ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬

এবি ব্যাংকের ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ,প্রতারক গ্রেফতার

News Editor
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০
  • / ১০৭০ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জে এবি ব্যাংকের ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সদ্য বরখাস্তকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা ফয়সাল আলম সিহাবকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানিকগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, এবি ব্যাংকের মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পারিল শাখায় শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন ফয়সাল আলম সিহাব। সেখান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। পরে প্রতারণাকৃত ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকাসহ সিহাবকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। অপেশাদারী কার্যকলাপের জন্য ৫ জুলাই দায়িত্ব থেকে ফয়সালকে বরখাস্ত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি গোপন রেখে এর দুই দিন পরে ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এবি ব্যাংকের উত্তরা শাখার একটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা জমা করেন তিনি। এক সহযোগীর মাধ্যমে সেখান থেকে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন এবং ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে গাড়ি বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে দিয়ে দুটি নতুন গাড়ি ক্রয় করে ফয়সাল। প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অবগত হয়ে গত ১০ জুলাই সিংগাইর থানায় ফয়সালসহ চারজনকে আসামি করে অভিযোগ করেন এবি ব্যাংকের পারিল শাখার ব্যবস্থাপক আরিফ আহমেদ। পরে উক্ত মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটির তদন্ত দায়িত্ব পেয়ে সিআইডি কর্মকর্তারা তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রয়কৃত নতুন গাড়ি দুটি ঢাকার ঝিগাতলা থেকে ১৮ জুলাই উদ্ধার করেন। আর এই কাজে সহায়তার জন্য একই দিনে গ্রেপ্তার করা হয় মুত্তাকিন আহমেদ সিয়াম নামের ফয়সালের এক বন্ধুকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ জুলাই রাতে সিংগাইরের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রধান আসামি ফয়সালকে। এ সময় তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। বাকি টাকাগুলো উদ্ধার এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকী। গতকাল সোমবার ফয়সালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামে দুটি আলাদা ঘটনায় এবি ব্যাংকের প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার সংস্থার চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদক জানায়, চট্টগ্রামের ম্যাপস স্টিল করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান এবি ব্যাংকের পাহাড়তলি শাখা থেকে কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই ৩৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা এসডিবি ঋণ নেন। এর মাধ্যমে পণ্য আমদানির পর বিক্রি করে শর্ত মোতাবেক সেটা পরিশোধ করেনি। সুদসহ ব্যাংকের মোট পাওনা ৫৮ কোটি ২২ লাখ টাকা তাঁরা আত্মসাৎ করেছেন।

ট্যাগস :

এবি ব্যাংকের ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ,প্রতারক গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০

মানিকগঞ্জে এবি ব্যাংকের ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সদ্য বরখাস্তকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা ফয়সাল আলম সিহাবকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানিকগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, এবি ব্যাংকের মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পারিল শাখায় শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন ফয়সাল আলম সিহাব। সেখান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। পরে প্রতারণাকৃত ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকাসহ সিহাবকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। অপেশাদারী কার্যকলাপের জন্য ৫ জুলাই দায়িত্ব থেকে ফয়সালকে বরখাস্ত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি গোপন রেখে এর দুই দিন পরে ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এবি ব্যাংকের উত্তরা শাখার একটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা জমা করেন তিনি। এক সহযোগীর মাধ্যমে সেখান থেকে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন এবং ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে গাড়ি বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে দিয়ে দুটি নতুন গাড়ি ক্রয় করে ফয়সাল। প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অবগত হয়ে গত ১০ জুলাই সিংগাইর থানায় ফয়সালসহ চারজনকে আসামি করে অভিযোগ করেন এবি ব্যাংকের পারিল শাখার ব্যবস্থাপক আরিফ আহমেদ। পরে উক্ত মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটির তদন্ত দায়িত্ব পেয়ে সিআইডি কর্মকর্তারা তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রয়কৃত নতুন গাড়ি দুটি ঢাকার ঝিগাতলা থেকে ১৮ জুলাই উদ্ধার করেন। আর এই কাজে সহায়তার জন্য একই দিনে গ্রেপ্তার করা হয় মুত্তাকিন আহমেদ সিয়াম নামের ফয়সালের এক বন্ধুকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ জুলাই রাতে সিংগাইরের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রধান আসামি ফয়সালকে। এ সময় তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। বাকি টাকাগুলো উদ্ধার এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকী। গতকাল সোমবার ফয়সালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামে দুটি আলাদা ঘটনায় এবি ব্যাংকের প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার সংস্থার চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদক জানায়, চট্টগ্রামের ম্যাপস স্টিল করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান এবি ব্যাংকের পাহাড়তলি শাখা থেকে কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই ৩৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা এসডিবি ঋণ নেন। এর মাধ্যমে পণ্য আমদানির পর বিক্রি করে শর্ত মোতাবেক সেটা পরিশোধ করেনি। সুদসহ ব্যাংকের মোট পাওনা ৫৮ কোটি ২২ লাখ টাকা তাঁরা আত্মসাৎ করেছেন।