সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আইনজীবী মনিরকে ঘিরে নানশ্রী গ্রামে ক্ষোভ
কৃষিজমিতে পুকুর খনন, আইনজীবীর বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১১৮০ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামে ফসলি জমি দখল, দলিল জালিয়াতি ও পুকুর খননকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নিকলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউল হাসান খান মনির।
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি শুধু গ্রামবাসী নয়, নিজ পরিবারের লোকজনকেও হয়রানি করেছেন।
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি হাজী ফরিদ উদ্দিন আহমাদের দখলীয় এসএ ৩৮০ নং খতিয়ানভুক্ত আরএস ১৯৭২ ও ১৯৭৪ দাগের ৪৪ শতাংশ এবং আরএস ৪১১ নং খতিয়ানের ১৯৮৬ দাগের ২১ শতাংশ ফসলি জমি মোট ৬৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে কেটে পুকুর খনন করেন অ্যাডভোকেট মনির। এতে শুধু জমির শ্রেণিই নষ্ট হয়নি, জমির মালিকের জীবিকার পথও বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের বাধার মুখে পরে সালিশ বৈঠকে এওয়াজবদলের মাধ্যমে অন্য খতিয়ানে ৭০ শতাংশ জমি দেওয়ার শর্ত হয়। কিন্তু অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি মতো রেজিস্ট্রি না করে উল্টো দলিল জালিয়াতি ও শর্ত জুড়ে কাগজপত্রে নানা ফন্দি আঁটেন মনির। ফরিদ উদ্দিন জমি ফেরত চাইলে তার পরিবারকে ভূমিদস্যু ও জামায়াত-বিএনপির ট্যাগ দিয়ে মামলা দায়ের করেন।
এওয়াজবদল দলিলের সাক্ষী হাজী আ. সাত্তার জানান, ‘মনির শর্ত দিয়েছিল তার ভাই বিদেশ থেকে ফিরলেই সাফ-কাওলা রেজিস্ট্রি করে দেবে। কিন্তু সেটা না করে ফরিদ উদ্দিনদের মতো ধার্মিক পরিবারকে জামায়াত-বিএনপি ট্যাগ দিয়ে ভূমিদস্যু বানিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। এর বিচার হওয়া উচিত।’
মনিরের মামলায় সাক্ষী বানানো কুতুব উদ্দিন ও রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমাদের নাম পরামর্শ ছাড়াই মামলার এজহারে লেখা হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই ফরিদ উদ্দিন পরিবারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেব না।’
আইনজীবী মনির ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পদে থাকার সময় থেকেই তিনি গ্রামে প্রভাব বিস্তার করতেন। অনেককে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটিয়েছেন। এমনকি নিজের চাচাকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেন এবং তিনি জেলের ভেতরেই মারা যান। স্থানীয়রা জানান, লাশ আনতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টে উকিলের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। সে উল্টো সবাইকে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। আমরা বহু বছর ধরে তার অত্যাচার সহ্য করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট জিয়াউল হাসান খান মনির বলেন, তার ফিশারিতে সরকারি বা অন্য কারও ব্যক্তিগত জমি নেই। তবে দলিল জালিয়াতি ও স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু স্ট্যাম্পে নকল স্বাক্ষর ও শর্ত যোগ করার বিষয়টি দেখানো হলে তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি।
নানশ্রী গ্রামের মানুষ এখন এক প্রশ্নে একতাবদ্ধ- কতদিন এভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হবে? ফরিদ উদ্দিন পরিবারসহ অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব আর পেশার আড়ালে থেকে মনির বছরের পর বছর নিরীহ মানুষের ক্ষতি করেছেন। এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছেন তারা।











