ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে এগিয়ে বিএনপি-শক্ত অবস্থানে জামাতসহ স্বতন্ত্র এক প্রার্থী

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০২৪ বার পড়া হয়েছে
খাগড়াছড়িতে এগিয়ে বিএনপি-শক্ত অবস্থানে জামাতসহ স্বতন্ত্র এক প্রার্থী
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
আর মাত্র দুইদিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রায় ২ হাজার ৭শ বর্গকিলোমিটার আয়তনের খাগড়াছড়ি জেলা ৯টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা ও ৩৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়িতে রাজনীতির মাঠ জমে উঠছে। এই জেলায় একটিমাত্র সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ জন প্রার্থী।
তবে এগিয়ে আছে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া, শক্ত অবস্থানে জামাতসহ স্বতন্ত্র এক প্রার্থী। তার মধ্যে মুল যোদ্ধ হবে তিন প্রার্থীর মাঝে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, জামায়েত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. এয়াকুব আলী চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যােতি চাকমা।
জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে পাহাড়ি আঞ্চলিক দলগুলোর ভোটব্যাংক। সরাসরি প্রার্থী না থাকলেও এই সমর্থনই হয়ে উঠেছে প্রার্থীদের জয়ের হিসাব–নিকাশের বড় ফ্যাক্টর।
জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১শ ১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮০ হাজার ২শ ৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯শ ৪ জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ২৭ হাজারেরও বেশি।
জাতীয় দল বনাম স্বতন্ত্র শক্তিঃ-
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টিসহ ৮টি জাতীয় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তবে ভোটের লড়াই মূলত সীমাবদ্ধ হয়ে আসছে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি ও জামায়াতের দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা।
ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। প্রায় দুই দশক পর সংসদে ফেরার লক্ষ্যে দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে শহরের অলিগলি—সবখানেই চলছে তার সরব প্রচারণা। বিএনপির হারানো রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় নিয়ে দিন–রাত মাঠে রয়েছেন তিনি।
ওয়াদুদ ভূইয়ার দাবি, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার সময়ে খাগড়াছড়িতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছিল, গত ১৫ বছর পাহাড়ি–বাঙালি কারো জন্যই প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। আমি ক্ষমতায় আসার আগেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির করে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছি। ক্ষমতায় গেলে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিনা ঘুষে চাকরির ব্যবস্থা করব।
আঞ্চলিক ভোটের হিসাবঃ-
খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফের রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিনের। তারা সরাসরি কোনো প্রার্থীকে গতকাল রবিবার সমর্থন দিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলে তাদের ভোটব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এই ভোটের হিসাবেই আশাবাদী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন, পরিকল্পনায় রয়েছে কৃষি, ফল, বাঁশ, বনজ সম্পদ ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই শিল্প স্থাপন। পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণদের জন্য স্টার্টআপ তহবিল, নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।
প্রথমবারের স্বপ্নঃ-
এদিকে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী। তিনিও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশে আশাবাদী এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ট্যাগস :

খাগড়াছড়িতে এগিয়ে বিএনপি-শক্ত অবস্থানে জামাতসহ স্বতন্ত্র এক প্রার্থী

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
খাগড়াছড়িতে এগিয়ে বিএনপি-শক্ত অবস্থানে জামাতসহ স্বতন্ত্র এক প্রার্থী
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
আর মাত্র দুইদিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রায় ২ হাজার ৭শ বর্গকিলোমিটার আয়তনের খাগড়াছড়ি জেলা ৯টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা ও ৩৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়িতে রাজনীতির মাঠ জমে উঠছে। এই জেলায় একটিমাত্র সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ জন প্রার্থী।
তবে এগিয়ে আছে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া, শক্ত অবস্থানে জামাতসহ স্বতন্ত্র এক প্রার্থী। তার মধ্যে মুল যোদ্ধ হবে তিন প্রার্থীর মাঝে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, জামায়েত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. এয়াকুব আলী চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যােতি চাকমা।
জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে পাহাড়ি আঞ্চলিক দলগুলোর ভোটব্যাংক। সরাসরি প্রার্থী না থাকলেও এই সমর্থনই হয়ে উঠেছে প্রার্থীদের জয়ের হিসাব–নিকাশের বড় ফ্যাক্টর।
জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১শ ১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮০ হাজার ২শ ৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯শ ৪ জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ২৭ হাজারেরও বেশি।
জাতীয় দল বনাম স্বতন্ত্র শক্তিঃ-
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টিসহ ৮টি জাতীয় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তবে ভোটের লড়াই মূলত সীমাবদ্ধ হয়ে আসছে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি ও জামায়াতের দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা।
ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। প্রায় দুই দশক পর সংসদে ফেরার লক্ষ্যে দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে শহরের অলিগলি—সবখানেই চলছে তার সরব প্রচারণা। বিএনপির হারানো রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় নিয়ে দিন–রাত মাঠে রয়েছেন তিনি।
ওয়াদুদ ভূইয়ার দাবি, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার সময়ে খাগড়াছড়িতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছিল, গত ১৫ বছর পাহাড়ি–বাঙালি কারো জন্যই প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। আমি ক্ষমতায় আসার আগেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির করে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছি। ক্ষমতায় গেলে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিনা ঘুষে চাকরির ব্যবস্থা করব।
আঞ্চলিক ভোটের হিসাবঃ-
খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফের রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিনের। তারা সরাসরি কোনো প্রার্থীকে গতকাল রবিবার সমর্থন দিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলে তাদের ভোটব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এই ভোটের হিসাবেই আশাবাদী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন, পরিকল্পনায় রয়েছে কৃষি, ফল, বাঁশ, বনজ সম্পদ ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই শিল্প স্থাপন। পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণদের জন্য স্টার্টআপ তহবিল, নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।
প্রথমবারের স্বপ্নঃ-
এদিকে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী। তিনিও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশে আশাবাদী এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।