শেরপুরে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত অন্তত-৪
- আপডেট সময় : ১১:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১০০৯ বার পড়া হয়েছে
শেরপুরে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত অন্তত-৪
স্টাফ রিপোর্টারঃ
শেরপুর–৩ (ঝিনাইগাতী–নালিতাবাড়ী) আসনে নির্বাচনী প্রচার কাজকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের একজন নেতা নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন বিএনপির অন্তত দুই নেতাকর্মীসহ আরও ৪ জন।
রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর উদ্যোগে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সব প্রার্থীদের নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সভার আয়োজন করা হয়। সভা শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল দুপুর ২টা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে অনুষ্ঠানস্থলের অধিকাংশ চেয়ার দখল করে নেয়। পরে বিএনপি প্রার্থী ও তাঁর নেতাকর্মীরা সভাস্থলে উপস্থিত হলে বসার জায়গা না পেয়ে বিষয়টি ইউএনওকে অবহিত করেন।
ইউএনও চেয়ার ভাগাভাগি করে বসার নির্দেশ দিলেও জামায়াতের নেতাকর্মীরা তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে চেয়ার ছাড়তে গিয়ে জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারেন। মঞ্চ থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকে বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
এরপর জামায়াতের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন এবং তাদের মাঠ থেকে বের করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই লাঠি, সোটা ও পাইপ সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন।
এতে বিএনপির দুই নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামায়াতের প্রার্থীকে বিকল্প পথ ব্যবহার করে এলাকা ত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। তবে তিনি প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে বলেন, “আমার কর্মীদের আমি এই পথেই নিয়ে যাব।
সংঘর্ষ এড়াতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা জামায়াতের প্রার্থীকে ঘিরে ধরে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। এমনকি একজন সিনিয়র নেতা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি আপনার পায়ে ধরি, আপনি সামনে এগোবেন না।” তবুও জামায়াতের প্রার্থী ও তাঁর নেতাকর্মীরা লাঠি, সোটা ও পাইপ হাতে সামনে অগ্রসর হলে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এই দফায় সংঘর্ষে জামায়াতের ১ নেতা নিহত হন। এছাড়া বিএনপির আরও ২ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে এই সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য, আগ্নেয় নয় এমন হলেও দেশীয় অস্ত্র বহন এবং প্রকাশ্য সংঘর্ষের দায় কার—সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।















