ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬

মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে মসজিদ কমিটির উপরই দায় চাপাচ্ছে তিতাস

News Editor
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০
  • / ১০৮৫ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে তিতাস গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ থাকলেও মসজিদ কমিটির উপরই দায় চাপাচ্ছে তিতাস ।

বিকেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে তিতাস গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে।

গেল ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩১ জন।

ঘটনার কারণ উদঘাটনে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করার ১৩ দিনের মাথায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার বিকেলে জমা হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে।

তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, অবৈধভাবে ঐ মসজিদের নিচে পাইপ লাইনের রাইজার স্থানান্তর করা হয়েছিল সেখান থেকেই গ্যাস লিকেজ হয়ে মসজিদের পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়ে।এই অবৈধ পাইপ লাইনের এই সমস্যা সারাতে কেউ তিতাসেঅভিযোগ করেনি।

তিতাস তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার বলেন, মসজিদের ফ্লোরের ৩ ফিট থেকে সাড়ে ৩ফিট নিচে আমাদের পাইপ। সেক্ষেত্রে যদি গ্যাস মসজিদের নিচে চলে যায় তাহলে, সেখানে যে টাইলস লাগানো হয়েছে সে টাইলস কোন শর্তে স্লাবের ওপরে লাগানো হয়েছে? গ্যাসটা ওপরের দিকে চলে আসতে পারছে এবং সেটা জমা হয়েছে মসজিদের এসি চ্যাম্বারে। এসি চ্যাম্বারে আমরা মিটার-বিহীন বৈদ্যুতিক সংযোগ পেয়েছি। সেই স্পার্ক থেকে মসজিদের ভিতর যে গ্যাস জমানো ছিল সেই গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ অথবা সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন,একটা পরিত্যক্ত রাইজারে ছিদ্র পেয়েছি। এই রাইজারটাকে যারা লিক করলো, পরিত্যক্ত বানালো সেটা ওইখানের গ্রাহক যদি তার নিজস্ব উদ্যোগে করে থাকে, শনাক্ত হয়ে যায় তবে আমি তিতাস গ্যাসকে দায়ী করব।  

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমি মনে করি কেউ কারো দায়িত্ব কিন্তু এড়াতে পারে না। এই রিপোর্টের মধ্যে কিন্তু বলা হয় নাই যে, তাদের দায়িত্ব থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে শুধুমাত্র ঘটনাটা উল্লেখ করা আছে। আমার বিভাগ থেকে যে গাফিলতিগুলো আছে, সেটাও কিন্তু তারা কোনোমতে এড়াতে পারবে না। 

এদিকে, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বিকেলে জমা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিনের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। ৪০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে গ্যাসের লিকেজ, বৈদ্যুতিক শটসার্কিট, মসজিদ কমিটির অবহেলাকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর রোববার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত প্রতিবেদন জমা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

ট্যাগস :

মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে মসজিদ কমিটির উপরই দায় চাপাচ্ছে তিতাস

আপডেট সময় : ১১:১৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে তিতাস গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ থাকলেও মসজিদ কমিটির উপরই দায় চাপাচ্ছে তিতাস ।

বিকেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে তিতাস গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে।

গেল ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩১ জন।

ঘটনার কারণ উদঘাটনে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করার ১৩ দিনের মাথায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার বিকেলে জমা হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে।

তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, অবৈধভাবে ঐ মসজিদের নিচে পাইপ লাইনের রাইজার স্থানান্তর করা হয়েছিল সেখান থেকেই গ্যাস লিকেজ হয়ে মসজিদের পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়ে।এই অবৈধ পাইপ লাইনের এই সমস্যা সারাতে কেউ তিতাসেঅভিযোগ করেনি।

তিতাস তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার বলেন, মসজিদের ফ্লোরের ৩ ফিট থেকে সাড়ে ৩ফিট নিচে আমাদের পাইপ। সেক্ষেত্রে যদি গ্যাস মসজিদের নিচে চলে যায় তাহলে, সেখানে যে টাইলস লাগানো হয়েছে সে টাইলস কোন শর্তে স্লাবের ওপরে লাগানো হয়েছে? গ্যাসটা ওপরের দিকে চলে আসতে পারছে এবং সেটা জমা হয়েছে মসজিদের এসি চ্যাম্বারে। এসি চ্যাম্বারে আমরা মিটার-বিহীন বৈদ্যুতিক সংযোগ পেয়েছি। সেই স্পার্ক থেকে মসজিদের ভিতর যে গ্যাস জমানো ছিল সেই গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ অথবা সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন,একটা পরিত্যক্ত রাইজারে ছিদ্র পেয়েছি। এই রাইজারটাকে যারা লিক করলো, পরিত্যক্ত বানালো সেটা ওইখানের গ্রাহক যদি তার নিজস্ব উদ্যোগে করে থাকে, শনাক্ত হয়ে যায় তবে আমি তিতাস গ্যাসকে দায়ী করব।  

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমি মনে করি কেউ কারো দায়িত্ব কিন্তু এড়াতে পারে না। এই রিপোর্টের মধ্যে কিন্তু বলা হয় নাই যে, তাদের দায়িত্ব থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে শুধুমাত্র ঘটনাটা উল্লেখ করা আছে। আমার বিভাগ থেকে যে গাফিলতিগুলো আছে, সেটাও কিন্তু তারা কোনোমতে এড়াতে পারবে না। 

এদিকে, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বিকেলে জমা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিনের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। ৪০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে গ্যাসের লিকেজ, বৈদ্যুতিক শটসার্কিট, মসজিদ কমিটির অবহেলাকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর রোববার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত প্রতিবেদন জমা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।