একজনের শেষ-আরেকজনের প্রথম
- আপডেট সময় : ১১:৩০:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১০০৯ বার পড়া হয়েছে
একজনের শেষ-আরেকজনের প্রথম
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ভোট হলো রাজনীতির বড়লোকদের খেলা। ভোট দিই বা না দিই, আমাগের জীবন তো একই থাকে।’ তাঁর কথার ভেতর লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ক্লান্তি আর নিরাশার গল্প।
ঠাকুরগাঁওয়ের-১ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচন। চলছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আলোচনা।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সংগঠনটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনে বিএনপির হয়ে বিভিন্ন সময় নির্বাচন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেকবার কারাবরণ করা এই নেতা বয়সের বিষয়টি উল্লেখ করে এটিকে জীবনের শেষ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে ভোট চাচ্ছেন। তাঁর হয়ে ভোট চাইতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ, ছোট মেয়ে মির্জা শাফারুহ।
ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের টান অনেক গভীর। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আজও ‘প্রিয় স্যার’। এলাকার মানুষ তাঁর নাম বলেন ‘মির্জা আলমগীর’। একসময় শিক্ষকতা করতেন, তাই ছোট-বড় সবাই তাঁকে ‘স্যার’ সম্বোধন করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। স্থানীয় পরিচিতি ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকায় নির্বাচনী মাঠে তিনি আত্মবিশ্বাসী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় অংশ নিচ্ছেন। গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন।
পোড়খাওয়া রাজনীতিক মির্জা ফখরুলও বিমানবন্দর চালুর অঙ্গীকার করেছেন।
আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলছেন, ‘এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক। তাদের সমস্যাগুলো কী, তা আমি জানি। আমাদের দল দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারব।
এই আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ দেলাওয়ার হোসেন। নির্বাচনে জয় পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী।
৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি এবং ‘গণ-মামলার’ মতো বিষয়গুলোকে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে জামায়াত। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন এই প্রার্থী।
তাঁর বিপরীতে জয় পেতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী। প্রথমবার নির্বাচনে আসা জামায়াতের প্রার্থী মোঃ দেলাওয়ার হোসেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য। পালন করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারির দায়িত্ব।
কৃষি শ্রমিক আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমরা হলো গরিব মানুষ। গরিবের চিন্তা একটাই– আজ কী খাব, কাল কীভাবে চলব। ভোট তো বহুবার দিয়েছি। বুঝে গেছি, এই ভোট গরিবের জন্য না।
এনজিওকর্মী মাহমুদুর রহমান বলেন, এই জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষি। কিন্তু প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষক ভূমিহীন। তারা আদতে কৃষক নন, কৃষি শ্রমিক। দিনমজুরি করে সোনার ফসল তুলে দেন বড় বড় গৃহস্থের গোলায়। এই ভূমিহীনদের উদয়াস্ত পরিশ্রমেই জেলায় উৎপাদিত হয় উদ্বৃত্ত খাদ্য। এ জেলায় শিল্প বলতে আছে ৩০টির মতো চালকল। অধিকাংশই হাসকিং মিল, চার-পাঁচটি অটোরাইস মিল, আর কিছু ইটভাটা। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত।
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের কালীবাড়ি বাজার, বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের সঙ্গে কথা হয়। নির্বাচন সামনে রেখে তাদের কথায় উঠে আসে একটাই প্রত্যাশা– সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি।
শহরের কলেজ পাড়ার বাসিন্দা মোজাক্কের হোসেন বলেন, নির্বাচন এলেই সব প্রার্থী এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের কোনো খবর থাকে না। তাই আমরা চাই নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হোক।
ঠাকুরগাঁও সদরের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাফি বলেন, ‘ভোট আসে, ভোট যায়; কিন্তু কৃষকের ভাগ্য বদলায় না। তবু চাই ভোটটা যেন শান্তিপূর্ণ হয়।
দিনাজপুর জেলার একটি মহকুমা হিসেবে শুরু হওয়া ঠাকুরগাঁও ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হলেও এখনও যেন অবহেলিতই রয়ে গেছে। এবার নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি আসনে ২০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত আসন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর)।
২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা ঠাকুরগাঁও সদর। এখানে ভোটার চার লাখ ৮৭ হাজার ১শ ৭৫। সংখ্যালঘু ভোটার এক লাখ ১৯ হাজার। নতুন ভোটার এক লাখ ৯২ হাজার ৫শ ৬৭। অনেকে বলছেন সংখ্যালঘু, নতুন ভোটার ও ভাসমান ভোটাররা জয়-পরাজয়ের নিয়ামক।

















