ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo নির্বাচনী ব্যস্ততায় প্রশাসনিক গতি কমেছে, মাঠে ও সচিবালয়ে ঢিলেমি Logo কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo যা থাকবে জামায়েতের নির্বাচনী ইশতেহারে Logo যা থাকবে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে Logo গণভোটে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা ও জনগণের সার্বভৌম অধিকার: সংবিধান, সরকার এবং হ্যাঁ/না ভোটের প্রশ্ন Logo খাগড়াছড়িতে একমঞ্চে জনগণের মুখোমুখি ১০ প্রার্থী Logo পানছড়িতে ধানের শীষের সমর্থনে শ্রমিক দলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo শেরপুরে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত অন্তত-৪ Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ-এয়াকুব আলী Logo খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল শেষে সমাবেশে

শেখ হাসিনা নেই, কিন্তু জনগণের প্রশ্ন রয়েই গেছে আমরা আসলে কোথায়?

৫ আগস্টের এক বছর: শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ কোন পথে

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৪৩১৬ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আজ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘটে যায় একটি ঐতিহাসিক মোড়। দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনা দেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যক্তিগত বিমানে দেশত্যাগ করেন। এরপর থেকে আজ ৫ আগস্ট ২০২৫ একটি পূর্ণ বছর পেরিয়ে গেছে। দেশ এখন এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিচালিত হচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তী জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ।

প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত বছরের জুন-জুলাই মাসে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও গণজাগরণ। সেনাবাহিনীর নিরব অবস্থান, প্রশাসনের ভেতরে বিরোধ এবং আন্তর্জাতিক চাপের সমন্বয়ে শেখ হাসিনার সরকার ভেঙে পড়ে। তাকে নিয়ে নানা তথ্য ও গুজব থাকলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করে, তিনি বর্তমানে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে, যার প্রধান হচ্ছেন অর্থনীতিবিদ ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস। এই সরকারের লক্ষ্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমতা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এক নতুন রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি তৈরি করা।

৫ আগস্ট উপলক্ষে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণআন্দোলন দিবস’। ঢাকায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই ডিক্লারেশন’। সেখানে আগামী ৬ মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। শহরজুড়ে চলেছে র‍্যালি, মিছিল, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম।

তবে অন্যদিকে রয়েছে বাস্তবতার একটি তিক্ত দিক। দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে, কর্মসংস্থানের হার কমেছে, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এখনো দুরূহ। শুধু গত এক বছরে ৬০০-এর বেশি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই রূপান্তরের মূল্যায়নও বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এই পরিবর্তনকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সূচনা বলে স্বাগত জানিয়েছে। ভারত এখনো কৌশলী অবস্থান বজায় রেখেছে, তবে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। চীন ও রাশিয়াও অর্থনৈতিক স্বার্থে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

জনগণের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ কেউ মনে করছেন শেখ হাসিনার শাসনের অবসান একটি মুক্তির দরজা খুলেছে, কেউ বলছেন নতুন শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকেও এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি। অনেকের চোখে এটা একটি রাজনৈতিক শূন্যতা, যেখানে স্বস্তি নেই, স্থিরতা নেই।

এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সুষ্ঠু নির্বাচন, ন্যায্য বিচার ও শৃঙ্খলার পরিবেশ নিশ্চিত করা। জনগণ এখন প্রশ্ন করছে এই পরিবর্তন কি আসলেই গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছে, নাকি কেবল পুরনোরই এক নতুন সংস্করণ?

একজন মানবাধিকার সংগঠক ও সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, এই সন্ধিক্ষণে গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও নাগরিক অংশগ্রহণের ভূমিকাই সবচেয়ে জরুরি। কারণ ইতিহাসের এমন সময়গুলোতেই সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এমএইচ মানিক 
সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর
ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশন।

শেখ হাসিনা নেই, কিন্তু জনগণের প্রশ্ন রয়েই গেছে আমরা আসলে কোথায়?

৫ আগস্টের এক বছর: শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ কোন পথে

আপডেট সময় : ০৪:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আজ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘটে যায় একটি ঐতিহাসিক মোড়। দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনা দেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যক্তিগত বিমানে দেশত্যাগ করেন। এরপর থেকে আজ ৫ আগস্ট ২০২৫ একটি পূর্ণ বছর পেরিয়ে গেছে। দেশ এখন এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিচালিত হচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তী জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ।

প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত বছরের জুন-জুলাই মাসে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও গণজাগরণ। সেনাবাহিনীর নিরব অবস্থান, প্রশাসনের ভেতরে বিরোধ এবং আন্তর্জাতিক চাপের সমন্বয়ে শেখ হাসিনার সরকার ভেঙে পড়ে। তাকে নিয়ে নানা তথ্য ও গুজব থাকলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করে, তিনি বর্তমানে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে, যার প্রধান হচ্ছেন অর্থনীতিবিদ ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস। এই সরকারের লক্ষ্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমতা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এক নতুন রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি তৈরি করা।

৫ আগস্ট উপলক্ষে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণআন্দোলন দিবস’। ঢাকায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই ডিক্লারেশন’। সেখানে আগামী ৬ মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। শহরজুড়ে চলেছে র‍্যালি, মিছিল, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম।

তবে অন্যদিকে রয়েছে বাস্তবতার একটি তিক্ত দিক। দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে, কর্মসংস্থানের হার কমেছে, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এখনো দুরূহ। শুধু গত এক বছরে ৬০০-এর বেশি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই রূপান্তরের মূল্যায়নও বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এই পরিবর্তনকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সূচনা বলে স্বাগত জানিয়েছে। ভারত এখনো কৌশলী অবস্থান বজায় রেখেছে, তবে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। চীন ও রাশিয়াও অর্থনৈতিক স্বার্থে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

জনগণের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ কেউ মনে করছেন শেখ হাসিনার শাসনের অবসান একটি মুক্তির দরজা খুলেছে, কেউ বলছেন নতুন শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকেও এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি। অনেকের চোখে এটা একটি রাজনৈতিক শূন্যতা, যেখানে স্বস্তি নেই, স্থিরতা নেই।

এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সুষ্ঠু নির্বাচন, ন্যায্য বিচার ও শৃঙ্খলার পরিবেশ নিশ্চিত করা। জনগণ এখন প্রশ্ন করছে এই পরিবর্তন কি আসলেই গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছে, নাকি কেবল পুরনোরই এক নতুন সংস্করণ?

একজন মানবাধিকার সংগঠক ও সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, এই সন্ধিক্ষণে গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও নাগরিক অংশগ্রহণের ভূমিকাই সবচেয়ে জরুরি। কারণ ইতিহাসের এমন সময়গুলোতেই সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এমএইচ মানিক 
সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর
ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশন।