খরচের টাকা জোগাতে ডিসিস্ট মনিরকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করেন তিন বন্ধু
- আপডেট সময় : ১১:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩
- / ১০৫১ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে চালক মনির হোসেন ওরফে ফয়সাল (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) বিকেলে কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাশেদুল আমিন তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যা মামলায় গ্রেফতার আলী আকবর (২২) ও মো. রাকাত (১৮) জানান, হাতখরচের টাকা জোগাড় করতে গত বছরের ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিন বন্ধু মিলে অটোরিকশাচালক মনিরকে হত্যা করে তাঁর অটোরিকশাটি ছিনতাই করেন। পরে অটোরিকশা বিক্রি করে পাওয়া ১ হাজার ৫০০ টাকা তিন বন্ধু মিলে ভাগ করে নেন। প্রত্যেকে ভাগে পান ৪০০ টাকা করে। বাকি ৩০০ টাকা তাঁদের খরচ হয়। পিবিআইর কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশের সার্বিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ পায় যে, আসামী আলী আকবর, কাউসার ও রাকাত সমবয়সী ও পরস্পরে সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। আসামী আলী আকবর মাগুরা বাজারে একটি সেলুন দোকান আছে। উক্ত সেলুনে তিন বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করে হাতে খরচ করার টাকা নাই, টাকার দরকার তখন তারা একটি অটোরিক্সা ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক তিন বন্ধু মিলে বাজিতপুর থানাধীন সরারচর বাজারে ওয়াজ শুনতে যায়।
সরারচর বাজার থেকে ওয়াজ শুনে সন্ধ্যা অনুমান ৬টার দিকে সরারচর বাজার অটোস্ট্যান্ড হতে আসামী কাউসার একটি অটোরিক্সা দুইশত টাকা ভাড়া করে অটো চালকের ডান পাশে রাকাত ও বাম পাশে আলী আকবর এবং পিছনের ছিটে কাউসার উঠে বলে উজানচরের দিকে যাওয়ার জন্য। উজানচর যাওয়ার মাঝ পথে পূর্ব-পরিকল্পনা মোতাবেক বাজিতপুর থানাধীন বাংলাবাজার পৌছাইলে আসামীগন ডিসিস্ট অটো চালককে বলে গাড়ি ঘুরাইয়া পুনরায় সরারচরের দিকে যাওয়ার জন্য।
পূর্ব-পরিকল্পনা মোতাবেক আসামীগন বাজিতপুর থানাধীন সরারচর বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কাছে তালতলা নামক স্থানে আসা মাত্রই পিছন থেকে কাউছারের সাথে থাকা রশি দিয়া ডিসিস্ট অটোচালক মনির হোসেনের গলায় রশি দিয়ে পেছিয়ে টাইট করে ধরে রাখে। একপর্যায়ে অটো চালকের মৃত্যু নিশ্চিত করে। তিন বন্ধু মিলে তাল তলার নীচে রাস্তার ঢালে অটো চালককে ফেলে দিয়ে আসামী রাকাত অটো চালিয়ে নিয়া ব্রাহ্মনগাঁও নয়াবাজারে শেষ মাথার ডান পাশে একটি গ্যারেজে ছিনতাইকৃত অটো গাড়িটি রাতে চার্জে দিয়া আসামীগন যারযার মত বাড়িতে চলে যায়।
পরের দিন আসামী আলী আকবর, কাউসার ও রাকাত উক্ত গ্যারেজ হতে ছিনতাইকৃত অটোরিক্সা নিয়া বাজিতপুর থানাধীন দুম্মাপুর এলাকায় এডভোকেট মার্কেটের সাদ্দাম ভাঙ্গারী দোকানে উক্ত ছিনতাইকৃত অটোটি ১,৫০০/-টাকায় বিক্রি করিয়া তিন জন প্রত্যেকে সমপরিমান ভাগে ভাগ ৪০০/-টাকা করে নেয় এবং বাকি ৩০০/-টাকা গাড়ি ভাড়া ও খাওয়ার বাবদ খরচ করে।
হত্যাকান্ডের সময় অটোচালকের কাছ হতে ছিনতাই করা মোবাইলটি আসামী আলী আকবর ভাগে পায়। আসামী আলী আকবর উক্ত মোবাইলটি নিয়ে জুয়া খেলার মাঠে পূর্বে উক্ত মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী হৃদয়, পিতা- রহিম এর নিকট ৩০০/-টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। র্যাব ও থানা পুলিশ উক্ত মোবাইলটি উদ্ধার পূর্বক জব্দ করে । তদন্তে প্রাপ্ত আসামী গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।





















