ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo নির্বাচনী ব্যস্ততায় প্রশাসনিক গতি কমেছে, মাঠে ও সচিবালয়ে ঢিলেমি Logo কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo যা থাকবে জামায়েতের নির্বাচনী ইশতেহারে Logo যা থাকবে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে Logo গণভোটে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা ও জনগণের সার্বভৌম অধিকার: সংবিধান, সরকার এবং হ্যাঁ/না ভোটের প্রশ্ন Logo খাগড়াছড়িতে একমঞ্চে জনগণের মুখোমুখি ১০ প্রার্থী Logo পানছড়িতে ধানের শীষের সমর্থনে শ্রমিক দলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo শেরপুরে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত অন্তত-৪ Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ-এয়াকুব আলী Logo খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল শেষে সমাবেশে

‘সরকার পতনে’ সব দলকে নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা বিএনপির

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ১০৫৭ বার পড়া হয়েছে

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনকে আরো জোরদার করার পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। সেইলক্ষে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক ৩৬ রাজনৈতিক দল ছাড়াও ডান-বাম ও ইসলামি দলগুলোকে মাঠে নামাতে চায় দলটি।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক যাচ্ছে না তাদের সবাইকে একসাথে রাজপথে নামানোর টার্গেট করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। আলোচনায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন, সরকারের পতন এবং রাষ্ট্র মেরামতে জাতীয় ঐক্য গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এছাড়া বিরোধী জোটের চলমান আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিয়ে মাঠে নিয়মিত কর্মসূচি নিয়ে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলনও। সব দল ‘সরকার পতনের’ এক দফা চূড়ান্ত আন্দোলনে আগামী দিনে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে চান। এই লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র নেতারা প্রথমবারের মতো ৩৯টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করেছে। সেখানে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের বিষয়ে একমত হন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। একই সঙ্গে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সব দলকেও ঐক্যে চান নেতারা। ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী দিনে রাজপথে নামার জন্য দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতাকে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, রাজপথে আন্দোলনে শক্তি বাড়াতে জামায়াতের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনকেও পাশে চায় বিএনপি। সেজন্য দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একধরনের সমঝোতা হয়েছে। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। তবে বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধে একাত্মতা ঘোষণা করে জামায়াতের মতো একই কর্মসূচি দেবে না তারা। কিন্তু বিএনপির কর্মসূচিতে নৈতিক সমর্থন থাকবে তাদের। সভা-সমাবেশে-বিক্ষোভ মিছিলের মতো নিয়মিত নানা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবে দলটি। এদিকে আন্দোলন বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আগামীতে আন্দোলন কর্মসূচি আরও জোরালোভাবে পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হরতাল-অবরোধ যেন সর্বাত্মকভাবে পালন হয় সেভাবে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, চলমান আন্দোলন থেকে পিছু হটার প্রশ্নই আসে না। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষ রাজপথে নেমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন নিশ্চিত করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা লোভে পড়ে সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা রাজনীতির আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হবেন। সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে তাদের বেইমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের দাবির সঙ্গে বিএনপির দাবির মিল রয়েছে। তারাও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে চায় না, আমরাও চাই না। তবে তারা তাদের অবস্থান থেকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে। নতুন কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। আমরা আন্দোলনে আছি, আন্দোলনে থাকবো।

ট্যাগস :

‘সরকার পতনে’ সব দলকে নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা বিএনপির

আপডেট সময় : ১১:২৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনকে আরো জোরদার করার পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। সেইলক্ষে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক ৩৬ রাজনৈতিক দল ছাড়াও ডান-বাম ও ইসলামি দলগুলোকে মাঠে নামাতে চায় দলটি।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক যাচ্ছে না তাদের সবাইকে একসাথে রাজপথে নামানোর টার্গেট করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। আলোচনায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন, সরকারের পতন এবং রাষ্ট্র মেরামতে জাতীয় ঐক্য গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এছাড়া বিরোধী জোটের চলমান আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিয়ে মাঠে নিয়মিত কর্মসূচি নিয়ে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলনও। সব দল ‘সরকার পতনের’ এক দফা চূড়ান্ত আন্দোলনে আগামী দিনে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে চান। এই লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র নেতারা প্রথমবারের মতো ৩৯টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করেছে। সেখানে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের বিষয়ে একমত হন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। একই সঙ্গে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সব দলকেও ঐক্যে চান নেতারা। ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী দিনে রাজপথে নামার জন্য দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতাকে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, রাজপথে আন্দোলনে শক্তি বাড়াতে জামায়াতের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনকেও পাশে চায় বিএনপি। সেজন্য দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একধরনের সমঝোতা হয়েছে। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। তবে বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধে একাত্মতা ঘোষণা করে জামায়াতের মতো একই কর্মসূচি দেবে না তারা। কিন্তু বিএনপির কর্মসূচিতে নৈতিক সমর্থন থাকবে তাদের। সভা-সমাবেশে-বিক্ষোভ মিছিলের মতো নিয়মিত নানা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবে দলটি। এদিকে আন্দোলন বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আগামীতে আন্দোলন কর্মসূচি আরও জোরালোভাবে পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হরতাল-অবরোধ যেন সর্বাত্মকভাবে পালন হয় সেভাবে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, চলমান আন্দোলন থেকে পিছু হটার প্রশ্নই আসে না। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষ রাজপথে নেমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন নিশ্চিত করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা লোভে পড়ে সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা রাজনীতির আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হবেন। সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে তাদের বেইমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের দাবির সঙ্গে বিএনপির দাবির মিল রয়েছে। তারাও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে চায় না, আমরাও চাই না। তবে তারা তাদের অবস্থান থেকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে। নতুন কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। আমরা আন্দোলনে আছি, আন্দোলনে থাকবো।