কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবিন্দপুরে একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা কারাগারে থাকার সুযোগে বাড়িঘর লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে। পরিবারগুলোর অভিযোগ বাদীপক্ষের লোকজন তাদের ঘরের আসবাবপত্র, গরু, ছাগল বাড়ির চারপাশ থেকে গাছ কেটে বাজারে বিক্রি, পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া এবং লুটপাট শেষে বাড়িতে আগুন দিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে।
আদালতে জামিন পেলেও ১ বছরের বেশি সময় ধরে বাড়িঘরে যেতে পারছেন না তারা। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী ও শিশুদের। এ নিয়ে মামলার বাদীপক্ষের লোকজনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত। নিরাপত্তার অভাবে বাড়িতে ঢুকতে না পারায় গ্রামের এবাড়ি ওবাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন একটু আশ্রয়ের আশায়। ওই পরিবারের নারী সদস্যরা বলেন, অনেক আগেই তাঁদের বাড়িঘর ভাংচুর করে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী কথা বল্লেই তাদেরকে মামলার হুমকি দেয় বাদীপক্ষ। যার ফলে ভয়ে কেউই এগিয়ে আসতে সাহস পায়না।
এলাকাবাসী বলছে- ঘটনার প্রথম ৩দিন গ্রামবাসী তাদের বাড়িঘর পাহারা দিলে বাদীপক্ষের লোকজন এলাকাবাসীকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখায়। পরে এলাকাবাসী সরে গেলে বাদীপক্ষে লোকজন লুটপাট করে।
তারা আরও জানান, এই হত্যাকে কেন্দ্র করে মামলার বাদীপক্ষ হরিলুটের সুযোগ পেয়েছে। ইচ্ছামতো নাম বসিয়ে নিরীহ সহজ-সরল এলাকার সম্মানিত মানুষকে মামলার আসামি করা হয়েছে। যদিও হত্যাটি সুনিদিষ্ট একজনের দ্বারায় হয়েছে এবং আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন- হত্যা মামলার মূল আসামি জেল হাজতে আছে। অন্যান্য আসামিরা আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়েছে। তাদের বাড়িতে থাকতে দিবেনা বা তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করবে সেটা হতে পারেনা। অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।