ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করে এমপিওর কাগজ তৈরি, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অধ্যক্ষসহ ৫৫ জনের ভুয়া সনদ! বনপাড়া আদর্শ কলেজে নিয়োগ কেলেঙ্কারি ফাঁস
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১১৮৫ বার পড়া হয়েছে
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রকাশ পেয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার এক ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষসহ ৫৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সনদ জাল বলে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তথ্য অনুযায়ী, কলেজ শাখায় কর্মরত ৭০ জনের মধ্যে ৫০ জন ভুয়া সনদে চাকরি নিয়েছেন! এছাড়া স্কুল শাখার পাঁচজন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকও জাল সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পেয়েছেন।
অভিযোগ আরও গুরুতর—নিয়োগের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করে এমপিওর কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। এমনকি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের ভুয়া প্রতিনিধি দেখিয়েও নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হককে গোটা অনিয়মচক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জানা গেছে, তিনিই নিজে জাল সনদে চাকরি নিয়েছেন এবং একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ—দুটি পদে সরকারি বেতন তুলেছেন বছরের পর বছর।
তদন্তে আরও পাওয়া গেছে, পাঁচজন প্রভাষক একসঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সরকারের কাছ থেকে দুই জায়গার বেতন নিচ্ছিলেন। অনেক শিক্ষক এমন বিষয়ে নিয়োগ পেয়েছেন, যেসব বিষয়ে কলেজের কোনো অনুমোদনই ছিল না!
মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান বলেন,
> “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের বেতন ফেরত নেওয়া ও মামলা হতে পারে।”
তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কলেজ শাখার ৫০ জন ও স্কুল শাখার পাঁচজন শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বেতন-ভাতা বাবদ উত্তোলিত সমস্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে।
এমএইচ/আস্থা




















