আল্লাহর পরিচয়

1297

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আল্লাহর পরিচয়

(নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ আয়াত-এর তরজমা ও তাফসীর) নিচে ব্যাখ্য আয়াতে কারীমাহ্

اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ (255

[البقرة: 255]বাংলা অনুবাদ

আল্লাহ ; তিনি ব্যতীত অন্য কোন (সত্য) উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর ধারক। [১] তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্ত তাঁরই। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?

তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে, তা তিনি অবগত আছেন। যা তিনি ইচ্ছা করেন, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসী [২] আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পরিব্যাপ্ত। আর সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, মহামহিম।

সূরার নাম ঃ বাক্বারাহ্ (গাভী)
অবর্তীণ ঃ মদীনায়
আয়াত নম্বরঃ ২৫৫

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] এটিকে আয়াতুল কুরসী বলা হয়। এর অনেক ফযীলত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, এই আয়াত হল কুরআনের অতীব মহান আয়াত। এটা পড়লে রাতে শয়তান থেকে হিফাযতে থাকা যায়। প্রত্যেক ফরয নামাযের পর পড়লে বেহেশত যাওয়ার পথে মরণ ছাড়া অন্য কিছু বাধা থাকে না।
(ইবনে কাসীর)

এটি মহান আল্লাহর গৌরবময় গুণাবলী, তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর পরাক্রমশালীতা ও মহানুভবতা সম্বলিত সংক্ষিপ্ত শব্দে বহুল অর্থ বিশিষ্ট অতীব মহান আয়াত।
[২] ‘কুরসী’র অর্থ কেউ বলেছেন, মহান আল্লাহর পা রাখার স্থান।
কেউ বলেছেন, জ্ঞান।
কেউ বলেছেন, শক্তি ও মাহাত্ম্য।
কেউ বলেছেন, রাজত্ব এবং
কেউ বলেছেন, আরশ।
তবে মহান আল্লাহর গুণাবলীর ব্যাপারে মুহাদ্দেসীন ও সালফে-সালেহীনদের নীতি হল, তাঁর গুণগুলি যেভাবে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলির কোন অপব্যাখ্যা ও ধরন-গঠন নির্ণয় না করে তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
আরও পড়ুন
কাজেই এটাই বিশ্বাস করতে হবে যে, এটা সত্যিকারের কুরসী যা আরশ থেকে পৃথক বস্তু । তার ধরন ও আকৃতি কেমন এবং তাতে মহান আল্লাহ কিভাবে আসীন হন, তা আমরা বর্ণনা করতে পারব না। কেননা, তার অর্থ আমাদের জানা; কিন্তু তার প্রকৃতত্ব আমাদের কাছে অজানা।

আয়াতে কারীমাহ্

سورة الإخلاص
بسم الله الرحمن الرحيم

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (1

اللَّهُ الصَّمَدُ (2

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3</strong(4

বাংলায় অনুবাদ
বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক ও অদ্বিতীয়।
আল্লাহ অমুখাপেক্ষী।
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি।
এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
সূরার নাম ঃ এখলাস
অবর্তীণ ঃ মক্কায়
আয়াত নম্বরঃ ১-৪ পর্যন্ত
আয়াতে কারীমাহ্

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ ثُمَّ رَزَقَكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ هَلْ مِنْ شُرَكَائِكُمْ مَنْ يَفْعَلُ مِنْ ذَلِكُمْ مِنْ شَيْءٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ (40

[الروم: 40

বাংলায়  অনুবাদ

আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন তারপর তিনি তোমাদের রিযিক দান করেছেন অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দিবেন এরপর তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এসমসত কাজের  মধ্যে কোন একটি করতে পারে? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ্ তা থেকে পবিত্র ও মহান।

।সূরার নাম ঃ রুম
।অবর্তীণ ঃ মক্কায়
।আয়াত নম্বরঃ ৪০

লেখক: মুফতি মহসিন উদ্দীন