মুরাদনগরে গত ছয় মাসে সাড়ে ৭মন গাঁজা উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুলাই ২০২৩
- / ১০৫৬ বার পড়া হয়েছে
মুরাদনগর পরিণত হয়েছে অঘোষিত মাদকের স্বর্গরাজ্যে গত ছয় মাসে সাড়ে ৭মন গাঁজা উদ্ধার
মুরাদনগর প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী হতে মুরাদনগরের হায়দরাবাদে মাদকের চালান আসছে, এরূপ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬জুন দিবাগত রাত দশটায় সন্দেহভাজন দুইটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে বেরিগেড দিয়ে গতিরোধ করে। তল্লাশী চালিয়ে ৮০কেজি গাঁজাসহ তাদের বহনকারী দুইটি অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ সদস্যরা। মাদক পাঁচারকালে আটককৃত তিনজন আসামী হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রফিক সরকারের ছেলে মোঃ সোহেল মিয়া (২২), মৃত হারুন মিয়ার ছেলে সিজান আহাম্মেদ (৩০) ও হাসান আলীর ছেলে আবু বক্কর ছিদ্দিক লিপু (২৪)। এসময় পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে সক্ষম হয় মাদকের সম্রাট খ্যাত দুর্বাজ ভূঁইয়া।
কুমিল্লার মুরাদনগরে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। মাদকের এমন বিস্তারে সচেতন অভিভাবক মহল আতঙ্কে আছে। কেউ আবার পরিবার নিয়ে অন্য থানায় গিয়ে বসতি গড়েছে। ছোট ছেলেমেয়েরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানমুখী হবার পরিবর্তে হচ্ছে মাদকমুখী। নেশাগ্রস্ত বিকার মস্তিষ্কে হিতাহিত জ্ঞান বিসর্জন দিয়ে প্রায়শই জড়িয়ে পরছে নানা অপরাধে।
থানার তথ্যে জানা যায়, উপজেলার দুই থানায় গত ছয় মাসে ৬ মাসে গাঁজা ২৯৬ কেজি, ২১০ বোতল ফেন্সিডিল ও ২ হাজার ১০৭ পিস ইয়াবা এবং ৭৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে, মুরাদনগর থানায় গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুন ২০২৩ ইং পর্যন্ত উদ্ধার কৃত মাদক হচ্ছে, ১শ ১৪ কেজি গাঁজা, ১৯০৭ পিস ইয়াবা, ৯০ বোতল ফেন্সিডিল, ১২ বোতল বিদেশী মদ ও ১০ লিটার চোরাইমদ উদ্ধারসহ ৪১টি মাদক মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামী হলো ৫৭ জন।
অপর দিকে বাঙ্গরা বাজার থানায়, গত ১৮ জানুয়ারি ১২ কেজি গাঁজাসহ ৩, ৯ মার্চ ৬ কেজি গাঁজাসহ ২, ২৪ মার্চ ৫৬ কেজি গাঁজাসহ ৭, ২৫ এপ্রিল ৬৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ ১, ১৬ মে ১২০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ১, ৫ মে ১৮ কেজি গাঁজাসহ ৩,২৩ মে ২শ পিস ইয়াবাসহ ১, ১৯ জুন ১০ কেজি গাঁজাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে মোট গ্রাম ৩১৭টি গ্রামেই পাওয়া যায় মাদক। অনলাইন পেমেন্টে টাকা পরিশোধের পর ইয়াবা বা, গাঁজা পৌঁছে দেওয়া (হোম ডেরিভারি) হয়। পুলিশ বড় চালানের দিকে নজর দিলেও এসব খুচরা বিষয়ে নজর দিচ্ছে না। ফলে ঘরে বসে নিশ্চিন্তে মাদক পাচ্ছে মাদকাসক্তরা। অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় এ ইয়াবা ব্যবসা রমরমা।
মুরাদনগর থানার ওসি আজিজুল বারী ইবনে জলিল ও বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দৈনিক আস্থাকে বলেন, ইয়াবাসহ সব ধরণের মাদকে আমরা জিরো টলারেন্স।















