Home Bangladesh গোপালগঞ্জে ভিবিডির মাস্ক সচেনতা বৃদ্ধি

গোপালগঞ্জে ভিবিডির মাস্ক সচেনতা বৃদ্ধি

গোপালগঞ্জে ভিবিডির মাস্ক সচেনতা বৃদ্ধি
জান্নাতুল,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ২০২০ সালের মহামারীর আরেক নাম প্রানঘাতী নবেল করোনা ভাইরাস।আজ বৃহস্পতিবার দীর্ঘ চার ঘন্টা ব্যাপী(সকাল ৮টা হতে-দুপুর ১টা) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে মাস্ক সচেনতা মূলক কাজ ও বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করেন ভলেন্টিয়ার ফর বাংলাদেশ(ভিবিডি)গোপালগঞ্জ শাখা। বাংলাদেশে দ্বিতীয় ওয়েবের করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সারাদেশে প্রতিটি জেলার বিভিন্ন স্থানে মাস্ক সচেনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি পালন করেন জাগো ফাউন্ডেশনের অঙ্গ সংগঠন ভলেন্টিয়ার ফর বাংলাদেশের (ভিবিডি)স্বেচ্ছাসেবী দল।গোপালগঞ্জে চৌরঙ্গী, লন্চঘাট ও কুয়াডাঙ্গা তিনটি জন সমাগমপূর্ণ স্থানে প্রায় একশোরও অধিক ভলেন্টিয়ার রাস্তায় চলমান মাস্কবিহীন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে তারা মাস্ক পরিধানে উদ্বুদ্ধ করেন।এদের মধ্যে ৫০০ বেশি অস্বচ্ছল,দিনমুজুরে মানুষদেরকে বিনামূল্যে মাস্ক পড়িয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবীরা।এছাড়াও বিভিন্ন সচেনতা মূলক বাক্য, “মাস্ক থাকলে মুখে দেশ থাকবে সুখে”, ” আবারো বাড়ছে করোনা মাস্ক ছাড়া বেরবো না”,”আমরা যদি না সচেতন হই, কেমনে দেশ করোনা মুক্ত হবে” ইত্যাদি পোস্টারের মাধ্যমে সচেনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন।বাংলাদেশে গরম আবহাওয়ায় করোনার আগমন ঘটলেও ক্রমেই সংক্রমণের হার বাড়তে বাড়তে এ পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় সাড়ে চার লক্ষের কাছাকাছি,যেখানে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনে শীতের প্রকোপে বিগত সাতমাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বা তিনগুন হারে বৃদ্ধি পেতে পারে করোনা সংক্রমণ।অথচ প্রথম দিকে করোনা নিয়ে মানুষ যতটা সচেতন ছিলেন এখন তার পুরোটাই মানতে ভুলে গিয়েছেন,হাটবাজার মার্কেট লোকালয় কোথাও দেখা মেলে না মাস্ক পরিধানকারী ব্যক্তি।অনেকে মাস্ক সঙ্গে করে নিয়ে আসলেও সেটি থাকে মাথার উপরে, নয়তো পকেটে।অথচ এ মহামারি সংক্রমনের হাত থেকে রেহাই পেতে মাস্ক ব্যবহার, হাত পরিষ্কার রাখা,নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলার কোন বিকল্প নেই।ভিবিডির ভলেন্টিয়াররা জানান,সারাদেশে প্রতিটি জেলায় একই সময় একই সাথে জনসচেতনতার কাজটি আবারো মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে সহায়তা করবে বলে আশা করেন। এদিকে গত মঙ্গলবার খুলনা জেলায় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাস্ক পরিধান অভিযান করেন,যেখানে হুশুয়ারি দেন মাস্কবিহীন কোন ব্যক্তিকে জরিমানা থেকে জেল পর্যন্ত যেতে হতে পারে।       ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ১৮৪৫ জন, ১৩ জনের মৃত্যু   দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ১৮৪৫ জন আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬ হাজার ১৪০ জন। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৮৪৫ জনের দেহে। এ নিয়ে মোট করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হলো ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন করোনা রোগী। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ দিন সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৭ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৮ জন। এর আগে বুধবার (১১ নভেম্বর) দেশে আরও আরও ১ হাজার ৭৩৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান আরও ১৯ জন। আরও পড়ুন: বিশ্বে একদিনেই করোনা আক্রান্ত ৫ লাখ ৪২ হাজার এদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৯১৭ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৫ কোটি ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪ জন। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, এরইমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজারের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ১ হাজার ৩৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটি এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে। এখন দুই লাখ ৪৫ হাজারের বেশি প্রাণ গেল। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্যে বেড়েছে শনাক্তের হার। মোট ১ কোটি ৫ লাখের বেশি সংক্রমিত। ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৫১১ জন। এদিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৪ হাজার ৬৭৯ জন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা এক লাখ ২৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার। ব্রাজিলে মৃত্যু হয়েছে ২০৪ জনের। দেশটিতে মোট প্রাণহানি এক লাখ ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। নতুন ১১ হাজার সংক্রমণে মোট আক্রান্ত ৫৭ লাখ ১ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে করোনার প্রকোপ কমছেই না। এদিকে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েছে ফ্রান্সে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৮৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেল। এছাড়া দেশটিতে ১৮ লাখ ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত। ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে মহামারি এ ভাইরাস। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।