আগুনে সব হারানো মেয়েটির বিয়েতে এগিয়ে এলো উপজেলা প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
- / ১০৩৯ বার পড়া হয়েছে
নওশাদ আনসারী,সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: বিয়ের জন্য চলছিল কেনাকাটা। বিয়ের জন্য টুকটাক করে আসবাবপত্র কিনে বাসায় আনা হচ্ছিল। জমা করা হয়েছিল বেশ কিছু টাকাও। কিন্তু আকস্মিক আগুনে পড়নের কাপড় বাদে পুড়ে যায় সবকিছু। মেয়ে চাঁদনীর (২৭) বিয়ে কি আদৌ কি হবে? এই চিন্তায় কান্না থামছিলনা মা-বাবার। অবশেষে আগুনো সব হারানো সেই মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিল সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন।প্রাথমিকভাবে বিয়ের জন্য চাদনীর মা ইয়াসমিনের হাতে তুলে দেওয়া হল ৫০ হাজার টাকা। সাথে দেওয়া হল ২ ব্যান্ডেল ঢেউটিন। দেওয়া হবে আরও কিছু।
রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আগুনে সব হারানো ৫টি পরিবারকে ২ ব্যান্ডেল করে ঢেউটিন, বইখাতা পুড়ে যাওয়া অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী নওশীন ও ১০ম শেণির ছাত্র তাহাকে সবগুলো বই এবং বিয়ের জন্য নওশীনের পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ও অফিসার্স ক্লাব অব সৈয়দপুরেরর সার্বিক সহযোগিতা সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফয়সাল রায়হান উপস্থিত থেকে ওই সামগ্রী তাঁদের হাতে তুলে দেন। উল্লেখ্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় এক অগ্নিকান্ডে ৫ টি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে যায়। তার মধ্যে রংপুর মডেল কলেজে স্নাতকপড়ুয়া ছাত্রী নওশীন আকতারের ঘরের আসবাবপত্র, পরনের পোশাক ও বইপত্র ও তার বড় বোন চাদনীর বিয়ের জন্য রাখা সবকিছু পুড়ে যায়। সৈয়দপুরে ওই অগ্নিকান্ডের খবরটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হলে নজরে আসে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল রায়হানের।
ইউএনও ফয়সাল রায়হান জানান, বিয়ের যাবতীয় কিছু পুড়ে যাওয়ায় আমরা উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ও অফিসার্স ক্লাবের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন থেকে ওই মেয়ের বিয়েতে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি। দুই শিক্ষার্থীর বুড়ে যাওয়া সব বইপত্র খরিদ করে দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু দেওয়ার চেস্টা করছি আমরা। সেই সাথে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবারকে ২ ব্যান্ডেল করে ঢেউটিনসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও আগুন লাগার পর তাৎক্ষনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের টিন ও কম্বল দেওয়া হয়। বিতরণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাসজেসা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ, কাশিরাম বেলপুকুর ইউপি চেয়ারম্যা লানচু চৌধুরী, বাঙালিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ডা. শাহজাদা প্রমুখ। সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়ায় রেলওয়ে কোয়ার্টারে গত শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওই অগ্নিকান্ডে ইরাম, নওশীন ও তিশাসহ পাঁচ পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। স্থানীয় দমকল বাহিনীসহ নীলফামারী, উত্তরা ইপিজেড, তারাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিট দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।






















