নির্বাচনী ব্যস্ততায় প্রশাসনিক গতি কমেছে, মাঠে ও সচিবালয়ে ঢিলেমি
- আপডেট সময় : ১২:০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১০০১ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনী ব্যস্ততায় প্রশাসনিক গতি কমেছে, মাঠে ও সচিবালয়ে ঢিলেমি
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা ও ঢিলেঢালা ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরগুলোতে প্রশাসনিক গতি আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে থাকায় এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় সরকারি কর্মকর্তাদের মনোযোগ এখন মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্বাচনী প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারের অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বড় কোনো নতুন প্রকল্প অনুমোদন, নীতিগত সিদ্ধান্ত বা সংস্কার কার্যক্রমে কর্মকর্তারা এখন বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই নতুন সরকার আসার আগে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না।
সচিবালয়ের জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা গেছে, নিয়মিত ফাইল নিষ্পত্তি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার কমে গেছে। অনেক ফাইল দীর্ঘদিন ধরে স্বাক্ষরের অপেক্ষায় পড়ে আছে। নিয়মিত সভা ও তদারকি কার্যক্রমও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটের প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এতে তাদের কর্মব্যস্ততা বাড়লেও মূল প্রশাসনিক কাজগুলো তুলনামূলকভাবে গুরুত্ব হারাচ্ছে। ফলে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের ঢিলেঢালা পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে নির্বাচনী কার্যক্রমই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। রুটিন কাজ চললেও বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। সামনে নির্বাচন এবং গণভোট থাকায় কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে প্রশাসনিক গতি আবার স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাঠ প্রশাসনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকায়। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক তদারকি, পরিদর্শন ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কিছুটা কমে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনী দায়িত্বই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এর কারণে অন্যান্য কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক কাজ বন্ধ নেই, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
এ বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সব কাজই চলমান রয়েছে। কোনো কাজ বন্ধ নেই। প্রয়োজন ও গুরুত্ব অনুযায়ী কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। নির্বাচনসহ সব প্রশাসনিক কাজই যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, সারা দেশ এখন নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সময়ে প্রশাসনের মূল মনোযোগ নির্বাচনের দিকে থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, নির্বাচনের পর প্রশাসনিক পরিবর্তন আসতে পারে এমন ধারণা থেকেই অনেক কর্মকর্তা সাবধানী হয়ে পড়েছেন। পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য নাও থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা বড় সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলছেন। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম ঢিলেঢালা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তাই নির্বাচনকালীন সময়েও রুটিন ও সেবামূলক কাজ সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।









