ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬ Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীনতা, সারাদেশে বাধাহীন ‘মব’-২০২৫ Logo সড়ক পাশে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর বাবার বাড়ি খাগড়াছড়ি

করিমগঞ্জে ইউএনও বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রকল্প আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১০৬৮ বার পড়া হয়েছে

ইউএনও তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভার সচেতন নাগরিকদের মানববন্ধন। ছবি: আস্থা


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা ও পৌরসভার সচেতন নাগরিকরা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় করিমগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে ইউএনও বাধা প্রদান করেন বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, করিমগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর সুমন মোড়ল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম রাসেল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বজলুর রহমান, সমাজসেবক বায়েজিদ হোসেন হৃদয় সাবেক মহিলা কাউন্সিলর বেদেনা আক্তারসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর করিমগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই ইউএনও তাহমিনা আক্তার পুরো উপজেলা ও পৌরসভাকে দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করেছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়া ও সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শুরু থেকেই নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। বক্তাদের দাবি, পৌরসভার নিজস্ব সিএনজি স্ট্যান্ড না থাকলেও গোপনে অবৈধ ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্ধারিত ড্রেন নির্মাণ না করেই বরাদ্দের পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার রোড লাইট বন্ধ, পানি সংযোগ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অথচ প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টিসিবি কার্ডধারী নিয়মিত পণ্য পাচ্ছেন না।

মানববন্ধন চলাকালীন ইউএনওর দেহরক্ষীদের বাধা। ছবি: সংগৃহীত


বক্তারা বলেন, পৌরসভা থেকে বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ২০ ও ৫০ টাকার ফি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ২০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা চরম স্বেচ্ছাচার ও জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ইউএনও ফ্যাসিবাদী মনোভাবাপন্ন কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তাঁদের দোসরদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা ও পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিয়মিত সভায় অনুপস্থিত থেকেও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কিছু চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি প্রকল্পের অর্থ থেকে চেয়ারম্যান ও সচিবদের বিলাসী ভ্রমণ ও দামী রিসোর্টে অবস্থানের খরচ বহন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

বক্তারা আরও দাবি করেন, টিআর, জিআর, কাবিখা, এডিপি ও এলজিএসপিসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য, ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে। পছন্দের ঠিকাদার ও ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ বণ্টনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে ইউএনও তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং করিমগঞ্জে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ ধরনের সমাবেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। ওই সময় এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে গিয়ে মানববন্ধনকারীদের উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে এনে তাদের অভিযোগ শুনেছেন। কাউকে মানববন্ধনে বাধা দেওয়া হয়নি।

মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির বলেন, মানববন্ধনে কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় অভিযোগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে তাদের অফিসে ডেকে আনা হয়। আলোচনায় তারা যেসব বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি বিষয়টি সমাধান হয়েছে।

করিমগঞ্জে ইউএনও বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রকল্প আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউএনও তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভার সচেতন নাগরিকদের মানববন্ধন। ছবি: আস্থা


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা ও পৌরসভার সচেতন নাগরিকরা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় করিমগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে ইউএনও বাধা প্রদান করেন বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, করিমগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর সুমন মোড়ল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম রাসেল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বজলুর রহমান, সমাজসেবক বায়েজিদ হোসেন হৃদয় সাবেক মহিলা কাউন্সিলর বেদেনা আক্তারসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর করিমগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই ইউএনও তাহমিনা আক্তার পুরো উপজেলা ও পৌরসভাকে দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করেছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়া ও সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শুরু থেকেই নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। বক্তাদের দাবি, পৌরসভার নিজস্ব সিএনজি স্ট্যান্ড না থাকলেও গোপনে অবৈধ ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্ধারিত ড্রেন নির্মাণ না করেই বরাদ্দের পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার রোড লাইট বন্ধ, পানি সংযোগ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অথচ প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টিসিবি কার্ডধারী নিয়মিত পণ্য পাচ্ছেন না।

মানববন্ধন চলাকালীন ইউএনওর দেহরক্ষীদের বাধা। ছবি: সংগৃহীত


বক্তারা বলেন, পৌরসভা থেকে বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ২০ ও ৫০ টাকার ফি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ২০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা চরম স্বেচ্ছাচার ও জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ইউএনও ফ্যাসিবাদী মনোভাবাপন্ন কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তাঁদের দোসরদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা ও পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিয়মিত সভায় অনুপস্থিত থেকেও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কিছু চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি প্রকল্পের অর্থ থেকে চেয়ারম্যান ও সচিবদের বিলাসী ভ্রমণ ও দামী রিসোর্টে অবস্থানের খরচ বহন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

বক্তারা আরও দাবি করেন, টিআর, জিআর, কাবিখা, এডিপি ও এলজিএসপিসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য, ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে। পছন্দের ঠিকাদার ও ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ বণ্টনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে ইউএনও তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং করিমগঞ্জে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ ধরনের সমাবেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। ওই সময় এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে গিয়ে মানববন্ধনকারীদের উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে এনে তাদের অভিযোগ শুনেছেন। কাউকে মানববন্ধনে বাধা দেওয়া হয়নি।

মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির বলেন, মানববন্ধনে কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় অভিযোগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে তাদের অফিসে ডেকে আনা হয়। আলোচনায় তারা যেসব বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি বিষয়টি সমাধান হয়েছে।