ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo চোরাচালান মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আইনশৃঙ্খলা কমিটি সদস্য Logo খাগড়াছড়িতে ৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি Logo পার্বত্য অঞ্চলের আবাসন ও বিদ্যুতে খাতে ২৭৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিলো এডিবি Logo শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করলো বাদী Logo স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতাকে ধরতে অভিযান: ওসির বদলি Logo ভারতের আর্শিবাদে ক্ষমতা দখল করে বসেছিল আওয়ামীলীগ Logo ইউনুচের শাসনে শিক্ষাঙ্গনে মব-সহিংসতা: তদন্তে আসছে জাতিসংঘ Logo বেয়াইয়ের সাথে সঙ্গম: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিয়াইনের মৃত্যু Logo আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ভারতে বাংলাদেশি আঞ্চলিক সশস্ত্র কমান্ডার আটক, দুই সহযোগী পলাতক

মুক্তি রানী বিশ্বাস পেশায় লেগুনাচালক

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩
  • / ১১২২ বার পড়া হয়েছে

মুক্তি রানী বিশ্বাস পেশায় লেগুনাচালক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মুক্তি রানী বিশ্বাস পেশায় লেগুনাচালক। স্বামীর নাম তপন চন্দ্র বিশ্বাস, তিনি ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

 

আশুলিয়ার উত্তর গাজীরচট (তালতলা) এলাকায় এক কক্ষের বাসায় থাকেন এই দম্পতি। এক ছেলে পড়ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। আর ছয় বছর বয়সী মেয়ে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। নিজে লেগুনা চালান, স্বামীও পোশাক কারখানার শ্রমিক, তাই ছেলে মেয়ে দাদু ঠাকুরমার সাথে শ্বশুরবাড়িতে থাকে, ওখানেই বড় হচ্ছে ওরা। তাদের খরচ বাবদ মাসে কয়েক হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। মাঝেমধ্যে গিয়ে ছেলেমেয়েদের দেখে আসেন অথবা ছেলেমেয়েরা এসে দুই-এক দিন থাকে মা-বাবার সঙ্গে।

 

মুক্তি রানীর দিন শুরু হয় ভোর চারটা বা পাঁচটার সময়। দিনের রান্না শেষ করে মুখে কিছু দিয়েই বের হন লেগুনা নিয়ে। দুপুরে মাঝেমধ্যে ঘরে ফিরে দুপুরের খাবার খান। লেগুনা চালিয়ে খুব বেশি খিদে লাগলে একটি ছোট কেক আর এক গ্লাস আখের রস খান। মুক্তি রানীর জীবনে বিলাসিতা বলতে গেলে এইটুকুই। মুক্তি রানীর সাজসজ্জা বলতে সুতির সালোয়ার কামিজ আর ওড়না পরেন। গলায় একটি তুলসীর মালা আর কানে ছোট দুটি দুল। সিঁথিতে সিঁদুর আর কপালে টিপ।

 

ভাইয়ের কাছ থেকে দুই বছরের ট্রেনিং আর ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর প্রায় এক বছর ধরে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় লেগুনা চালাচ্ছেন তিনি। চালকের আসনে বসা মুক্তি রানীর গলায় ঝুলছে লেমিনেটিং করা ড্রাইভিং লাইসেন্স। যাত্রী খোঁজা থেকে শুরু করে ভাড়া তোলা সবই করেন লেগুনাচালক মুক্তি রানী বিশ্বাস।

 

সাভার আশুলিয়া এলাকার যারা নিয়মিত লেগুনা যাত্রী আছেন, আপনারা অনেকেই হয়তো চিনবেন এই মুক্তিকে। ভালোই ড্রাইভিং করে। দিনে যাত্রীভেদে কোনো দিন ৫০০ টাকা আবার কখনো আরও কম বা বেশি টাকা আয় করে ঘরে ফেরেন তিনি। বর্তমান লেগুনাটি অনেকটা লক্করঝক্কর, খুব ইচ্ছা কখনো তিনি একদিন সম্পূর্ণ নতুন একটি লেগুনা কিনবেন। তাঁর আরো একটা স্বপ্ন আছে। অন্য নারীরাও যাতে এ পেশায় আসতে পারেন তাই তিনি নারীদের গাড়ি চালানো শেখাতে চান। তাঁর মতে, নারী চালকের সংখ্যা বাড়লে গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের হয়রানিও কমবে।

