ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী Logo যেসব দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও কার্যকর হয়নি Logo শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় রদবদল Logo মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি Logo একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমীর Logo ভারতীয় স্পাইসজেটকে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলো বাংলাদেশ Logo ঝটিকা মিছিল চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৮ কর্মী আটক Logo ইউনূস সরকারের শেষ সময়ের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক কেন? Logo প্রথম আলোয় হামলা: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা-ফাওজুল কবীর

ক্ষতিকর  তামাকের চাষ বাড়ছে রাজবাড়ীতে

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১
  • / ১০৬৩ বার পড়া হয়েছে

 

ক্ষতিকর  তামাকের চাষ বাড়ছে রাজবাড়ীতে

আবুল কালাম আজাদ রাজবাড়ী ঃ

দিনকে দিন  বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ বেড়েই চলেছে রাজবাড়ীতে। তামাকে জমি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি জেনেও ঝামেলা কম, আর ধান গমের চেয়ে লাভ বেশি এবং বিক্রিতে কোনো ঝঞ্ঝাট নাই বলে কৃষকরা অধিক লাভের আশায় তামাকের চাষ ছাড়চ্ছেন না। তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, তামাক চাষ আগের চেয়ে কমেছে।

ধান গম ও পেয়াঝ ক্ষেতের পাশেই বিষ বৃক্ষ তামাকের চাষ হচ্ছে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন মাঠে। কৃষকরা বলছে, দেশি ও বিদেশী তামাক কোম্পানী তামাক চাষের জন্য আগে থেকেই দাদনের মত বীজ, সার ও কামলার টাকা অগ্রীম দিয়ে যায়। তাই আমরা প্রতি বছরই তামাকের চাষ করি। তামাক উৎপাদনের পরপরই ওই কোম্পানীর গাড়ী এসে আমাদের ঘর থেকেই নগদ টাকা দিয়ে তামাক নিয়ে যায়। এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত তামাক খরচ বাদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়। কোন ঝামালো হয় না।

তবে কোন কোন কৃষক স্বাস্থ্যের ঝুকির কথা চিন্তা করে এই বিষ বৃক্ষের চাষাবাদ বাদ দিয়েছেন। রাজবাড়ী জেলা সদরের মিজানপুর, রামকান্তপুর, বসন্তপুর, পাংশা, কালুখালি ও বালিয়াকান্দি উপজেলার ২৪ ইউনিয়নেরই ও পাংশা পৌর এলাকাও বিভিন্ন ফসলি মাঠে ব্যপকহারে এই বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ হচ্ছে।

এসব অঞ্চলে কোণভাবেই দীর্ঘদিন এর আবাদে জনস্বাস্থ্য ও জমির ক্ষতিকর প্রচারনা চালায়েও তামাকের আবাদ কমানো যাচ্ছে না। অথচ প্রকাশ্যে তামাকের ব্যবহারে জরিমানা করার বিধান থাকালেও প্রশাসনিকভাবে এর প্রয়োগ নেই বলে তামাকের চাষ ও ব্যাবহার কমছেনা বলে এর ভুক্তভোগী অভিজ্ঞমহল মতামত ব্যাক্ত করেন।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ ইব্রাহিম টিটন জানান,তামাক চাষী,শ্রমিক ও তামাক সেবনের ফলে প্রত্যেকের শ্বাসকষ্ট, করোনা মারাত্ব ঝঁকি ও ক্যান্সার হবেই। জেলার বিভিন্ন হাসাপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালে বছরে প্রায় বিষ হাজার রোগী তামাক সেবন ও ব্যবহারের ফলে রোগী হয়ে চিকিৎসা গ্রহন করেছে। অনেক চিকিৎসক ওইসব রোগীর চিকিৎসাও করেন না।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সস্মপ্রসারন কর্মকর্তা এস এম শহিদ আকবর বলেন, দশ বছর ধরে প্রতি বছরই তামাকের আবাদ কমছে। আর মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের তামাক চাষে জমি ও স্বাস্থ্যর এবং অণ্যান্য ফসলের ক্ষতিকর কথা বুজাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এতে কাজ হচ্ছে।

