পরপরই আকবর নগরের লোকজন আমাদের লোকজনকে মারধর করেন।

বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নাম নিয়ে গতকাল রাত থেকেই থমথমে অবস্থা ছিলো, আজ সকালে তুমুলঝগড়া শুরু হয়। আমরা চাই বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নাম আকবর নগরের নামে না হয়ে যেন আকবর নগর-মিরারচর দুই গ্রামের নামে নামকরণ করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলে দুই পক্ষের লোকজন বৃষ্টি উপেক্ষা করে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকেন। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দীর্ঘ ৬ ঘন্টা সংঘর্ষ চলার পর ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাকছুদুল আলমের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ওই এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কালিকাপ্রসাদ ইউপির চেয়ারম্যান মো. লিটন মিয়া বলেন, আকবর নগর বাসস্ট্যান্ড নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের একটি সাইনবোর্ডে বাজারের নাম নিয়ে চলতি বছরের ১০জুলাই, সোমবার সকালে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবর নগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনাটি সালিসি দরবারে মীমাংসা হয়। পূর্ব সংঘর্ষের জেরে বাসস্ট্যান্ডের নামকরণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আজ শনিবার সকালে আবারো দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আকরনগর ও মিরারচর দুই গ্রামবাসী লোকজন। মিরারচর গ্রামবাসীর দাবি বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নাম একক না হয়ে যেন আকবর নগর ও মিরারচরের নামে নামকরণ করা হয়। তাহলেই এসমস্যার সমাধান হতে পারে।

ট্যাগস :

ভৈরবে বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের নারী-পুরুষের সংঘর্ষে আহত ৩০

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আঞ্চলিক মহাসড়কের আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের একক নামকরণকে কেন্দ্র করে মিরারচর ও আকবর নগর গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দু’পক্ষের অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন। ওই সংঘর্ষে নারীরাও ঘরে বসে নেই। হাটু পানি ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে নারীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আকবরনগর বাসস্ট্যান্ডের নামকরণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে (১২আগস্ট) শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে বিকাল তিনটা পর্যন্ত উপজেলার আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসী লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। সংঘর্ষের সময় দুটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় এবং বেশকিছু ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন আকবর নগর গ্রামবাসী লোকজন। এদিকে মিরারচর গ্রামবাসী জানান, বাসস্ট্যান্ডে আসলে কিছুদিন পরপরই আকবর নগরের লোকজন আমাদের লোকজনকে মারধর করেন।

বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নাম নিয়ে গতকাল রাত থেকেই থমথমে অবস্থা ছিলো, আজ সকালে তুমুলঝগড়া শুরু হয়। আমরা চাই বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নাম আকবর নগরের নামে না হয়ে যেন আকবর নগর-মিরারচর দুই গ্রামের নামে নামকরণ করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলে দুই পক্ষের লোকজন বৃষ্টি উপেক্ষা করে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকেন। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দীর্ঘ ৬ ঘন্টা সংঘর্ষ চলার পর ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাকছুদুল আলমের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ওই এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কালিকাপ্রসাদ ইউপির চেয়ারম্যান মো. লিটন মিয়া বলেন, আকবর নগর বাসস্ট্যান্ড নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের একটি সাইনবোর্ডে বাজারের নাম নিয়ে চলতি বছরের ১০জুলাই, সোমবার সকালে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবর নগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনাটি সালিসি দরবারে মীমাংসা হয়। পূর্ব সংঘর্ষের জেরে বাসস্ট্যান্ডের নামকরণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আজ শনিবার সকালে আবারো দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আকরনগর ও মিরারচর দুই গ্রামবাসী লোকজন। মিরারচর গ্রামবাসীর দাবি বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নাম একক না হয়ে যেন আকবর নগর ও মিরারচরের নামে নামকরণ করা হয়। তাহলেই এসমস্যার সমাধান হতে পারে।