ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী Logo ১৬ মাসে ৫৬০ হয়রানি, ১১৪৪ সাংবাদিক আক্রান্ত Logo ভোলায় প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ Logo উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে ৫শ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান Logo প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট Logo খাগড়াছড়ি প্রার্থীদের সাথে খাগড়াছড়িতে সেনা বাহীনির মতবিনিময় Logo খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে ৬ প্রার্থীর বৈঠকের গুঞ্জন Logo খাগড়াছড়িতে ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ

সাতক্ষীরা মেডিকেলে অক্সিজেন সরবরাহ বিপর্যয়ে ৭ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

News Editor
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১
  • / ১০৫২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা মেডিকেলে অক্সিজেন সরবরাহ বিপর্যয়ে ৭ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহে যথেষ্ট প্রেসার না থাকায় সাত রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ বিপর্যয় ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, দুতিন ঘণ্টা সমস্যা ছিল। এর মধ্যে আইসিইউতে থাকা একজন কোভিড রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

অক্সিজেন সংকটে মারা যাওয়া রোগীরা হলেন– করোনা পজিটিভ রোগী কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলা এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আকরাম হোসেন খান (৬৩), শহরের ইটাগাছা এলাকার মফিজুল ইসলামের স্ত্রী খাইরুন নেছা (৪০), শহরের কুকরালী আমতলা এলাকার মনিরুজ্জামানের স্ত্রী করোনা আক্রান্ত নাজমা খাতুন, শ্যামনগরের সোনাখালি এলাকার কাশেম গাজীর ছেলে আশরাফ হোসেন, আশাশুনির বক্সার গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম পারভেজ (৫৪), কালিগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকার সৈয়দ আলি পাড়ের ছেলে আবু জাফর মো. শফিউল আলম তুহিন, আশাশুনির নৈকাটি এলাকর বেনু গাজির ছেলে আব্দুল হামিদ (৭৫)।

রোগীর একজন স্বজন বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহে চাপ কমে যায়। ৮টার দিকে ঠিক হয়ে যাবে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়। কিন্তু এর মধ্যেই করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা তাঁর চাচী মারা যান। এসময় আরও তিন জনকে মারা যেতে দেখেছেন তিনি। আরেক স্বজন বলেন, তাঁর বাবা করোনা পজিটিভ ছিলেন।

৪৫ দিন ধরে ভর্তি ছিলেন। অক্সিজেল সংকটের সময় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, অক্সিজেন সংকটকালে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে করোনা ইউনিটের পাঁচজন, করোনা নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি একজন এবং সাধারণ ওয়ার্ডের একজন রোগী রয়েছেন। আইসিইউতে মারা গেছেন কালিগঞ্জের আকরাম হোসেন খান (৬৩)। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. মানস মন্ডল বলেন, দুই থেকে তিন ঘণ্টা সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের প্রেসার কম ছিল। এসময় সিলিন্ডার দিয়ে চাপ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু এর মধ্যে আইসিইউতে থাকা একজন রোগী মারা গেছেন। বর্তমানে প্রেসার স্বাভাবিক রয়েছে। অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন ডা. হুসেইন শাফায়াত। তিনি বলেন, অন্যান্য দিনের মতো করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার কথা শুনেছি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হওয়ার কথা না।

এক দুই ঘণ্টা সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়। তারপরও কারো কোনো গাফিলতি থাকলে আগামীকাল মন্তব্য করবো। উল্লেখ্য, চলতি মাসে সাতক্ষীরায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অস্বাভাবিক বেড়েছে। প্রতিদিনই গড়ে ৭–৮ জন কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।

[irp]

ট্যাগস :

সাতক্ষীরা মেডিকেলে অক্সিজেন সরবরাহ বিপর্যয়ে ৭ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১

সাতক্ষীরা মেডিকেলে অক্সিজেন সরবরাহ বিপর্যয়ে ৭ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহে যথেষ্ট প্রেসার না থাকায় সাত রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ বিপর্যয় ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, দুতিন ঘণ্টা সমস্যা ছিল। এর মধ্যে আইসিইউতে থাকা একজন কোভিড রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

অক্সিজেন সংকটে মারা যাওয়া রোগীরা হলেন– করোনা পজিটিভ রোগী কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলা এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আকরাম হোসেন খান (৬৩), শহরের ইটাগাছা এলাকার মফিজুল ইসলামের স্ত্রী খাইরুন নেছা (৪০), শহরের কুকরালী আমতলা এলাকার মনিরুজ্জামানের স্ত্রী করোনা আক্রান্ত নাজমা খাতুন, শ্যামনগরের সোনাখালি এলাকার কাশেম গাজীর ছেলে আশরাফ হোসেন, আশাশুনির বক্সার গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম পারভেজ (৫৪), কালিগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকার সৈয়দ আলি পাড়ের ছেলে আবু জাফর মো. শফিউল আলম তুহিন, আশাশুনির নৈকাটি এলাকর বেনু গাজির ছেলে আব্দুল হামিদ (৭৫)।

রোগীর একজন স্বজন বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহে চাপ কমে যায়। ৮টার দিকে ঠিক হয়ে যাবে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়। কিন্তু এর মধ্যেই করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা তাঁর চাচী মারা যান। এসময় আরও তিন জনকে মারা যেতে দেখেছেন তিনি। আরেক স্বজন বলেন, তাঁর বাবা করোনা পজিটিভ ছিলেন।

৪৫ দিন ধরে ভর্তি ছিলেন। অক্সিজেল সংকটের সময় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, অক্সিজেন সংকটকালে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে করোনা ইউনিটের পাঁচজন, করোনা নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি একজন এবং সাধারণ ওয়ার্ডের একজন রোগী রয়েছেন। আইসিইউতে মারা গেছেন কালিগঞ্জের আকরাম হোসেন খান (৬৩)। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. মানস মন্ডল বলেন, দুই থেকে তিন ঘণ্টা সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের প্রেসার কম ছিল। এসময় সিলিন্ডার দিয়ে চাপ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু এর মধ্যে আইসিইউতে থাকা একজন রোগী মারা গেছেন। বর্তমানে প্রেসার স্বাভাবিক রয়েছে। অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন ডা. হুসেইন শাফায়াত। তিনি বলেন, অন্যান্য দিনের মতো করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার কথা শুনেছি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হওয়ার কথা না।

এক দুই ঘণ্টা সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়। তারপরও কারো কোনো গাফিলতি থাকলে আগামীকাল মন্তব্য করবো। উল্লেখ্য, চলতি মাসে সাতক্ষীরায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অস্বাভাবিক বেড়েছে। প্রতিদিনই গড়ে ৭–৮ জন কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।

[irp]