ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল শেষে সমাবেশে Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

কালাইয়ে সরকারি জায়গা দখল করে বসতবাড়ী নির্মাণ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুলাই ২০২৩
  • / ১০৪৮ বার পড়া হয়েছে

কালাইয়ে সরকারি জায়গা দখল করে বসতবাড়ী নির্মাণ

 

জয়নাল আবেদীন জয়/জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনী পীরপুকুর আবাসনের দক্ষিণ পার্শ্বে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সরকারি খাস ৯ শতক জায়গা দখল নিয়ে বসতবাড়ী নির্মাণর কাজ অব্যাহত রেখেছেন আবাসনের ঘর পাওয়া সদস্য মোঃ আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি ওই জায়গার তিনদিক দিয়ে কলম তুলে গ্রেডবিম পর্যন্ত প্রাচীরও দিয়েছেন। ভিতরে বাড়ী নির্মাণের কাজ চলমানও রেখেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাক পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে আসলেও কাজের সরঞ্জামে রেখে কৌশলে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবী তিনি স্থানীয় প্রভাবশালীদের টাকা দিয়ে হাত করে এ কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনী গ্রামের পীরপুকুর আবাসন প্রকল্পে মৃত: সমসের আলী প্রধানের ছেলে আজিজুল ইসলাম(৫৫) এর তৈরি বসতবাড়ী রয়েছে। সেই বাড়ীর দক্ষিণ পার্শ্বে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বাইগুনী মৌজার সাবেক ১৭০ দাগের ৯ শতক সরকারি খাস জমি তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে নিজ দখলে নিয়েছেন।

অনেক আগে থেকেই আজিজুল ইসলামসহ তার পরিবারের লোকজন ওই জায়গা ব্যবহার করে আসছিলেন। হঠ্যাৎ করেই গত দুই মাস পূর্বে থেকেই তিনি ওই জায়গাতে ইট, বালু, রোড, সিমেন্ট নিয়ে এসে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে নতুনভাবে বসতবাড়ীর নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন। এ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে নির্মাণ কাজ করতে নিষেধ করলেও তিনি কারো কথা কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি স্থানীয় উদয়পুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাক ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দ্রুত কাজ বন্ধ করে দেন।পরে প্রভাবশালীদের ইন্ধনে আবারো আজিজুল ইসলাম কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সরকারি জায়গায় পাকা বসতবাড়ী নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

তালোড়া-বাইগুনী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব জানান, খালি পড়ে থাকা সরকারি জায়গায় জোরপূর্বক ইটের স্থায়ী বসতবাড়ী নির্মাণ করছেন আজিজুল ইসলাম এটা গ্রামের অধিকাংশ লোকজনই জানেন। সবাই নিষেধ করেছে তবুও শোনেননি তিনি। সরকারি জায়গাতে যাতে করে বসতবাড়ী নির্মাণ করতে না পারে সেজন্য সবাই মিলে ইউএনও অফিসে অভিযোগও করেছে। তারা এসে কাজ বন্ধও করে গেছে। তবুও তিনি বাড়ী নির্মাণের কাজ করেই যাচ্ছেন। কার ইন্ধনে এতো সাহস পাচ্ছে!!
স্থানীয় উদয়পুর ইউপি সদস্য ও ওই গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ইউএনও অফিস থেকে লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে গেছে। পরে কাজ চালু হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। সে আসলে কার ক্ষমতায় সরকারি জায়গায় বসতবাড়ী নির্মাণ করছেন তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

সরকারি জায়গায় বসতবাড়ী নির্মাণের বিষয় স্বীকার করে আজিজুল ইসলাম বলেন, আসলে অনেক আগ থেকেই এই জায়গাটা পড়ে আছে।ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে। আবাসন প্রকল্পে পাওয়া ঘরে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় আমি আবাসন থেকে আয় রোজগার করে এই জায়গায় বসতবাড়ি নির্মাণ শুরু করেছি। তখন কেউই বাঁধা দেয়নি। আজ বাড়ী করতে গেছি আর সবাই বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে আমার ভুলই হয়েছে।যদি সরকার দয়া করে ঘর করতে দেয়,তাহলে করা যাবে।দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়!

