কঙ্গোতে তামার খনি ধসে নিহত ৪০
- আপডেট সময় : ১১:০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ১১৫৩ বার পড়া হয়েছে
মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) একটি তামা ও কোবাল্ট খনিতে প্রবেশের মই ভেঙে এর ভিতরে মাটি ধসে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন খনি খাত তদারকি সংস্থা এসএইএমএপি।
মূলত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শ্রমিকদের ঢুকে পড়া এবং পরে আতঙ্কে বের হতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় লুয়ালাবা প্রদেশের কালান্ডোর খনিতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোয়া কাওমবে মায়োন্ডে।
এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এপি ও আল জাজিরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোয়া কাওমবে মায়োন্ডে জানান, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় আগেই খনিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তারপরও বেপরোয়া শ্রমিকরা জোর করে খনিতে ঢুকে পড়ে।
মূলত বন্যার পানি ঠেকাতে খনিতে একটি অস্থায়ী মই (ব্রিজ) তৈরি করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে দৌড়ে সেটি পার হওয়ার চেষ্টা করায় মইটি ভেঙে পড়ে।
খনি খাত তদারকি সংস্থা এসএইএমএপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে সেনাদের গুলিবর্ষণের শব্দে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আতঙ্কে সবাই মই বেয়ে ওপরের দিকে ছুটে গেলে এটি ভেঙে ভূমি ধসে পড়ে এবং তারা একে অপরের ওপর পড়ে যায়। ফলে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
অবশ্য মায়োন্ডে মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ৩২ জন বলে নিশ্চিত করলেও এসএইএমএপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কালান্ডো খনিটি নিয়ে বহুদিন ধরে বেপরোয়া খনিকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি সমবায় ও খনিটির বৈধ পরিচালনাকারীদের বিরোধ চলছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রাদেশিক সমন্বয়ক আর্থার কাবুলো জানান, কালান্ডো খনিতে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করে। এই ঘটনার পরে রোববার ঘটনাস্থলে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছে, খনিশ্রমিকদের সঙ্গে সেনাদের সংঘর্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
















