পাওনা টাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে তালা,থানায় অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩
- / ১০৪৫ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের কৃষ্ণ নগরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সংখ্যালঘু পরিবারকে দেয়া ঘরে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের সাবেক সদস্য রউফ ভুঁইয়া ও তার ছেলে জলিল ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে।
শনিবার (১২ আগস্ট) উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের কৃষ্ণ নগরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রউফ ভুঁইয়ার ছেলে জলিল ভুঁইয়ার বাড়িতে কৃষ্ণ নগরের বিনয় দাস নামে এক দিনমজুর ২বছর পূর্বে ৭মাসের জন্য ৬৫হাজার টাকা ও ২৫মণ ধানের বিনিময়ে চাকুরি নেন। চাকুরি নেওয়ার শুরুতেই বিনয় ৩৪হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে নেয়। ৩মাস কাজ করার পর বিনয় অসুস্থ হয়ে পড়লে জলিল ভুঁইয়া এসে জোরপূর্বক তাকে কাজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কাজে না গেলে তাকে নানান ধরনের হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে বিনয় তার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তার সহোদর ভাই হিরেন্দ্র দাসকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে ভয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। সে ঢাকা চলে যাওয়ার পর বিনয়ের সহোদর হিরেন্দ্র দাসকে জলিল ভুঁইয়া টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি জোরপূর্বক ঘর দখলের চেষ্টা চালায়। এতে হিরেন্দ্র বাঁধা দিলে তাকে হুমকি দেয়। পরে সে ভয়ে ১৫হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে। ২বছর পর আবারও গত ৪ই আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় জলিল ভুঁইয়া তার লোকজন নিয়ে ঘর দখল করতে আসলে হিরেন্দ্র এতে বাঁধা দিলে তাকে মারপিট করার হুমকি দেয়। পরে সে ভয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে জলিল ভূঁইয়া বিনয়ের ঘরে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে ঘর দখল নেয়। হিরেন্দ্র নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে সে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাকে সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। এ ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘ দিন যাবৎ নানান ধরনের নিপিড়ন করে আসছে। তারা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এসকল ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া প্রয়োজন। এ অবস্থা চলতে থাকলে এলাকায় কোনো সংখ্যালঘু পরিবার বসবাস করতে পারবে না। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসার জন্য বলেন।
মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কলিন্দ্র নাথ গোলদার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি একজন এস,আইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















