১৯৯১ সাল থেকে আটবার ভাঙল জাতীয় পার্টি
- আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৬১১ বার পড়া হয়েছে
১৯৯১ সাল থেকে আটবার ভাঙল জাতীয় পার্টি
স্টাফ রিপোর্টারঃ
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৪টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দলের নামের সঙ্গে আছে ‘জাতীয় পার্টি’। পাশে ব্র্যাকেটে নানা শব্দ যুক্ত করে নিবন্ধন নিয়েছে এসব দল। এর কারণ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের মুখে পড়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত দল জাতীয় পার্টি।
১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি দলটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দলটিতে ভাঙাগড়া যেন লেগেই আছে। নেতৃত্বের কোন্দলে বারবার টুকরো টুকরো হয়েছে দলটি। সর্বশেষ আজ শনিবার মোঃ মজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে নতুন করে ভাঙল জাতীয় পার্টি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আট বার ভাঙল দলটি।
এরশাদ পরিবার ঘিরেই জাতীয় পার্টির মূলধারা বিবেচনা করা হয়। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী রওশন ও ভাই জি এম কাদেরের মধ্যে নেতৃত্বের বিরোধ তুঙ্গে উঠে। যদিও উভয় অংশের নেতারা এজন্য একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
দলটির বর্তমান ও সাবেক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের ইতিহাস নতুন নয়। সব সময় কোনো না কোনো ইস্যুতে দলে অস্থিরতা লেগেই থাকে। এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসক এরশাদও দলে বিবাদ বা ভাঙন ঠেকাতে পারেননি।
জাপার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক নূরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, এই দলের রাজনৈতিক কোনো ভবিষ্যৎ আমি দেখি না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনেক দলের মতো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলে পরিণত হবে জাতীয় পার্টি।
১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জাতীয় পার্টি গঠন করে রাজনীতিতে নামেন। ১৯৯০ সালে তার পতনের পর থেকে ক্রমেই শক্তি হারাতে থাকে দলটি। এর মূল কারণ হিসেবে বারবার ভাঙনকে দায়ী করছেন পার্টির অনেকেই।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পতনের পর থেকে এ পর্যন্ত দলটি আট বার ভাঙনের মুখে পড়েছে। এরশাদের জীবদ্দশায় পাঁচবার এবং তার মৃত্যুর দুই বছর পর তিনবার।
১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে দলটি ৩৫টি আসন পায়। ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে জাপার আসন কমে হয় ৩২টি। এরপর এরশাদের দলে ভাঙন ধরে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আলাদা হয়ে যান। ২০০১ সালের নির্বাচনে আগে বড় ভাঙনের শিকার হয় দলটি। নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নামে দল গঠন করে। এই অংশটির নেতৃত্বে এখন রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ। অবশ্য এই বিজেপিই আবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এম এ মতিন গঠন করেন আলাদা জাতীয় পার্টি।
সর্বশেষ আজ শনিবার দল ভেঙে আবারো আলাদা হলো। অপর দিকে এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ।
জাতীয় পার্টি হিসেবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধন রয়েছে চারটি দলের। যারা বিভিন্ন সময় ভাঙনের পর পৃথক দল গঠন করেন। এরশাদের নেতৃত্বাধীন মূল অংশটি লাঙল প্রতীকে ইসিতে নিবন্ধিত। এ ছাড়া আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জেপি নিবন্ধিত বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে। নাজিউর রহমান মঞ্জু প্রতিষ্ঠিত বিজেপি নিবন্ধিত গরুর গাড়ি প্রতীকে। আর ডা. এম এ মুকিতের নেতৃত্বাধীন একটি অংশের প্রতীক কাঁঠাল। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির নির্বাচন কমিশনে কোন অংশের নিবন্ধন নেই।
