ট্যাগস :

মুক্তি রানী বিশ্বাস পেশায় লেগুনাচালক

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩

মুক্তি রানী বিশ্বাস পেশায় লেগুনাচালক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মুক্তি রানী বিশ্বাস পেশায় লেগুনাচালক। স্বামীর নাম তপন চন্দ্র বিশ্বাস, তিনি ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

 

আশুলিয়ার উত্তর গাজীরচট (তালতলা) এলাকায় এক কক্ষের বাসায় থাকেন এই দম্পতি। এক ছেলে পড়ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। আর ছয় বছর বয়সী মেয়ে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। নিজে লেগুনা চালান, স্বামীও পোশাক কারখানার শ্রমিক, তাই ছেলে মেয়ে দাদু ঠাকুরমার সাথে শ্বশুরবাড়িতে থাকে, ওখানেই বড় হচ্ছে ওরা। তাদের খরচ বাবদ মাসে কয়েক হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। মাঝেমধ্যে গিয়ে ছেলেমেয়েদের দেখে আসেন অথবা ছেলেমেয়েরা এসে দুই-এক দিন থাকে মা-বাবার সঙ্গে।

 

মুক্তি রানীর দিন শুরু হয় ভোর চারটা বা পাঁচটার সময়। দিনের রান্না শেষ করে মুখে কিছু দিয়েই বের হন লেগুনা নিয়ে। দুপুরে মাঝেমধ্যে ঘরে ফিরে দুপুরের খাবার খান। লেগুনা চালিয়ে খুব বেশি খিদে লাগলে একটি ছোট কেক আর এক গ্লাস আখের রস খান। মুক্তি রানীর জীবনে বিলাসিতা বলতে গেলে এইটুকুই। মুক্তি রানীর সাজসজ্জা বলতে সুতির সালোয়ার কামিজ আর ওড়না পরেন। গলায় একটি তুলসীর মালা আর কানে ছোট দুটি দুল। সিঁথিতে সিঁদুর আর কপালে টিপ।

 

ভাইয়ের কাছ থেকে দুই বছরের ট্রেনিং আর ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর প্রায় এক বছর ধরে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় লেগুনা চালাচ্ছেন তিনি। চালকের আসনে বসা মুক্তি রানীর গলায় ঝুলছে লেমিনেটিং করা ড্রাইভিং লাইসেন্স। যাত্রী খোঁজা থেকে শুরু করে ভাড়া তোলা সবই করেন লেগুনাচালক মুক্তি রানী বিশ্বাস।

 

সাভার আশুলিয়া এলাকার যারা নিয়মিত লেগুনা যাত্রী আছেন, আপনারা অনেকেই হয়তো চিনবেন এই মুক্তিকে। ভালোই ড্রাইভিং করে। দিনে যাত্রীভেদে কোনো দিন ৫০০ টাকা আবার কখনো আরও কম বা বেশি টাকা আয় করে ঘরে ফেরেন তিনি। বর্তমান লেগুনাটি অনেকটা লক্করঝক্কর, খুব ইচ্ছা কখনো তিনি একদিন সম্পূর্ণ নতুন একটি লেগুনা কিনবেন। তাঁর আরো একটা স্বপ্ন আছে। অন্য নারীরাও যাতে এ পেশায় আসতে পারেন তাই তিনি নারীদের গাড়ি চালানো শেখাতে চান। তাঁর মতে, নারী চালকের সংখ্যা বাড়লে গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের হয়রানিও কমবে।