তামাকে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমান বেশি তা কৃষকদের বুঝাতে কৃষি বিভাগ ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অভিজ্ঞ মহল চাষ সরকার ও কৃষি বিভাগ করাকড়ি আইন করে তামাকের চাষ বন্ধ না করলে,এই বিষ বৃক্ষের আবাদ কমবে না।

[irp]

ট্যাগস :

ক্ষতিকর  তামাকের চাষ বাড়ছে রাজবাড়ীতে

আপডেট সময় : ০৭:২৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

 

ক্ষতিকর  তামাকের চাষ বাড়ছে রাজবাড়ীতে

আবুল কালাম আজাদ রাজবাড়ী ঃ

দিনকে দিন  বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ বেড়েই চলেছে রাজবাড়ীতে। তামাকে জমি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি জেনেও ঝামেলা কম, আর ধান গমের চেয়ে লাভ বেশি এবং বিক্রিতে কোনো ঝঞ্ঝাট নাই বলে কৃষকরা অধিক লাভের আশায় তামাকের চাষ ছাড়চ্ছেন না। তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, তামাক চাষ আগের চেয়ে কমেছে।

ধান গম ও পেয়াঝ ক্ষেতের পাশেই বিষ বৃক্ষ তামাকের চাষ হচ্ছে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন মাঠে। কৃষকরা বলছে, দেশি ও বিদেশী তামাক কোম্পানী তামাক চাষের জন্য আগে থেকেই দাদনের মত বীজ, সার ও কামলার টাকা অগ্রীম দিয়ে যায়। তাই আমরা প্রতি বছরই তামাকের চাষ করি। তামাক উৎপাদনের পরপরই ওই কোম্পানীর গাড়ী এসে আমাদের ঘর থেকেই নগদ টাকা দিয়ে তামাক নিয়ে যায়। এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত তামাক খরচ বাদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়। কোন ঝামালো হয় না।

তবে কোন কোন কৃষক স্বাস্থ্যের ঝুকির কথা চিন্তা করে এই বিষ বৃক্ষের চাষাবাদ বাদ দিয়েছেন। রাজবাড়ী জেলা সদরের মিজানপুর, রামকান্তপুর, বসন্তপুর, পাংশা, কালুখালি ও বালিয়াকান্দি উপজেলার ২৪ ইউনিয়নেরই ও পাংশা পৌর এলাকাও বিভিন্ন ফসলি মাঠে ব্যপকহারে এই বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ হচ্ছে।

এসব অঞ্চলে কোণভাবেই দীর্ঘদিন এর আবাদে জনস্বাস্থ্য ও জমির ক্ষতিকর প্রচারনা চালায়েও তামাকের আবাদ কমানো যাচ্ছে না। অথচ প্রকাশ্যে তামাকের ব্যবহারে জরিমানা করার বিধান থাকালেও প্রশাসনিকভাবে এর প্রয়োগ নেই বলে তামাকের চাষ ও ব্যাবহার কমছেনা বলে এর ভুক্তভোগী অভিজ্ঞমহল মতামত ব্যাক্ত করেন।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ ইব্রাহিম টিটন জানান,তামাক চাষী,শ্রমিক ও তামাক সেবনের ফলে প্রত্যেকের শ্বাসকষ্ট, করোনা মারাত্ব ঝঁকি ও ক্যান্সার হবেই। জেলার বিভিন্ন হাসাপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালে বছরে প্রায় বিষ হাজার রোগী তামাক সেবন ও ব্যবহারের ফলে রোগী হয়ে চিকিৎসা গ্রহন করেছে। অনেক চিকিৎসক ওইসব রোগীর চিকিৎসাও করেন না।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সস্মপ্রসারন কর্মকর্তা এস এম শহিদ আকবর বলেন, দশ বছর ধরে প্রতি বছরই তামাকের আবাদ কমছে। আর মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের তামাক চাষে জমি ও স্বাস্থ্যর এবং অণ্যান্য ফসলের ক্ষতিকর কথা বুজাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এতে কাজ হচ্ছে।

তামাকে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমান বেশি তা কৃষকদের বুঝাতে কৃষি বিভাগ ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অভিজ্ঞ মহল চাষ সরকার ও কৃষি বিভাগ করাকড়ি আইন করে তামাকের চাষ বন্ধ না করলে,এই বিষ বৃক্ষের আবাদ কমবে না।

[irp]