ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী Logo যেসব দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও কার্যকর হয়নি Logo শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় রদবদল Logo মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি Logo একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমীর Logo ভারতীয় স্পাইসজেটকে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলো বাংলাদেশ Logo ঝটিকা মিছিল চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৮ কর্মী আটক Logo ইউনূস সরকারের শেষ সময়ের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক কেন? Logo প্রথম আলোয় হামলা: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা-ফাওজুল কবীর

করোনা মহামারিতে শ্রমিকদের দুর্বিষহ জীবন

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মে ২০২১
  • / ১০৫৮ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্কঃ করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান লকডাউনে কষ্টে আছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, দোকানদার, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, গাড়ি ও রিকশাচালকরা। কাজ হারিয়ে তারা এখন ঘরবন্দি।

চাকরি নেই পোশাক ও শিল্পকারখানার অনেক শ্রমিকের।এমন বাস্তবতায় শনিবার (১ মে) শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন ‘মে দিবস’ পালিত হচ্ছে, যখন খেটে খাওয়া এই মানুষগুলো অপেক্ষায় আছেন তাদের সুসময় ফেরার।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাপড ইন বাংলাদেশ এর (এমআইবি) প্রকল্প সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৫০ শতাংশের বেশি কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। অনেক কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে। কর্মী ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ক্ষেত্রে বেশিরভাগই বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নিয়ম মানেনি।

[irp]

জানা গেছে, সীমিত পরিসরে যেসব পোশাক ও শিল্পকারখানার খোলা রয়েছে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরাও আছেন চাকরি হারানোর শঙ্কায়। করোনাকালে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। পাশাপাশি দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে নিয়োজিত আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও হোটেল-রেস্টুরেন্টের অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। দোকানগুলো থেকেও হয়েছে কর্মী ছাঁটাই। কিছু ভাসমান দোকানি শহর ছেড়ে  চলে গেছেন গ্রামে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. মুছা বাংলানিউজকে জানান, শহরে ১৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ১০ হাজার টেম্পো চলাচল করতো। এতে জড়িত ৩০ হাজার শ্রমিকের জীবিকা । কাজ হারিয়ে তারা কষ্টে আছে।

নগরের ফিশারী ঘাট, অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, উপজেলার ইটভাটা ও সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত অনেক শ্রমিকই জানেন না ‘মে দিবস’ এর কথা। তাদের ভাষায়, দিবস দিয়ে কি হবে- যদি পেটে ভাত না থাকে। তবে শ্রমঘন্টার অতিরিক্ত সময় কাজ করানো, ন্যায্য মজুরি না পাওয়ার কষ্ট তাদের কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। কাজ হারানোর ভয়ে পান না প্রতিবাদ করার সাহস।

চট্টগ্রামের দুইটি শ্রম আদালতে নেই পর্যাপ্ত বিচারক। এছাড়া কিছু মামলায় মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে অনীহা, আইনজীবীদের সময়ক্ষেপণ ইত্যাদি কারণে বাড়ছে মামলার জট। বর্তমানে  শ্রম আদালত-১ ও ২য় শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ২ হাজার ৫৪৭টি। এর মধ্যে অর্ধেক মামলা ঝুলে আছে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

ট্যাগস :

করোনা মহামারিতে শ্রমিকদের দুর্বিষহ জীবন

আপডেট সময় : ০২:০২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মে ২০২১

অনলাইন ডেস্কঃ করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান লকডাউনে কষ্টে আছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, দোকানদার, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, গাড়ি ও রিকশাচালকরা। কাজ হারিয়ে তারা এখন ঘরবন্দি।

চাকরি নেই পোশাক ও শিল্পকারখানার অনেক শ্রমিকের।এমন বাস্তবতায় শনিবার (১ মে) শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন ‘মে দিবস’ পালিত হচ্ছে, যখন খেটে খাওয়া এই মানুষগুলো অপেক্ষায় আছেন তাদের সুসময় ফেরার।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাপড ইন বাংলাদেশ এর (এমআইবি) প্রকল্প সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৫০ শতাংশের বেশি কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। অনেক কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে। কর্মী ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ক্ষেত্রে বেশিরভাগই বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নিয়ম মানেনি।

[irp]

জানা গেছে, সীমিত পরিসরে যেসব পোশাক ও শিল্পকারখানার খোলা রয়েছে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরাও আছেন চাকরি হারানোর শঙ্কায়। করোনাকালে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। পাশাপাশি দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে নিয়োজিত আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও হোটেল-রেস্টুরেন্টের অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। দোকানগুলো থেকেও হয়েছে কর্মী ছাঁটাই। কিছু ভাসমান দোকানি শহর ছেড়ে  চলে গেছেন গ্রামে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. মুছা বাংলানিউজকে জানান, শহরে ১৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ১০ হাজার টেম্পো চলাচল করতো। এতে জড়িত ৩০ হাজার শ্রমিকের জীবিকা । কাজ হারিয়ে তারা কষ্টে আছে।

নগরের ফিশারী ঘাট, অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, উপজেলার ইটভাটা ও সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত অনেক শ্রমিকই জানেন না ‘মে দিবস’ এর কথা। তাদের ভাষায়, দিবস দিয়ে কি হবে- যদি পেটে ভাত না থাকে। তবে শ্রমঘন্টার অতিরিক্ত সময় কাজ করানো, ন্যায্য মজুরি না পাওয়ার কষ্ট তাদের কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। কাজ হারানোর ভয়ে পান না প্রতিবাদ করার সাহস।

চট্টগ্রামের দুইটি শ্রম আদালতে নেই পর্যাপ্ত বিচারক। এছাড়া কিছু মামলায় মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে অনীহা, আইনজীবীদের সময়ক্ষেপণ ইত্যাদি কারণে বাড়ছে মামলার জট। বর্তমানে  শ্রম আদালত-১ ও ২য় শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ২ হাজার ৫৪৭টি। এর মধ্যে অর্ধেক মামলা ঝুলে আছে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে।