কিশোরগঞ্জে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা ও লুটপাট
- আপডেট সময় : ১২:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
- / ১১৩২ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের শ্রীমন্তপুর গ্রামে খেলার সময় শিশুদের ঝগড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সংঘবদ্ধ হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারী ওপর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
গত, ১৩ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করেছে বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন নজরুল ইসলাম, তাঁর ভাই আরজু মিয়া ও ভাবি বিথী আক্তার। বর্তমানে তাঁরা কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় আহত মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, শ্রমন্তপুর গ্রামের মৃত আকবর হোসেনের ছেলে মো. আবু বাক্কার (৬৫), বাবুল মিয়ার ছেলে রাব্বুল মিয়া (২৬), মৃত আ. বারিকের ছেলে আবু বাক্কার (৩৭), মৃত আবুল হোসেনের ছেলে জসু মিয়া (৫৫), বাবুল মিয়ার ছেলে রিফাত (২৪), জসু মিয়া ছেলে জহুরুল মিয়া (২৫), মৃত আকবর হোসেন ছেলে বাবুল মিয়া (৫২), আঃ ছাত্তারের ছেলে সোহলে মিয়া (২৩), হুমায়ূন মিয়া ছেলে চাঁদ মিয়া (১৯), আবু বাক্কারের স্ত্রী জাহিমা আক্তার(৩৪), কাজিম উদ্দিনের ছেলে রেদোয়ান।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলামের ছয় বছরের ভাতিজা জারিফ প্রতিবেশী মদিনা আক্তারের ছেলের সঙ্গে খেলতে গিয়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে রাতে বিবাদীরা ধারালো দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে নজরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলার সময় রাব্বুল মিয়া নজরুল ইসলামের মাথায় দা দিয়ে কোপ দেন এবং আবু বাক্কার লোহার রড দিয়ে চোখে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। নজরুলের ভাই আরজু মিয়া ও ভাবি বিথী আক্তার বাধা দিতে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।
বিথী আক্তার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁর ওপর শ্লীলতাহানি চালিয়ে গলা থেকে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করে এবং নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ। আগে একটি পরিবারকেও তুচ্ছ ঘটনায় ঘর পুড়িয়ে গ্রামছাড়া করেছিল তারা। এবারও একইভাবে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
তবে অভিযুক্তদের একজন আবু বাক্কার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওদের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। ইদানীং আমার বাচ্চাদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। পরে আমারা প্রতিবাদ করতে গেল ওরা নিজেদের মাথা নিজেরা ফাটিয়ে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করে আমাদের ফাঁসাতে চাচ্ছে।
কিশোগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত রাতে এই বিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীকে কোনো ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।




















