ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জের বড়ইতলা গণহত্যা দিবস আজ

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৩
  • / ১১৪৬ বার পড়া হয়েছে

বড়ইতলা গণহত্যা

আজ ১৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের বড়ইতলা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ও যশোদল ইউনিয়নের বড়ইতলায় ৩৬৫ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি জ্বালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সেই থেকে এ দিনটি বড়ইতলা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৭টায় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যশোদল ইউনিয়ন পরিষদ,কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ, যশোদল  আওয়ামী লীগ, কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া বড়ইতলা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়েছে।

বড়ইতলা গণহত্যা দিবস
বড়ইতলা গণহত্যা দিবস ছবি: দৈনিক আস্থা

জানা যায়, ১৯৭১ সালের এদিন (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ট্রেনে করে কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বড়ইতলায় আসে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ-দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস। পরে তারা পাশের গ্রাম দামপাড়ায় প্রবেশ করে চার থেকে পাঁচজন নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দাকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রাণে বাঁচতে কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের দামপাড়া, বীরদামপাড়া, কড়িয়াইল, তিলকনাথপুর, গোবিন্দপুর, চিকনিরচরসহ আশপাশের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীরা গ্রামের সাধারণ মানুষকে সভা হবে বলে ডেকে বড়ইতলা নিয়ে যায়। পরে তাদের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় রাজাকাররা পাকিস্তানি সৈন্যদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাড়িঘরে লুটতরাজ, নারী নিপীড়ন ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় এক রাজাকার গুজব ছড়ায় যে, গ্রামবাসী দুই পাকিস্তানি সৈনিককে মেরে ফেলেছে। এ গুজবের পর বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেললাইনের পাশে বড়ইতলায় নিরীহ ৩৬৫ গ্রামবাসীকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।

দেশ স্বাধীনের পর তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বড়ইতলার গণহত্যাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বড়ইতলার নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদনগর’ রাখা হয়। শহীদদের স্মরণে সেখানে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়। ২০০০ সালে সরকারের সহযোগিতায় বড়ইতলা রেললাইনের পাশে ৬৬৭ বর্গফুট এলাকায় ২৫ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

 

কিশোরগঞ্জের বড়ইতলা গণহত্যা দিবস আজ

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৩

আজ ১৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের বড়ইতলা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ও যশোদল ইউনিয়নের বড়ইতলায় ৩৬৫ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি জ্বালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সেই থেকে এ দিনটি বড়ইতলা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৭টায় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যশোদল ইউনিয়ন পরিষদ,কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ, যশোদল  আওয়ামী লীগ, কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া বড়ইতলা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়েছে।

বড়ইতলা গণহত্যা দিবস
বড়ইতলা গণহত্যা দিবস ছবি: দৈনিক আস্থা

জানা যায়, ১৯৭১ সালের এদিন (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ট্রেনে করে কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বড়ইতলায় আসে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ-দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস। পরে তারা পাশের গ্রাম দামপাড়ায় প্রবেশ করে চার থেকে পাঁচজন নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দাকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রাণে বাঁচতে কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের দামপাড়া, বীরদামপাড়া, কড়িয়াইল, তিলকনাথপুর, গোবিন্দপুর, চিকনিরচরসহ আশপাশের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীরা গ্রামের সাধারণ মানুষকে সভা হবে বলে ডেকে বড়ইতলা নিয়ে যায়। পরে তাদের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় রাজাকাররা পাকিস্তানি সৈন্যদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাড়িঘরে লুটতরাজ, নারী নিপীড়ন ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় এক রাজাকার গুজব ছড়ায় যে, গ্রামবাসী দুই পাকিস্তানি সৈনিককে মেরে ফেলেছে। এ গুজবের পর বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেললাইনের পাশে বড়ইতলায় নিরীহ ৩৬৫ গ্রামবাসীকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।

দেশ স্বাধীনের পর তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বড়ইতলার গণহত্যাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বড়ইতলার নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদনগর’ রাখা হয়। শহীদদের স্মরণে সেখানে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়। ২০০০ সালে সরকারের সহযোগিতায় বড়ইতলা রেললাইনের পাশে ৬৬৭ বর্গফুট এলাকায় ২৫ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।