ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬

কাউনিয়াতে মারধরে গুরুতর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

Md Elias
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২
  • / ১০৬৭ বার পড়া হয়েছে

কাউনিয়াতে মারধরে গুরুতর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের মারধরে গুরুতর আহত মিঠু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মারধরের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু এলাকাবাসীর বাঁধার কারণে দাফন করতে পারেননি তারা। মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) ভোরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে সোমবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মিঠু মিয়া হারাগাছ পৌর এলাকার দালালহাট মাষ্টারপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

গত রোববার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাই ও ভাবীকে গালাগালি করার একপর্যায়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিঠু মিয়াকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠু একজন মানসিক রোগী। মাঝে মাঝে ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের গালাগাল করতেন। গত রোববার বাড়ির ভেতরে ঢুকে তার ভাই ও ভাবীকে গালাগালি করতে থাকলে বড় ভাই বাবু প্রতিবাদ করেন। এসময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এদিকে, হাতাহাতি দেখে এগিয়ে আসেন বাবুর স্ত্রী ফুল বেগম। এসময় দুজনের হাতাহাতিতে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান ফুল বেগম। পরে খালাতো ভাই দালালহাট গ্রামের বক্কর মিয়ার ছেলে আসাদ ও তুষারকে গিয়ে নালিশ জানান তিনি। এতে আসাদ ও তুষার ক্ষিপ্ত হয়ে মিঠুর বাড়িতে গিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন।

এসময় মিঠু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে হাসপাতাল থেকে দেয়া ছাড়পত্রে উল্লেখ করা হয়।

পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফনের উদ্যোগ নিলে গ্রামবাসী বাধা দেন। তাদের অভিযোগ, মারধরের কারণে মিঠুর মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, মিঠুর মৃত্যুর ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের জন্য পরিবারের লোকজন কোনো সহযোগিতা করেননি।

মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহ হলে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) ভোরে বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলেও জানান ওসি।

[irp]

ট্যাগস :

কাউনিয়াতে মারধরে গুরুতর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

আপডেট সময় : ০২:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২

কাউনিয়াতে মারধরে গুরুতর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের মারধরে গুরুতর আহত মিঠু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মারধরের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু এলাকাবাসীর বাঁধার কারণে দাফন করতে পারেননি তারা। মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) ভোরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে সোমবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মিঠু মিয়া হারাগাছ পৌর এলাকার দালালহাট মাষ্টারপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

গত রোববার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাই ও ভাবীকে গালাগালি করার একপর্যায়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিঠু মিয়াকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠু একজন মানসিক রোগী। মাঝে মাঝে ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের গালাগাল করতেন। গত রোববার বাড়ির ভেতরে ঢুকে তার ভাই ও ভাবীকে গালাগালি করতে থাকলে বড় ভাই বাবু প্রতিবাদ করেন। এসময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এদিকে, হাতাহাতি দেখে এগিয়ে আসেন বাবুর স্ত্রী ফুল বেগম। এসময় দুজনের হাতাহাতিতে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান ফুল বেগম। পরে খালাতো ভাই দালালহাট গ্রামের বক্কর মিয়ার ছেলে আসাদ ও তুষারকে গিয়ে নালিশ জানান তিনি। এতে আসাদ ও তুষার ক্ষিপ্ত হয়ে মিঠুর বাড়িতে গিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন।

এসময় মিঠু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে হাসপাতাল থেকে দেয়া ছাড়পত্রে উল্লেখ করা হয়।

পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফনের উদ্যোগ নিলে গ্রামবাসী বাধা দেন। তাদের অভিযোগ, মারধরের কারণে মিঠুর মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, মিঠুর মৃত্যুর ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের জন্য পরিবারের লোকজন কোনো সহযোগিতা করেননি।

মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহ হলে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) ভোরে বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলেও জানান ওসি।

[irp]