ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী Logo যেসব দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও কার্যকর হয়নি Logo শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় রদবদল Logo মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি Logo একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমীর Logo ভারতীয় স্পাইসজেটকে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলো বাংলাদেশ Logo ঝটিকা মিছিল চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৮ কর্মী আটক Logo ইউনূস সরকারের শেষ সময়ের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক কেন? Logo প্রথম আলোয় হামলা: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা-ফাওজুল কবীর

মধ্যরাতে বিধবার ঘরে মেম্বার!,সালিসে বিয়ে

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মে ২০২১
  • / ১০৪৯ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্কঃ মধ্যরাতে এক বিধবা নারীর ঘর থেকে এক মেম্বারকে আটক করেছে এলাকাবাসী। রাতে ওই ঘরে মেম্বারে উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরেরে বাইরে থেকে তালা মেরে দেয় স্থানীয়রা। পরে তাদের নিয়ে বসে সালিস। সেই সালিসে দুজনই বিয়েতে সম্মতি দিলে তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। ঘটনা শুনে পুলিশ আসার আগেই বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। পরে পুলিশ ফিরে যায় থানায়। আর বিয়ে করে মেম্বার ওই নারীকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

আজ রবিবার সকাল ৭টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের বালিহাটা গ্রামে এ বিয়ে পড়ানো হয়। অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম চার সন্তানের জনক। গত শনিবার গভীর রাতে তিনি তাঁর ওয়ার্ডের এক নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। ওই নারীর স্বামী প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা গেলেও তার দুটি সন্তান রয়েছে। এ অবস্থায় রাত ১২টার পর এলাকার লোকজন ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে মেম্বার সাইফুল ইসলামসহ নারীকে ঘরে আটকে রাখে।

[irp]

এলাকাবাসী থেকে ঘটনার খবর পায় ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। এক পর্যায়ে উপপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম রাত ১টার দিকে তাদের থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু সালিসকারীরা তাকে বাঁধা দেয়। রাতভর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ওই নারী রাজী থাকলে মেম্বার সাইফুল ইসলাম তাকে বিয়ে করবেন। পরে আজ রবিবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় কাজী ডেকে এনে সাড়ে তিন লাখ টাকার দেনমোহর ধার্য্য করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের প বিধবা নারীকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মেম্বার সাইফুল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নয়ন মিয়া বলেন, অনেক লোকজনের সামনে ওই নারী জানিয়েছেন- বিধবা ভাতার কার্ড দিবে বলে তাঁর সাথে সর্ম্পক করে মেম্বার। এ অবস্থায় গত দুই বছর ধরে সর্ম্পক চলছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম জানান, বিধবা ভাতার কার্ডের তথ্য নিতে আজ রাতে আসছিলেন মেম্বার। এর আগেও এসেছেন। দুজনই তিনি বিয়ে করতে রাজী। বিয়ে করলে ওই নারী কোনো অভিযোগ করবেন না। এ অবস্থায় দুজনকে রেখেই চলে এসেছেন।

বিয়ের কাজী মাহববুব জানান, তাকে সকালে ডেকে আনা হয়েছে। পরে এসে জানতে পারেন দুজনকে বিয়ে পড়াতে হবে। এ অবস্থায় দুজনের সম্মতিতেই বিয়ে পড়ানো হয়। মেম্বারের প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে কাজী বলেন, এটা একটা খসড়া করেছি। মেম্বার বলেছেন আগামি ২/৩ দিনের মধ্যে তাঁর প্রথম স্ত্রীর অনুমতি এনে দেবেন। না দিলে রেজিস্ট্রি হবে না।

এ ঘটনাটি জানতে সাইফুল মেম্বারের মোবাইল নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন দিলে ফোন ধরেন অন্য একজন। তিনি বলেন, ‘চাচা ফোন রাইখ্যা ঘুমাইছে।

ট্যাগস :

মধ্যরাতে বিধবার ঘরে মেম্বার!,সালিসে বিয়ে

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মে ২০২১

অনলাইন ডেস্কঃ মধ্যরাতে এক বিধবা নারীর ঘর থেকে এক মেম্বারকে আটক করেছে এলাকাবাসী। রাতে ওই ঘরে মেম্বারে উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরেরে বাইরে থেকে তালা মেরে দেয় স্থানীয়রা। পরে তাদের নিয়ে বসে সালিস। সেই সালিসে দুজনই বিয়েতে সম্মতি দিলে তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। ঘটনা শুনে পুলিশ আসার আগেই বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। পরে পুলিশ ফিরে যায় থানায়। আর বিয়ে করে মেম্বার ওই নারীকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

আজ রবিবার সকাল ৭টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের বালিহাটা গ্রামে এ বিয়ে পড়ানো হয়। অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম চার সন্তানের জনক। গত শনিবার গভীর রাতে তিনি তাঁর ওয়ার্ডের এক নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। ওই নারীর স্বামী প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা গেলেও তার দুটি সন্তান রয়েছে। এ অবস্থায় রাত ১২টার পর এলাকার লোকজন ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে মেম্বার সাইফুল ইসলামসহ নারীকে ঘরে আটকে রাখে।

[irp]

এলাকাবাসী থেকে ঘটনার খবর পায় ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। এক পর্যায়ে উপপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম রাত ১টার দিকে তাদের থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু সালিসকারীরা তাকে বাঁধা দেয়। রাতভর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ওই নারী রাজী থাকলে মেম্বার সাইফুল ইসলাম তাকে বিয়ে করবেন। পরে আজ রবিবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় কাজী ডেকে এনে সাড়ে তিন লাখ টাকার দেনমোহর ধার্য্য করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের প বিধবা নারীকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মেম্বার সাইফুল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নয়ন মিয়া বলেন, অনেক লোকজনের সামনে ওই নারী জানিয়েছেন- বিধবা ভাতার কার্ড দিবে বলে তাঁর সাথে সর্ম্পক করে মেম্বার। এ অবস্থায় গত দুই বছর ধরে সর্ম্পক চলছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম জানান, বিধবা ভাতার কার্ডের তথ্য নিতে আজ রাতে আসছিলেন মেম্বার। এর আগেও এসেছেন। দুজনই তিনি বিয়ে করতে রাজী। বিয়ে করলে ওই নারী কোনো অভিযোগ করবেন না। এ অবস্থায় দুজনকে রেখেই চলে এসেছেন।

বিয়ের কাজী মাহববুব জানান, তাকে সকালে ডেকে আনা হয়েছে। পরে এসে জানতে পারেন দুজনকে বিয়ে পড়াতে হবে। এ অবস্থায় দুজনের সম্মতিতেই বিয়ে পড়ানো হয়। মেম্বারের প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে কাজী বলেন, এটা একটা খসড়া করেছি। মেম্বার বলেছেন আগামি ২/৩ দিনের মধ্যে তাঁর প্রথম স্ত্রীর অনুমতি এনে দেবেন। না দিলে রেজিস্ট্রি হবে না।

এ ঘটনাটি জানতে সাইফুল মেম্বারের মোবাইল নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন দিলে ফোন ধরেন অন্য একজন। তিনি বলেন, ‘চাচা ফোন রাইখ্যা ঘুমাইছে।