পাংশায় আদিবাসীর বসত ভিটা দখল করে, দেশ থেকে বিতাড়িত করার পায়তারা চালাচ্ছে
আবুল কালাম আজাদ রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভা এলাকায় ১২শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী কোপেন ও কোহেন নামের আপন দুই ভাই। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এমপির চাচাতো ভাই নাজমুল হাকিম রুমি তার অস্ত্রধারি ক্যাডার বাহিনীসহ গিয়ে বৃদ্ধ আদিবাসী আরতি রানী সরদার কে ঘর থেকে বেড় করে দেয়। ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে জানাযায় কোপেন ও কোহেনর টাকা খেয়ে নাজমুল হাকিম রুমি উক্ত ঘটনা ঘটিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরতি রানী সরদারের বসত ভিটা আর কোপেন ও কোহেনর বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় প্রভাবশালী কোপেন, কোহেন আরতি রানীর জায়গা দখল করে প্রাচীর দিয়েছে। সাংবাদিক উক্ত স্থানে যেতে চাইলে কোপেন ও কোহেন বাধা দেয় এবং বলতে থাকে ওটা আমার জায়গা কাউকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।
তবে স্থানীয় দেনাদার দের মাধ্যমে জানাযায় ওই জাইগার দাম প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই জাইগা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রভাব শালী মহল শালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছে কিন্তু সুরাহা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন সাংবাদিকদের জানান, এই জমি নিয়ে কয়েক বছর আগে স্থানীয় এমপির বাসায় উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে শালিস হয় সেখানে একপর্যায়ে আরতি রানী কে ৩৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে কোপেন ও কোয়েল কে। তবে সেই টাকা দিতে প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হয়। যখন টাকা এনে বলে চলো এবার জমি রেজিস্ট্রি করতে চলো, তখন আরতি রানী বলে আমার নাকি জমি নাই তবে আমি রেজিস্ট্রি করে দিবো কেমনে। আমি রেজিস্ট্রি করে দিবো না মামলায় যা হয় সেটা মেনে নিবো।
স্থানীয় অনেকেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, উক্ত জমি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে হামলা ও হুমকির ব্যাপারে পাংশা মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল। জমি দাবিদার হিসেবে কোপেন ও কোহেন জমির দাগ নম্বর ভুল রয়েছে এই মর্মে বাদী দাবি করেন যে ভুলক্রমে ৬৮১ দাগের স্থলে ৮৬১ দাগ লিখিত হলেও তিনি দাতার কাছ থেকে ৬৮১ দাগের জমি খরিদ করেছেন, তবে নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায় আপিলকারি বাদীপক্ষ ইতিপূর্বে ভুলের বিষয়ে দলিল সংশোধনের কোন মামলা দায়ের করেন নাই।
তবে দেখা যায় ২১/০৩/২১ তারিখে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ রশিদে আরতি রানী সরদার তার উক্ত জমির খাজনা পরিশোধ করেছেন।
তবে মামলা চলাকালীন সময় উক্ত জমি থেকে জোর পূর্বক আদিবাসী আরতি রানী সরদার কে কেনো তুলে দিলো কোপেন ও কোহেন সেটা কি প্রশাসন দেখবে না?
বর্তমানে আরতি ও তার পরিবারে জীবন সংকটে, তারা পালিয়ে জীবন যাপন করছে।