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি বলেন, এ বিষয়ে অভিযাগ পাওয়ার পরপরই লোক পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। যদি আবার কাজ চালু করে তাহলে খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

কালাইয়ে সরকারি জায়গা দখল করে বসতবাড়ী নির্মাণ

আপডেট সময় : ০১:৪২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুলাই ২০২৩

কালাইয়ে সরকারি জায়গা দখল করে বসতবাড়ী নির্মাণ

 

জয়নাল আবেদীন জয়/জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনী পীরপুকুর আবাসনের দক্ষিণ পার্শ্বে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সরকারি খাস ৯ শতক জায়গা দখল নিয়ে বসতবাড়ী নির্মাণর কাজ অব্যাহত রেখেছেন আবাসনের ঘর পাওয়া সদস্য মোঃ আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি ওই জায়গার তিনদিক দিয়ে কলম তুলে গ্রেডবিম পর্যন্ত প্রাচীরও দিয়েছেন। ভিতরে বাড়ী নির্মাণের কাজ চলমানও রেখেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাক পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে আসলেও কাজের সরঞ্জামে রেখে কৌশলে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবী তিনি স্থানীয় প্রভাবশালীদের টাকা দিয়ে হাত করে এ কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনী গ্রামের পীরপুকুর আবাসন প্রকল্পে মৃত: সমসের আলী প্রধানের ছেলে আজিজুল ইসলাম(৫৫) এর তৈরি বসতবাড়ী রয়েছে। সেই বাড়ীর দক্ষিণ পার্শ্বে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বাইগুনী মৌজার সাবেক ১৭০ দাগের ৯ শতক সরকারি খাস জমি তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে নিজ দখলে নিয়েছেন।

অনেক আগে থেকেই আজিজুল ইসলামসহ তার পরিবারের লোকজন ওই জায়গা ব্যবহার করে আসছিলেন। হঠ্যাৎ করেই গত দুই মাস পূর্বে থেকেই তিনি ওই জায়গাতে ইট, বালু, রোড, সিমেন্ট নিয়ে এসে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে নতুনভাবে বসতবাড়ীর নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন। এ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে নির্মাণ কাজ করতে নিষেধ করলেও তিনি কারো কথা কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি স্থানীয় উদয়পুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাক ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দ্রুত কাজ বন্ধ করে দেন।পরে প্রভাবশালীদের ইন্ধনে আবারো আজিজুল ইসলাম কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সরকারি জায়গায় পাকা বসতবাড়ী নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

তালোড়া-বাইগুনী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব জানান, খালি পড়ে থাকা সরকারি জায়গায় জোরপূর্বক ইটের স্থায়ী বসতবাড়ী নির্মাণ করছেন আজিজুল ইসলাম এটা গ্রামের অধিকাংশ লোকজনই জানেন। সবাই নিষেধ করেছে তবুও শোনেননি তিনি। সরকারি জায়গাতে যাতে করে বসতবাড়ী নির্মাণ করতে না পারে সেজন্য সবাই মিলে ইউএনও অফিসে অভিযোগও করেছে। তারা এসে কাজ বন্ধও করে গেছে। তবুও তিনি বাড়ী নির্মাণের কাজ করেই যাচ্ছেন। কার ইন্ধনে এতো সাহস পাচ্ছে!!
স্থানীয় উদয়পুর ইউপি সদস্য ও ওই গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ইউএনও অফিস থেকে লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে গেছে। পরে কাজ চালু হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। সে আসলে কার ক্ষমতায় সরকারি জায়গায় বসতবাড়ী নির্মাণ করছেন তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

সরকারি জায়গায় বসতবাড়ী নির্মাণের বিষয় স্বীকার করে আজিজুল ইসলাম বলেন, আসলে অনেক আগ থেকেই এই জায়গাটা পড়ে আছে।ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে। আবাসন প্রকল্পে পাওয়া ঘরে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় আমি আবাসন থেকে আয় রোজগার করে এই জায়গায় বসতবাড়ি নির্মাণ শুরু করেছি। তখন কেউই বাঁধা দেয়নি। আজ বাড়ী করতে গেছি আর সবাই বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে আমার ভুলই হয়েছে।যদি সরকার দয়া করে ঘর করতে দেয়,তাহলে করা যাবে।দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়!

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি বলেন, এ বিষয়ে অভিযাগ পাওয়ার পরপরই লোক পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। যদি আবার কাজ চালু করে তাহলে খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।